রিকশা চালক আর তাঁর গৃহিনী মায়ের তিন সন্তানই বিসিএস ক্যাডার এবং ডাক্তার
December 5, 2016
Bangladeshism Desk (754 articles)
Share

রিকশা চালক আর তাঁর গৃহিনী মায়ের তিন সন্তানই বিসিএস ক্যাডার এবং ডাক্তার

ডেস্ক : অঢেল অর্থ সম্পদের মালিক হওয়ার পরও অনেক পরিবারের সন্তানরা উচ্চ শিক্ষা নিতে পারে না। আবার অর্থ-বিত্তের জোরে কেউ কেউ উচ্চ শিক্ষার সুযোগ পেলেও অনেকে বিসিএস ক্যাডার বা ডাক্তার হওয়ার মতো সম্মানজনক স্থানে যেতে পারেন না।

অনেক শিক্ষিত পিতা-মাতার পরিবারেও এমনটি দেখা যায় হর-হামেশায়। কিন্তু একজন অশিক্ষিত রিকশা চালক আর তাঁর গৃহিনী মায়ের তিন সন্তানই যদি বিসিএস ক্যাডার এবং ডাক্তার হতে দেখেন তাহলে সেটাকে মিরাকল ছাড়া আর কি ভাবা যায়?

মিরাকল একারণেই যে, শুধু মেধা কিংবা শুধু অর্থ দিয়ে এ যায়গায় পৌঁছানো সম্ভব নয় কারো পক্ষেই। তাই কোনো একটি সন্তানকে এই অবস্থানে পৌঁছাতে পারলেই সে পরিবারের যেন গর্বের শেষ থাকে না। সেখানে একটি দরিদ্র পরিবারের তিন সন্তানই সমাজের অতি উঁচু আসনে প্রতিষ্ঠিত হওয়া তো মিরাকলই, তাই না?

আর সেই মিরাকলই ঘটিয়েছেন, খুলনার এক দরিদ্র রিকশা চালক আব্দুল খালেক শেখ (৮১)। রিকশা চালিয়ে অর্থ উপার্জন করেই তিন ছেলেকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি। দুই ছেলে বিসিএস ক্যাডার, আরেক ছেলে এমবিবিএস ডাক্তার!

বড় ছেলে টুটুল শেখ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতি বিষয়ে পড়াশোনা শেষ করে ৩৪তম বিসিএস দিয়ে গাইবান্ধা জেলায় কিছুদিন আগে চাকরিতে যোগ দিয়েছেন। মেজ ছেলে ইব্রাহিম শেখ খুলনার সরকারি বিএল কলেজ থেকে একই বিষয়ে পড়াশোনা করে ৩৬তম বিসিএস পাস করে ঢাকায় আছেন। আর ছোট ছেলে সোহরাব শেখ খুলনা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস শেষ করে ইন্টার্ন করছেন। গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সার্জারি বিভাগে প্র্যাকটিসও করছেন।

শত কষ্টের মাঝেও সন্তানদের উচ্চ শিক্ষিত করতে পেরে আব্দুল খালেকের মনে বিশ্বাস জন্মেছে যে, মানুষ তাঁর পেশাকে গালি দিতে পারবে না!কারণ নিজে শিক্ষিত হতে না পারলেও ছেলেদের পড়াশোনার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করেননি তিনি। সংসার চালাতে কষ্ট হলেও ছেলেদের শিক্ষিত করতে প্রাণপণ চেষ্টা করেছেন।

নিজের একার চেষ্টায় যে সফলতা আসেনি সেটাও বুঝতে পারেন তিনি, তাই বলেছেন- ‘তবে আমার একার চেষ্টা নয় ছেলেদের প্রবল আগ্রহ আর মেধার কারণে তারা শিক্ষিত হতে পেরেছে। আমার একার আয়ে অনেক সময় পারতাম না। তাই ওরা প্রাইভেট পড়িয়ে নিজেদের পড়ার খরচ যুগিয়েছে। সন্তানদের পড়াশোনায় স্ত্রী আমাকে সহযোগিতা করেছে।’

সত্যিই খুলনার আব্দুল খালেক সন্তানদের শিক্ষিত করে প্রতিষ্ঠিত করায় এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন। তাঁর এ অর্জন উৎসাহী করবে, সাহসী করবে অন্যদেরও।

আপনার মন্তব্য