শেষ হচ্ছে না বিশ্বব্যাংকের অভিযোগ

21
SHARE

কয়েকদিন আগে এক খবরে বলা হয়েছিল, বিশ্বব্যাংকের অতিরিক্ত খবরদারীর জন্য জলবায়ুর পরিবর্তন জনিত ঝুঁকি ফান্ডের টাকা খরচ করতে পারেনি বাংলাদেশ। ফলে সেসব টাকা আবার ফিরে গিয়েছিল দাতা দেশ যুক্তরাজ্যের কাছে।এখন আবার শোনা যাচ্ছে একটি প্রকল্পের কেনাকাটায় অনিয়মের অভিযোগ করেছে বিশ্বব্যাংক। এ জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা ফেরত চাওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, সময় মতো এ অর্থ ফেরত না দিলে পরবর্তী সময়ে এলজিএসপি-৩ প্রকল্পে অর্থায়ন আলোচনায় অনিশ্চয়তার কথাও বলেছে সংস্থাটি।

সেই সঙ্গে সেকেন্ড লোকাল গভার্নেন্স সাপোর্ট প্রজেক্ট (এলজিএসপি-২) শীর্ষক প্রকল্পটিতে দুটি বিষয়ে পর্যালোচনা তুলে ধরা হয়েছে। গত ২৭ অক্টোবর এ সংক্রান্ত একটি চিঠি অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে (ইআরডি) পাঠিয়েছে বিশ্বব্যাংক। এর আগে আরও ১০টি প্রকল্পের কেনাকাটায় কিছু কিছু অংশে অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ ফেরত চাওয়া হয়েছিল।

তারও আগে পদ্মাসেতুতে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন নিয়ে যে লঙ্কাকাণ্ড হয়েছিল সারা বিশ্বই তা জানে। শেষ পর্যন্ত নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন করতে হচ্ছে পদ্মাসেতু প্রকল্প।

সম্প্রতি বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশ সফর করে গেছেন। আমরা আশা করেছিলাম, এর মাধ্যমে হয়তো অবস্থার কিছুটা হলেও উন্নতি হবে। হয়তো সেটা হয়েছেও। কিন্তু তারপরও একটা সমস্যা কোথাও যেন লুকিয়ে আছে।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, বিশ্বব্যাংকের সাথে আমাদের সমস্যাটা আসলে কোথায়? তারা যেসব দুর্নীতির অভিযোগ করে সেটাই সত্য নাকি সমস্যা আছে অন্য কোথাও?

দুর্নীতির অভিযোগ কতটা সত্য সেটি রাষ্ট্রকে দায়িত্ব নিয়ে খুঁজে দেখা দরকার। কেউ দায়ী হলে, তাকে উপযুক্ত শাস্তি দিয়ে অন্যদের সামনে নজির সৃষ্টি করা অতি জরুরি হয়ে পড়েছে। কেননা, এটি আমাদের মান-সম্মানের বিষয়। প্রতিনিয়ত এ ধরনের অপবাদ বয়ে বেড়ানোর কোনো মানে হয় না।

আর সমস্যাটি যদি বিশ্বব্যাংকের মোড়লীপনার কারণেই সৃষ্টি হয়ে থাকে, তাহলে সে ব্যাপারেও আমাদের সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার। সামনে আমরা বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে অন্য কোনো প্রকল্পে কাজ করব কিনা?

কিংবা বিশ্বব্যাংকের সাথে কাজ করলেও তার ধরন কী হবে সেটা নতুন করে ঠিক করে নেওয়ার উপায় বের করতে হবে।

রিলেভেন্ট এই বিষয়গুলোর উপর ভিডিও দেখতে চাইলে সাবস্ক্রাইব করে রাখুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটি – ঠিকানা – YouTube.com/Bangladeshism

আপনার মন্তব্য