ভূতের অত্যাচারে বাড়িছাড়া গোটা পরিবার!

63
SHARE

আশরাফুল আলম 

কলকাতায় এক পরিবারের ওপর ভূতের অত্যাচার চলছে। তাতে অতিষ্ঠ হয়ে বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছে পরিবারটি। টানা কয়েক দিন একই ঘটনা ঘটার পর কাহিনী ছড়াতে দেরি হয়নি। ফলে ওই বাড়ির সামনে  জড়ো হতে থাকেন দূরদুরান্ত থেকে আগত মানুষ। পরে কলকাতা এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মানুষের ভিড় সরাতে পারলেও ভৌতিক ঘটনার কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেনি

ভূত বলে আসলে কিছু আছে বলে বিশ্বাস করে না বিজ্ঞান। তারপরেও ‍ভূতের ভয় আর কাহিনী পিছু ছাড়ছে না আমাদের। যার ফলে ভূত নিয়ে কত কিছুই না আছে আমাদের চারপাশে। আছে ভূতের গলি, ভূতের গল্প নিয়ে রেডিওতে অনুষ্ঠানও হচ্ছে আজকাল। আর ভৌতিক গল্প-উপন্যাস ছাড়া কোনো ভাষার সাহিত্যও যেন পূর্ণতা পায় না।

ঢাকার মিরপুরে একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মেয়েদের হোস্টেলের কথা জানি। যেখানে বছর দুই আগে, ভূতের খুব উৎপাতের কথা জানা গিয়েছিল।  ভূতের ভয়ে সেখানকার মেয়েদের রাতের ঘুম হারাম হয়েগিয়েছিল। পরে হুজুর ডেকে এনে মিলাদ পড়ানো হয়েছে, আরও যেন কী কী করা হয়েছিল। তাপর থেকে শান্ত আছে হোস্টেলের পরিবেশ।

হোস্টেলটির পাশেই একটি মুদি দোকান আছে। সে দোকানদারের কাছে জানতে চেয়েছিলাম, হোস্টেলের ভূতের উৎপাত সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন কিনা? উত্তরে তিনি বললেন, কয়েক বছর আগেও এ হোস্টেল ভবনটি আবাসিক ছিল। সেখানে ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে বেশ কয়েকটি পরিবার বসবাস করত। কিন্তু কী কারণে যেন এক তরুণী আত্মহত্যা করেছিল ওই ভবনের কোনো একটি ফ্ল্যাটে। তারপর থেকে সেখানে কোনো ফ্যামিলি আর ভাড়া নিয়ে বেশি দিন থাকত না। এক পর্যায়ে অধিকাংশ ফ্ল্যাটই খালি পড়ে থাকত। অবশেষে মালিক ভবনটিকে ওই বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাছে হোস্টেলের জন্য লিজ দিয়ে দিয়েছে।

এমন ঘটনা আমাদের সাহিত্যের গল্প-উপনাস্যে যেমন প্রচুর আছে, তেমনি অনেক নাটক সিনেমাও আছে। আর গ্রামে-গঞ্জে দাদি-নানিদের কাছে শোনা গল্পের অধিকাংশই তো এই ভূতের নানা কাণ্ড কারখানা নিয়ে।তাই বলে বাস্তবেও এমন ভয়ঙ্কর ঘটনা!

খবরে বলা হয়েছে ১৩ নভেম্বর বাড়িতে রাতের খাবার খেতে বসেছিল পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার এয়ারপোর্ট থানা এলাকার বাসিন্দা মনতোষ মজুমদারদের গোটা পরিবার। এমন সময় তিনতলা থেকে বিকট শব্দ। প্রথমে ভাবা হয়েছিল, ঘরে চোর ঢুকেছে বুঝি। কিন্তু না! দ্রুত সেখানে গেলেও কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। শুধু ঘরের আসবাব ওলটপালটআর অচেনা একটা গন্ধের সঙ্গে মনে হলো একটা ছায়ামূর্তি যেন অন্ধকারে মিশে গেল।

এর পর থেকে টানা কয়েক দিন একই ঘটনা ঘটছে। রাতে তো বটেই, দিনেও ঘটছে এমন ভৌতিক ঘটনা। ঘটনা শুধু মজুমদারের পরিবাররা দেখছেন, তেমনটি নয়। প্রতিবেশীরাও দেখতে পাচ্ছেন নানা ভৌতিক ঘটনা দরজায় লাগানো তালা হঠাৎ খুলে যাচ্ছে বিকট শব্দে, হঠাৎ ছিটকে পড়ছে টেলিভিশন। ভেঙে পড়ছে জানালার কাচ এবং দেয়ালে টানানো ছবি পড়ে যাচ্ছে মাটিতে। দিনের বেলা পুড়ে যাচ্ছে জামাকাপড়। কিন্তু কোথাও কেউ নেই। শুধু চোখের পলক ফিরলেই একটা ছায়ামূর্তি ঘরের এপাশ থেকে ওপাশে ছুটে যাচ্ছে। আর সন্ধ্যা নামলে ওই বাড়ির সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ছে আতঙ্ক।

মনতোষ মজুমদারের ছেলে মানু মজুমদার জানিয়েছেন, অন্য এলাকার মানুষ এসেও ওই ছায়ামূর্তিকে দেখতে পাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে তাঁদের পরিবার অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন।  খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে গিয়েও ব্যর্থ হয়ে ফিরে এসেছে। স্থানীয় এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেছেন, ‘ভূত ধরার মতো প্রযুক্তি আমাদের কাছে নেই। তবে এই ভৌতিক ঘটনায় মানুষজনের ভিড়ে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হলে ব্যবস্থা নেব।

রিলেভেন্ট এই বিষয়গুলোর উপর ভিডিও দেখতে চাইলে সাবস্ক্রাইব করে রাখুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটি – ঠিকানা – YouTube.com/Bangladeshism

আপনার মন্তব্য