সুচির রক্তাক্ত হাতে শান্তির পতাকা মানায় না

88
SHARE

সোহেল হাবিব 

মিয়ানমারের নেত্রী আং সা সুচির নোবেল শান্তি পুরস্কার ফিরিয়ে নেয়ার জন্য অনলাইনে এক আবেদনে স্বাক্ষর করেছেন হাজার হাজার মানুষ

আমরাও তার সাথে একাত্বতা জানাই। কেননা, সুচির দল বিশেষ করে সুচি নিজে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকার পরও মিয়ানমারের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে ব্যাপক মানবাধিকার লংঘনের ঘটনার ব্যাপারে তিনি কোন অবস্থান নিতে ব্যর্থ হয়েছেন।

সেকারণেই বলছি, আর যাইহোক নোবেল শান্তি পুরস্কার তার হাতে মানায় না। তাই নোবেল শান্তি পুরস্কার ফিরিয়ে নেয়ার আহবান জানানো হয়েছে এক অনলাইন আবেদনে। চেঞ্জ ডট অর্গে এই আবেদনে ইতোমধ্যে সই করেছেন লক্ষাধিক মানুষ।

আবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক শান্তি এবং ভ্রাতৃত্ববোধ রক্ষায় যারা কাজ করেন, তাদেরকেই নোবেল শান্তি পুরস্কারের মতো সর্বোচ্চ পুরস্কার দেয়া হয়। সুচির মতো যারা এই পুরস্কার পান, তারা শেষ দিন পর্যন্ত এই মূল্যবোধ রক্ষা করবেন, এটাই আশা করা হয়। যখন একজন নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী শান্তি রক্ষায় ব্যর্থ হন, তখন শান্তির স্বার্থেই নোবেল শান্তি পুরস্কার কমিটির উচিত এই পুরস্কার হয় জব্দ করা নয়তো ফিরিয়ে নেয়া।

গত বেশ কয়েক দিন ধরেই আরাকানে নিরীহ এবং নিরস্ত্র রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় বাহিনী। ঘর-বাড়ি পুড়িয়ে দিচ্ছে, মা-বোনদের ধর্ষণ করছে। রাষ্ট্রীয় বাহিনীর সাথে নির্যাতনকারী হিসেবে যুক্ত রয়েছে অহিংসা পরম ধর্মে বিশ্বাসী দাবিদার এক শ্রেণির বৌদ্ধ রাখাইন।

অবাক করার বিষয় হলো একটি নিরস্ত্র জনগোষ্ঠির বিরুদ্ধে তারা হেলিকপ্টার থেকেও নির্বিচারে গুলি চালাচ্ছে। আর মিয়ানমারের ক্ষমতায় এখন সুচির দল, যার চাবি-কাঠি রয়েছে সুচির নিজের হাতে। সেখানে রাষ্ট্রীয় বাহিনী ৬৯ জন রোহিঙ্গাকে হত্যার কথা স্বীকার করার পরও আং সা সুচি নিশ্চুপ। এর অর্থ হতে পারে এই যে, যা কিছু হচ্ছে তা সুচির নির্দেশেই হচ্ছে। অথবা, যা কিছু হচ্ছে তাতে সুচির সমর্থন আছে।

সে কারণেই শান্তির জন্য নোবেল বিজয়ী সুচির হাতে ক্ষমতা থাকার পরও রোহিঙ্গাদের ওপর চলছে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস। যার ইচ্ছায় কিংবা সমর্থনে একটি জাতিকে ধ্বংস করে দেওয়ার ব্যাপারে রাষ্ট্র এতটা হিংস্র হয়ে উঠতে পারে, তার হাতে আর যাইহোক নোবেল শান্তি পুরস্কার তথা শান্তির পতাকা শোভা পায় না। বরং নোবেল পুরস্কারের চরম অবমাননাই হচ্ছে এর মাধ্যমে। তাই নোবেল কমিটির উচিত, আং সা সুচির পুরস্কার কেড়ে নিয়ে তার বিবেকবোধকে জাগ্রত করতে সহায়তা করা।

রিলেভেন্ট এই বিষয়গুলোর উপর ভিডিও দেখতে চাইলে সাবস্ক্রাইব করে রাখুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটি – ঠিকানা – YouTube.com/Bangladeshism

আপনার মন্তব্য