ইসলামের সৈনিক থেকে ইসলামের অবমাননাকারী – মুফাসসিল ইসলাম ওরফে ‘মুফা পাগলা’


স্যোশাল নেটওয়ার্কের কল্যানে এত বছর অনেক কিছুই দেখা হয়েছে। প্রতিবাদ, প্রতিরোধ, বিতর্ক, অনলাইন যুদ্ধ আরও কত কি! আর অনলাইনে পরিচিত হওয়ার দৌড়ও অনেক দেখা হয়েছে। আজকাল মানুষ ফেসবুক স্টার হবার জন্য কত কিছুই না করে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষন করার জন্য। আর স্যোশাল নেটওয়ার্ক হলো এমন একটা ব্যাপার, যেখানে যত বেশী ভালগার বা অ্যাব-নরমাল হওয়া যায়, তত বেশী ফ্যান – ফলোয়ার পাওয়া যায়। সত্যিকারের ফ্যান নাও হতে পারে। আর অনলাইনে এসব ব্যাপারগুলোকে অনেকেই মজা করার উদ্দেশ্যেই নেয়। সেটা হোক যিনি করছেন অথবা যারা দেখছেন। তবে কিছু কিছু ব্যাপার আমাদের নজরে এসেছে যেগুলো আসলে সবকিছুকেই হার মানায়। অনলাইনে পরিচিতি পাবার উদ্দেশ্যে কিছু মানুষ করতে পারে না এমন কিছু নেই। আর তাঁদের একজন – মুফাসসিল ইসলাম। হ্যাঁ, বছর তিনেক আগে আমরা তাকে নিয়ে একটা ট্রোল করেছিলাম আমাদের ডেইলী শো – The Weird Show তে। মধ্যবয়স্ক এই মানুষটি এখন বাংলাদেশের অনলাইনের সবচেয়ে বড় “খ্যাত” নামেই পরিচত।

তবে, তখনের মুফাসসিল আর এখনের মুফাসসিলের মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাত রয়েছে। ইতিমধ্যে অনলাইনে সবাই তাকে ‘মুফা পাগলা’ বা ‘মুফাসসিল পাগলা’ নামেই চিনে। আর অনলাইনে পরিচিত পাওয়ার জন্য সে করে না এমন কিছু নেই। তার প্রথম দিককার টেকনিক ছিল, অর্থাৎ বছর খানেক আগে তার ফেসবুকে জনপ্রিয়তা পাওয়ার স্ট্রাটেজি ছিল একটু বিখ্যাত মানুষদের খোচানো বা তাঁদের উদ্দেশ্যে গালি দেয়া এবং তাঁদের অকারনে ইসলামের শত্রু বলে, ইসলাম ধর্মকে বিক্রি করে এবং নিজেকে ইসলামের সৈনিক বলে নানা ধরনের উদ্ভট সব কায়দা করে সে নিজেকে সরব রাখার চেষ্টা করত। সেসময় সে ছিল ইসলামের “একনিষ্ঠ” সৈনিক। নিজেকে সে ইসলাম ধর্মের মহা পন্ডিত বলে মনে করত। জামাত-শিবির আর রাজাকারদের পক্ষে কথা বলত সবসময়। পাকিস্তান তার মায়ের পেটের ভাই। বিশেষ করে পাকিস্তানের প্রতি তার দরদ রীতিমত চোখে পড়ার মত। বাংলাদেশী এই মানসিক বিকারগ্রস্ত মানুষটি থাকেন ইংল্যান্ডে এবং সম্ভবত রিফিউজি হিসেবেই আছেন বলে শোনা যায়। যদিও সে বাংলাদেশে এর মধ্যে আসেনি এবং কোন কারনে পালিয়ে বেড়াচ্ছে তবে তার অনলাইন কার্যক্রম কোথাও থেকে নেই। নিজেকে ইসলামের প্রচারক আর ইসলামের সৈনিক বলে বিক্রি করে সে ফেসবুকে বেশ আসর জমিয়েছিল একটা সময়ে আর অনলাইনে নানা দেশীয় সেলিব্রিটি হতে শুরু করে ইউটিউবার কমিউনিটি – সবাইকে সে আঘাত করে কথা বলত একটি এটেনশন পাবার আশায়। এমনকি বাংলাদেশীজম প্রজেক্ট নিয়েও সে ফতোয়া দিয়েছিল যা আমাদের হাসির খোরাক হয়েছিল।

