ভাগ্যবিড়ম্বিত মানবতার পাশে ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট

20
SHARE

ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুয়ার্তেকে নিয়ে অনেক বিতর্ক ইতোমধ্যে তৈরি হয়েছে। তিনি তার দেশে মাদক ব্যবসায়ী এবং এর সাথে সংশ্লিষ্টদের বিনা বিচারে গুলি করে মারার হুকুম দিয়ে তার বাস্তবায়নও করছেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তার নানা বিতর্কিত ভূমিকার কথা শোনা যায়, এর মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে গালি দিয়ে পরে দুঃখ প্রকাশ করার ঘটনাও আছে।

নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের মাঝেই তিনি এক সাহসী ঘোষণা দিয়ে শরণার্থীদেরকে তার দেশে আশ্রয় দেওয়ার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। আর যখন অর্থনৈতিক প্রযুক্তিগতভাবে বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত রাষ্ট্রগুলো শরণার্থীদের জন্য নিজেদের দরজা বন্ধ করে দিচ্ছে, তখন ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুয়ার্তে বললেন, ‘তাদের (শরণার্থী) সবাইকে আমাদের কাছে পাঠিয়ে দিন। আমরা তাদের গ্রহণ করবো। তারাও মানুষ।

কাতারভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল আলজাজিরা১০১ ইস্টঅনুষ্ঠানে দুয়ার্তে এসব কথা বলেন

আজকে যখন সিরিয়া, লিবিয়া, ইরাক থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষ উদ্ভাস্তু হচ্ছে পশ্চিমাদের নির্বিচারে হামলার কারণে, অথচ তারাই বলছে এই উদ্ভাস্তু তথা শরণার্থীদের দায় ভার তারা নেবে না। তারা শুধু তথাকথিত গণতন্ত্র রপ্তানির নামে দেশগুলো দখল করে সম্পদ লুট করতেই ব্যস্ত। সেই সময় ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট যাকে পশ্চিমারা ঠিক সভ্য বলে মনে করে না, সেই তিনিই কিনা বলতে পারলেন শরণার্থীরাও মানুষ। আর তথাকথিত সভ্যরা তখনও লুটপাটেই ব্যস্ত।

ওই সাক্ষাৎকারে দুয়ার্তে আরও জানান, ১০ কোটি মানুষের দেশ ফিলিপাইনে দারিদ্র ছড়িয়ে থাকলেও তার দেশ শরণার্থীদের গ্রহণে প্রস্তুত। কেননা, তারাও মানুষ। তারা (শরণার্থী) সবসময়ই আমাদের এখানে আসতে পারেন। কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যাওয়ার আগে পর্যন্ত আমরা তাদের স্বাগত জানাবো।

সত্যিই আজকের মিয়ানমারে নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের ক্ষেত্রে যদি আমরাও এমনভাবে বলতে পারতাম, তাহলে হয়তো কয়েক লক্ষ মানুষ বেঁচে যেত। কিংবা পশ্চিমারা যদি এগিয়ে আসত সিরিয়া কিংবা লিবিয়ার মতো দেশগুলোর শরণার্থীদের পাশে দাঁড়াতে পারত, তাহলেই হয়তো বলা যেত যে তারাও সভ্য।

রিলেভেন্ট এই বিষয়গুলোর উপর ভিডিও দেখতে চাইলে সাবস্ক্রাইব করে রাখুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটি – ঠিকানা – YouTube.com/Bangladeshism

আপনার মন্তব্য