বিপন্ন রোহিঙ্গাদের নিয়েও ব্যবসা করতে পারে মানুষ?

32
SHARE

গত ৯ অক্টোবর মিয়ানমারের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ১টি ব্যাটলিয়ান সদর ও ৪টি সীমান্ত চৌকিসহ ৫ পয়েন্টে একযোগে সন্ত্রাসী হামলা হয়েছিল। এর জন্য ঠিক কে বা কারা দায়ী সেটা প্রমাণিত না হলেও মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা এবং বৌদ্ধ রাখাইনরা এর জন্য দায়ী করে রোহিঙ্গা মুসলিমদের।

তারপর থেকেই শুরু হয়ে যায় সেখানে অবস্থানরত রোহিঙ্গা মুসলিম নারী-পুরুষ ও শিশুদের উপর হামলা, ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং নির্বিচারে গুম-খুন।

তাই কোনো রকমে বেঁচে যাওয়া রোহিঙ্গারা যে যেদিকে পারছে ছুটে পালাচ্ছে। বেশিরভাগই আসছে বাংলাদেশের দিকে। তবে কিছু সংখ্যক বিভিন্ন জঙ্গলে লুকিয়ে আছে, আরও কিছু রোহিঙ্গা নৌকায় করে ভেসে বেড়াচ্ছে বঙ্গোপসাগরে। অনেকে এরই মধ্যে না খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছে। তারপরও যারা পারছে, সীমান্ত বাধা টপকে চলে আসছে বাংলাদেশে।

এমন বিপন্ন মানুষদের জন্য আমাদের সীমান্তবাসীর ভূমিকা হওয়ার কথা ছিল মানবিক। মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য- এমনটাই তো হওয়ার কথা। বিশেষ করে রোহিঙ্গাদের মতো নির্যাতিত নিপীড়িত মানুষদের প্রতি অন্যদের সদয় ও সহানুভূতির দৃষ্টিই তো থাকার কথা।

কিন্তু না তা হচ্ছে না। তাদের নিয়েও ব্যবসা করছে, কিছু অমানুষ। খবর পাওয়া গেছে, টেকনাফ সীমান্তজুড়ে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের কৌশলে বাংলাদেশে ঢুকিয়ে দেওয়ার বিনিময় হিসেবে দালাল চক্র হাতিয়ে নিচ্ছে তাদের স্বর্বস্ব।

কেউ কেউ আবার নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের ওপার থেকে কৌশলে ইয়াবা আনতেও বাধ্য করছেন।

জানা গেছে, টেকনাফের বেশ কয়েকটি এলাকার নৌকার মালিকেরা জেলেদের দিয়ে রাতের আঁধারে রোহিঙ্গাদের এপারে নিয়ে আসছে। এ সময় ঘাট পারাপারের বদলা হিসেবে যে যা পাচ্ছে তাই নিয়ে নিচ্ছে।

নির্যাতিত অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গারা সীমান্তে প্রবেশের বদৌলতে বিভিন্ন স্তরে টাকা-পয়সা, মূল্যবান জিনিসপত্র, গয়নাপাতি দিয়েও রেহাই পাচ্ছেন না। এসব রোহিঙ্গারা ভয়ে কিছুই বলতেও পারছেন না।

আসলে যারা এটা করছেন, তাদেরকে কী বলা যায়, এরা মানুষ নাকি অন্য কিছু?

আমরা মনে করি, যারা মানুষের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে ব্যবসা করে তারা আর যাইহোক, তাদেরকে মানুষ বলা যায় না।
Latest Video Release

বাংলাদেশের টাইগারদের উৎসর্গ করে বাংলাদেশীজম প্রজেক্ট তৈরী করেছে একটি বিশেষ ভিডিও। নীচে ভিডিওটি দিয়ে দিলাম। দেখে ফেলুন।

আপনার মন্তব্য