কিন্তু সেই মুফাসসিল ইসলাম এখন আর ইসলামের সৈনিক নন। মাসখানেক আগে তিনি নিজেকে সগর্বে নাস্তিক হিসেবে ঘোষনা দিয়েছেন এবং তিনি এখন পুরোপুরি নাস্তিক। শুধু নাস্তিকই না, এই বিকারগ্রস্ত মানুষটি রীতিমত ইসলামকে অপমান করে কথা বলে। সারাদিন মোবাইল দিয়ে ভিডিও বানিয়ে তার ফেসবুক প্রোফাইলে আপলোড করা তার প্রতিদিনকার কাজ আর এসব ভিডিওতে সে প্রতিনিয়ত ইসলামকে কটাক্ষ করে, ইসলামকে আঘাত করে কথা বলে। শুধু মাত্র ইসলাম ধর্মকে না, ইদানীং সে নাকি হিন্দু, বৌদ্ধ সবাইকে আঘাত করেই কথা বলে। একজন নাস্তিকের নাস্তিক হবার অধিকার আছে কিন্তু কারও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে কথা বলার অধিকার নেই। কিন্তু যাই হোক, ফেসবুকে জনপ্রিয়তা পাবার আশায় যে আস্তিক থেকে নাস্তিক হতে পারে তাকে নিয়ে অনেক কিছুই সম্ভব। এদের কেনা যায় খুব সস্তায়। শোনা যায়, ইংল্যান্ডে রিফিউজি স্ট্যাটাস পাওয়ার জন্যই নাকি তার এই নাস্তিক হওয়া এবং ইসলামকে অবমাননা করে। তবে ইসলামের সৈনিক থেকে ইসলামের সরাসরি অবমাননাকারী – ব্যাপারটা কতটা মানসিক বিকারগ্রস্তততার সামিল তা বলে আর বোঝানো যাবে না। তার ফেসবুক প্রোফাইলে প্রায় দেড় লক্ষ ফলোয়ার আছে যার ৮০% হলো ভুয়া অর্থাৎ ফেইক আইডি ফলোয়ার যেটি করা খুব সহজ। কিছুই ওয়েবসাইটে টাকা দিলেই এরকম ভুয়া ফলোয়ার পাওয়া যায়। এর প্রমান তার প্রোফাইলের নানা পোস্ট দেখলেই বোঝা যায়। তেমন কোন রেস্পন্ড নেই। ইতিমধ্যে তার আবার একটি ফেসবুক পেজও আছে যা কিনা কিছুদিন আগে ভেরিফাইড হয়েছে। অবশ্য সেখানে মানুষ তেমন একটা নেই। তার প্রতিদিনকার একটি কাজ হলো মহানবীকে নিয়ে কটাক্ষ করা। এবং আমরা অবাক হয়েছি তার মহানবীকে নিয়ে কটাক্ষ করা  পোস্টগুলো দেখে।

কিন্তু আমাদের মতে, সে অনেকাংশে সফল। অনলাইনে জনপ্রিয়তা পাবার আশায় সে নিজের ধর্ম ত্যাগ করে একেবারে পুরো নাস্তিক হয়ে সেই ধর্মকে প্রতিদিন অবমাননা করে চলে – এটা বড় কোন মানসিক রোগেরই লক্ষন। অনলাইনে মুফাসসিক পাগলা খ্যাত এই বিকারগ্রস্ত লোকটিকে ইতিমধ্যে বাংলাদেশের অনলাইন কমিউনিটি ইচ্ছামত পচিয়েছে বেশ কয়েকবার নানা ভাবে। সে সবাইকে খোচা মেরে কথা বলে এটেনশন পাবার জন্য আর জবাবগুলো ঠিক সেভাবেই পায়, কিন্তু তার লজ্জা-শরমের কোন বালাই নেই। এধরনের মানুষগুলো আসলে স্যোশাল নেটওয়ার্কের সমাজ, রাষ্ট্র, তরুন সমাজ এবং পরিশেষে অনলাইনের পরিবেশের জন্য হুমকি স্বরুপ। শোনা যায়, সে যখন ইসলামের সৈনিক বলে নিজেকে দাবী করত, তখন তার অনেক উস্কানিমূলক পোস্টে বাংলাদেশে অনেক ধরনের সন্ত্রাসী কাজ হয়েছে। ধর্মীয় উস্কানি দিয়ে তার ফলোয়ারদের দিয়ে নাকি সেসময় সে অনেক অকর্ম ঘটিয়েছে এবং অনলাইনেরে বিভিন্ন ফোরামে এগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছিল সেসময়। তবে “পাগল মানুষ” বলে কেউ পাত্তা দেয়নি। আর এখন সে নাস্তিক বলে নিজেকে দাবী করে ঠিক উল্টোটাই করছে। আর বাংলাদেশের প্রধামনন্ত্রী হতে শুরু করে সরকারের বেশ কয়েকজন সদস্যকে সে অনেক সময় নানা ভাবে অপমান, অবমাননা এবং হুমকি দিয়ে আসছে। ইংল্যান্ডে থাকায় হয়তো খুব একটা বেশী কিছু করা যায়নি।

আমরা অনেকদিন ধরেই চেষ্টা করে আসছিলাম অন্তত তাকে যেন অনলাইন থেকে উচ্ছেদ করা যায় অন্তত ফেসবুকের পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য। কিন্তু ডিরেক্ট কোন চ্যানেলের অভাবে করতে পারছিলাম না। শুধু আমরা না, বাংলাদেশের অনলাইন ইউজারদের বিশাল একটি অংশ তাকে উচ্ছেদের চেষ্টা করেছে অনেকবার। করাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এবার আমরা আবারও চেষ্টা করছি তাকে অনলাইন থেকে উচ্ছেদ করার জন্য আর এবার ডিরেক্ট এপ্রোচে। হয়তো সফল হব। তবে অসফল হলেও ভয়ের কিছু নেই। তাকে মানুষ ইতিমধ্যে এমনিতেই বয়কট করে আসছে।

তবে আমি বাংলাদেশের প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করব, এই মানসিক বিকারগ্রস্ত মানুষটির অনলাইন প্রোফাইল যেন অন্তত বাংলাদেশের জন্য ব্যান করে দেয়া হয়। কারণ এই পাগলের কারনে বড় ধরনের উস্কানিমূলক অপরাধ যেকোন মুহুর্তে হতে পারে।

বহুরুপী এই এটেনশন সিকার হতে সাবধানে থাকুন। জনপ্রিয়তা পাওয়ার জন্য সে যেকোন কিছুই করতে পারে। মানসিক বিকারগ্রস্ত মানুষগুলোর কাছ থেকে নিরাপদে থাকুন। ভাল থাকুন।

আপনার মন্তব্য
Previous রোহিঙ্গাদের প্রতি মিয়ানমারের এতো ঘৃনা কেন ?!?!?!
Next পৃথিবীর অসাধারন সাতটি স্থান যেখানে না গেলেই নয়..!!!