গণমাণুষের নায়ক ছিলেন মওলানা ভাসানী

53
SHARE

ইউসুফ হায়দার 

মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী আমাদের ইতিহাসের এক মহানায়ক ১৯৭৬ সালের ১৭ নভেম্বর ইন্তেকাল করেন তিনিআজ তার ৪০তম মৃত্যুবার্ষিকী। এই মহান নেতার মৃত্যুবার্ষিকীতে আমাদের পক্ষ থেকে জানাই অসীম শ্রদ্ধা।

মওলানা ভাসানী জন্মেছিলেন ১৮৮০ সালের ১২ ডিসেম্বর, সিরাজগঞ্জে।পিতার নাম হাজী শরাফত আলী খান পিতামহের নাম হাজী কেরামত আলী খান শৈশবে পিতামাতাকে হারিয়ে বড় চাচা হাজী ইব্রাহিম আলীর কাছে প্রতিপালিত হন তিনি মাদরাসা শিক্ষার মধ্য দিয়ে শুরু করেন শিক্ষাজীবন মওলানা ভাসানী শুরু থেকেই শোষণজুলুমঅত্যাচারনির্যাতনবিরোধী জনমানুষের নেতা

তিনি বিশ্বাস করতেন, অবহেলিত মানুষকে রক্ষা মানবতার সেবা করার নামই রাজনীতি মাওলানা মোহাম্মদ আলী মাওলানা শওকত আলীর খেলাফত আন্দোলনের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়েই মওলানা ভাসানী রাজনীতিতে আসেন আসামেবাঙ্গাল খেদাওঅভিযানের বিরুদ্ধে তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তোলেন এবং ভাষাণচর নামক স্থানে এক ঐতিহাসিক প্রতিবাদ সম্মেলন আহ্বান করেন সেখানেই তাকে ভাসানী উপাধি প্রদান করা হয়

১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর তিনি পূর্ব পাকিস্তানের টাঙ্গাইল জেলার সন্তোষে বসবাস শুরু করেন ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন পাকিস্তানের রাজনীতিতে মওলানা ভাসানীই প্রথম বিরোধী দল আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠন করেন ভাসানী নিজে ওই কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন, সাধারণ সম্পাদক হন শামসুল হক সহসভাপতি মনোনীত হন আতাউর রহমান খান আব্দুস সালাম খান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান খন্দকার মোশতাক আহমেদ হন যুগ্ম সম্পাদক ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের সময় সর্বদলীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক মনোনীত হন তিনি

তিনি ১৯৫৭ সালে কাগমারীতে এক ঐতিহাসিক সম্মেলন আহ্বান করেন মজলুম জননেতা সেই সম্মেলনে পশ্চিম পাকিস্তানিদেরআসসালামু আলাইকুমদিয়ে বলেন, তোমরা ভালো থাকো, আমাদেরও নিজেদের মতো করে ভালো থাকতে দাও এর মাত্র চার মাস পরে নিজ প্রতিষ্ঠিত দল ত্যাগ করে তিনি গঠন করেন ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টিন্যাপ

১৯৬৯ সালে আগরতলা মামলায় শেখ মুজিবুর রহমানকে ফাঁসি দেয়ার ষড়যন্ত্র যখন পাকাপোক্ত, তখন মোনাজাতের নামে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করেন মওলানা ভাসানী লক্ষ লক্ষ ছাত্রজনতা যুক্ত হলেন তার মোনাজাতে আওয়াজ উঠলো– ‘জেলের তালা ভাঙব, শেখ মুজিবকে আনব’ মওলানা ভাসানী ১৯৭০ সালের জাতীয় নির্বাচন বর্জন করে স্বায়ত্ত শাসনের দাবিতে সমগ্র বাঙালি জাতিকে শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সুযোগ করে দেন

১৯৭৬ সালের ১৬ মে মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে রাজশাহী থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ পর্যন্ত এক ঐতিহাসিক মিছিল অনুষ্ঠিত হয় দেশবাসী এই মিছিলকে ফারাক্কা লংমার্চ হিসেবে আখ্যায়িত করে ফারাক্কার পানি একতরফাভাবে প্রত্যাহারের ফলে বাংলাদেশের উত্তর জনপদ মরুভূমিতে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয় এমন অবস্থায় মওলানা ভাসানী ভারতের একতরফা পানি প্রত্যাহারের প্রতিবাদে এক ঐতিহাসিক লংমার্চ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিলেন

তখন তিনি অসুস্থ ছিলেন, তার মধ্যেও লংমার্চের মতো শ্রমসাধ্য কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়ন করে ভারতের নেতাদের অন্তর কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন। আর এর মধ্যে দিয়েই আমাদের জাতীয় জীবনে নতুন করে জাতীয় ঐক্যের বুনিয়াদ সৃষ্টি হয়েছিল।এর পর থেকেই বিশ্বের দেশে দেশে বাংলাদেশের পানির ন্যায়সঙ্গত দাবির প্রতি সমর্থন বাড়তে থাকে এমন অবস্থায় মজলুম জননেতা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং ১৯৭৬ সালের ১৭ নভেম্বর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন

মওলালানা ভাসানীর বর্ণাঢ্য জীবনের সব ঘটনা কখনোই লিখে শেষ করা যাবে না। তারপরও উপরে কয়েকটি ঘটনা মোটাদাগে উল্লেখ করে আজকের মৃত্যুবার্ষিকীতে এই মহান নেতাকে স্মরণ করছি।


রিলেভেন্ট এই বিষয়গুলোর উপর ভিডিও দেখতে চাইলে সাবস্ক্রাইব করে রাখুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটি – ঠিকানা – YouTube.com/Bangladeshism

আপনার মন্তব্য