সুমতি ফিরে আসুক সকল জঙ্গির

23
SHARE

সোহেল হাবিব

বিশ্বজুড়েই যখন জঙ্গি-সন্ত্রাস আতঙ্ক তখন আমাদের বাংলাদেশ তার বাইরে থাকার কথা না, সেটা ছিলও না। তাই বলে পাকিস্তান, তুরস্ক, ফ্রান্সে যে ধরনের ভয়াবহ জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটে তা আমাদের দেশেও হবে এটা কারো কল্পনাতেও ছিল না।

কিন্তু গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলার পর আমাদের সে বিশ্বাস ভেঙ্গে গেছে। এর পর শোলাকিয়া, ঢাকার মোহাম্মদপুর, নারায়ণগঞ্জ এবং গাজীপুরের ঘটনা সত্যিই ভাবনায় ফেলে দিয়েছিল আমাদের। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দক্ষতায় জঙ্গি আতঙ্ক ইতোমধ্যে নিঃশেষের পথে।

Latest Video Release

বাংলাদেশের টাইগারদের উৎসর্গ করে বাংলাদেশীজম প্রজেক্ট তৈরী করেছে একটি বিশেষ ভিডিও। নীচে ভিডিওটি দিয়ে দিলাম। দেখে ফেলুন।


অনেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের মুখে বেশ কিছু সংখ্যক জঙ্গি নিহত হয়েছে, গ্রেফতার হয়েছে। ফলে তাদের অস্তিত্ব এখন নেই বললেই চলে। তারপরও যারা আড়ালে-আবডালে লুকিয়ে আছে, তাদের প্রতি আত্মসমর্পণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

আর সেই সুযোগ নিয়েই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের উপস্থিতিতে রংপুর শহরে আত্মসমর্পণ করেছে একটি ‘জঙ্গি’ দলের তিন সদস্য। ২৩ নভেম্বর বুধবার সকালে ওই তিনজন আত্মসমর্পণ করে। আত্মকর্মসংস্থানের জন্য তাদের প্রত্যেককে পাঁচ লাখ টাকা করে দেওয়া হয়েছে।

এটি একটি অত্যন্ত ভালো খবর। যারা আত্মসমর্পণ করেছে তাদের জন্য যেমন ভালো খবর, তেমনি রাষ্ট্রের জন্যও ভালো খবর। রাষ্ট্র এদের দ্বারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত হওয়া থেকে যেমন নিরাপদ হলো, তেমনি আত্মসমর্পণকৃতরা পালিয়ে বাঁচা থেকে বেরিয়ে আসতে পারল মুক্ত আলোতে। পারিবারিক জীবনে সুন্দর পরিবেশে কিছু একটা করে খাওয়ার জন্য পুঁজিও পেল, এতে তাদের ভবিষ্যৎও নিরাপদ হলো।

খবরে বলা হয়েছে, রংপুরে আত্মসমর্পণকারী তিনজন হলো হাফেজ মো. মাসুদ রানা ওরফে হাফেজ মাসুদ (১৮), হাফিজুর রহমান (১৫) ও মো. আক্তারুজ্জামান ওরফে আক্তারুল (১৮)।

ওই তিনজনের মধ্যে হাফেজ মাসুদ দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার লোহারবান গ্রামের মনদেল হোসেনের ছেলে। হাফিজুর রহমান একই উপজেলার বিন্নাগাড়ি গ্রামের জিল্লুর রহমানের ছেলে। আর আক্তারুল ঘোড়াঘাটের জয়রামপুর গ্রামের  সারোয়ার হোসেনের ছেলে।

জঙ্গিপন্থা থেকে ফিরে আসা মাসুদ, হাফিজুর এবং আক্তারকে আমাদের পক্ষ থেকে স্বাগত জানাই। আরও প্রত্যাশা করি, এই তিনজনকে দেখে সুমতি ফিরে আসবে অন্যদেরও। যারা এখনও বিভিন্নভাবে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাত থেকে প্রাণে বাঁচার জন্য।

আপনার মন্তব্য