জাল সনদে শিক্ষক হয়ে শিক্ষার্থীদের কী শিখাচ্ছেন তাঁরা

32
SHARE

ইশতিয়াক আহমেদ

খবর বেরিয়েছে- কম্পিউটার, লাইব্রেরিয়ান এবং বিএড এই তিন বিষয়ে শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ জাল করে নিয়োগ পেয়ে চাকরি করছেন ৫৫৬ জন শিক্ষক। ওই জাল সনদে এমপিওভুক্তও হয়েছেন তারা।

অবাক করার মতো ঘটনা হলো, মাত্র দেড় বছরের নিয়োগকৃতদের নিরীক্ষা করতে গিয়ে এই বিপুল সংখ্যক শিক্ষকের জাল সনদ ধরতে পেড়েছে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ)। তাও আবার পুরো বাংলাদেশের হিসাব নয় এটা, চার বিভাগের হিসাব এটা।

শিক্ষাকে বলা হয় জাতির মেরুদণ্ড। আর এই মেরুদণ্ড গড়ার কারিগর হলেন শিক্ষকরা। আর সেই শিক্ষকরাই যদি হন জাল সনদের, তাহলে তারা কী শিখাবেন শিক্ষার্থীদের?

শিক্ষকের সম্মান সবার উপরে। এ ব্যাপারে ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক হযরত মোহাম্মদ (সা.) এর নির্দেশও রয়েছে। দিল্লির সম্রাট আলমগীর তো তাঁর পুত্র শিক্ষকের পা মর্দন করে ধুয়ে না দেওয়ায় রুষ্ট হয়েছিলেন।

আমরাও ছোট বেলায় মা-বাবার কাছে এটাই শুনেছি যে, শিক্ষকদের সদা সম্মান করতে হবে। কেননা, তারাই শিশু-কিশোরদের কষ্ট করে লেখা-পড়া করিয়ে প্রকৃত মানুষে রূপ দেন।

কিন্তু আজকে যারা জাল সনদ দিয়ে শিক্ষক হয়েছেন বা হচ্ছেন তাদের বেলায়ও কি সে সম্মান প্রযোজ্য হবে? নাকি তারা সেটার প্রাপ্য?

নিরীক্ষাকারী প্রতিষ্ঠান ডিআইএ জানিয়েছে- ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও খুলনা এই চার বিভাগের তালিকায় শিক্ষক নিবন্ধনে ভুয়া ধরা পড়েছে ৩৬৭ জন, কম্পিউটারে ১৪৭ এবং বিএড ধারী ৪২ জন। বাকি বিভাগগুলো তালিকার কাজ চলছে। একই সঙ্গে অন্যান্য বিষয়ে যারা জাল সনদে চাকরি করছেন তাদের তালিকাও প্রস্তুত হচ্ছে।

তার মানে হলো, পুরো রিপোর্ট এখনো আসেনি, তাতেই এ অবস্থা। সবগুলো বিভাগ এবং সাবজেক্টের শিক্ষকদের নিয়োগ নিরীক্ষা সম্পন্ন হলে জাল সনদদারীদের সংখ্যা কত হবে, সেটা হয়তো সময়ই বলে দেবে।

যারা জাল সনদে চাকরি নিয়েছেন, শিক্ষক হয়েছেন, তাদের প্রতি আমাদের প্রশ্ন, শ্রেণিকক্ষে গিয়ে শিশু-কিশোর শিক্ষার্থীদের সামনে দাঁড়াতে আপনাদের লজ্জা লাগে না? আপনাদের কাছে কি একবারও মনে হয় না যে, এটা চূড়ান্ত রকমের অপরাধ করছেন আপনারা?

শুধুমাত্র কটা টাকা উপার্জনের জন্য আপনারা অযোগ্য হয়েও শিক্ষকতার মতো মহান পেশাকে কলঙ্কিত করতে চলে এসেছেন। ফলে একদিকে বঞ্চিত করছেন যোগ্যদের, অন্যদিকে সঠিক শিক্ষা পাওয়া থেকে ঠকাচ্ছেন শিক্ষার্থীদের। ফলে দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মেরুদণ্ডটাও তো দুর্বল হয়েই গড়ে উঠছে আপনাদের হাতে, তাই না?

সত্যিই আপনাদের লজ্জা হওয়া উচিৎ। নিজেদের আর ছোট করবেন না। অন্তরে যদি সামান্য দেশপ্রেমও থাকে তাহলে শনাক্ত হওয়ার আগেই অব্যাহতি নিন শিক্ষকের পদ থেকে।

Latest Video Release

বাংলাদেশের টাইগারদের উৎসর্গ করে বাংলাদেশীজম প্রজেক্ট তৈরী করেছে একটি বিশেষ ভিডিও। নীচে ভিডিওটি দিয়ে দিলাম। দেখে ফেলুন।

আপনার মন্তব্য