গুগল-ইয়াহু’র ত্রুটি ধরে বাংলাদেশি দুই তরুণের চমক

35
SHARE

গুগল এবং ইয়াহুর মতো বিশাল সার্চ ইঞ্জিনের ত্রুটি ধরা চাট্টিখানি কথা না। কেননা বিশ্বসেরা আইটি এক্সপার্টরাই এসব সাইট তৈরি করেছেন এবং সাইটগুলোর রক্ষণাবেক্ষন করছেন। সেখানে যেকোনো ত্রুটি দ্রুত ধরে তা সংশোধন করার জন্য নিজেদের রয়েছে সার্বক্ষণিক নজরদারীও। এত কিছু পরও গুগল এবং ইয়াহুর সার্চ ইঞ্জিনের ত্রুটি ধরে চমকে দিয়েছে মাত্র ১৬ এবং ১৮ বছর বয়সের বাংলাদেশি দুই তরুণ!

Latest Video Release

বাংলাদেশের টাইগারদের উৎসর্গ করে বাংলাদেশীজম প্রজেক্ট তৈরী করেছে একটি বিশেষ ভিডিও। নীচে ভিডিওটি দিয়ে দিলাম। দেখে ফেলুন।

আসলে ইচ্ছে এবং সাধনা থাকলে সবই সম্ভব। বিশ্বের সেরা ইন্টারনেট সার্চ ইঞ্জিন গুগল-ইয়াহুতে বাগ বা ত্রুটি ধরে দিয়ে সেটাই করে দেখিয়েছে বাংলাদেশের দুই তরুণ। আর তার বিনিময় হিসেবে পেয়েছে বিশেষ অর্থ-পুরস্কার ও স্বীকৃতি। তার চেয়েও বড় কথা হলো, এর আগে এত অল্প বয়সে পৃথিবীর কোনো দেশের মানুষ ইয়াহু-গুগলে ত্রুটি ধরতে পারেনি।

কৃতী এই দুই তরুণকে নিয়ে প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়েছে, মৃত্যুঞ্জয় বিশ্বাস, নবাব হাবিবুল্লাহ মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির ছাত্র। অন্যজন জোবায়ের আল নাজি, যিনি সদ্য এইচএসসির চৌকাঠ পেরিয়েছেন। এই দুই কিশোর মূলত ‘বাগ বাউন্টি’ বা এথিকাল হ্যাকিং বা বাগ হান্টিংয়ের মাধ্যমে গুগল ও ইয়াহুতে ত্রুটি ধরে জিতে নিয়েছেন অর্থ-পুরস্কার।

মৃত্যুঞ্জয় ইয়াহুতে খুঁজে পান একটি মারাত্মক বাগ বা ত্রুটি, যা তিনি ইয়াহু কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন এবং ইয়াহু সেটি সমাধান করার পর মৃত্যুঞ্জয়কে প্রদান করে ১০০০০ ডলার, যা প্রায় ৮ লক্ষ টাকা। এ পর্যন্ত এত কম বয়সে ইয়াহু থেকে এত টাকা পুরস্কার বিশ্বের কেউ অর্জন করেনি।

অন্যদিকে জোবায়ের আল নাজি ত্রুটি ধরেছেন বর্তমান বিশ্বের প্রধান সার্চ ইঞ্জিন গুগলের। তিনি গুগলে টানা তিনটি বাগ বা ত্রুটি চিহ্নিত করার পর তা গুগল কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। তার তৃতীয় বাগটি ছিল মারাত্মক ক্ষতিকর। ফলে গুগল সেই বাগ সমাধান করার পর জোবায়েরকে প্রদান করে ১৩৩৭ ডলার বা ১ লক্ষ টাকা পুরস্কার। ১৮ বছর বয়সে জোবায়ের এই ত্রুটি ধরেন। এত অল্প বয়সে গুগলের মতো সার্চ ইঞ্জিনে তিনটি ত্রুটি ধরার নজির আর নেই!

ডিজিটাল দুনিয়ায় বাংলাদেশের অগ্রগতি এবং দৃঢ় অবস্থানের প্রমাণ এই দুই তরুণ। যদিও অনেক আগে থেকেই এদেশের তরুণরা আইটি সেক্টরে তাদের সফলতার প্রমাণ দিয়েছেন। এখন বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আইটি প্রতিষ্ঠানে অনেক বাংলাদেশি তরুণ সাফল্যের সাথে কাজও করছেন। তারপরও জোবায়ের এবং মৃত্যুঞ্জয়ের অর্জন সত্যি অসাধারণ।

 

আপনার মন্তব্য