গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী
December 5, 2016
Bangladeshism Desk (767 articles)
Share

গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী

ডেস্ক : বাঙালি জাতির পিতা, আমাদের স্বাধীনতার অগ্রনায়ক

বঙ্গবন্ধু যাকে বলতেন, ‘আমার নেতা’ সেই হোসেন শহীদ

সোহরাওয়ার্দীর আজ মৃত্যুবার্ষিকী। গণতন্ত্রের মানসপুত্র, উপমহাদেশের

বরেণ্য রাজনৈতিক নেতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ১৯৬৩ সালের এই

দিনে লেবাননের বৈরুতের এক হোটেল কক্ষে মৃত্যুবরণ করেন।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এক বিবৃতিতে মরহুম

হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর পূণ্য স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে

বলেন, তিনি গণতন্ত্রের জন্য আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। তার নেতৃত্বের

অসাধারণ বলিষ্ঠতা, দৃঢ়তা ও গুণাবলি জাতিকে সঠিক পথের দিক-

নির্দেশনা দিয়েছে। গণতন্ত্র, ন্যায় বিচার ও আইন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তিনি

অসাধারণ অবদান রেখেছেন।

হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ছিলেন বিখ্যাত বাঙ্গালী রাজনীতিবিদ ও

আইনজীবী। যুক্তফ্রন্ট গঠনের মূলনেতাদের মধ্যে অন্যতম।

গণতান্ত্রিক রীতি ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন, তাই সুধী

সমাজ কর্তৃক ‘গণতন্ত্রের মানসপুত্র’ বলে আখ্যায়িত হন।

বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুরের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে তার জন্ম।

তিনি ছিলেন বিচারপতি স্যার জাহিদ সোহরাওয়ার্দির কনিষ্ঠ সন্তান।

জাহিদ সোহরাওয়ার্দি কলকাতা হাইকোর্টের একজন খ্যাতনামা

বিচারক ছিলেন। তার পরিবারের সদস্যবর্গ তৎকালীন ভারতবর্ষের

সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের প্রথা অনুসারে উর্দু ভাষা ব্যবহার

করতেন। কিন্তু সোহরাওয়ার্দি নিজ উদ্যোগে বাংলা ভাষা শিখেন

এবং বাংলার চর্চা করেন।

তার অনুসারীরা অনেকে ১৯৪৮ এর শুরুর দিকে পূর্ব পাকিস্তান

ছাত্র লীগ এবং ১৯৪৯ এর জুনে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামি মুসলিম

লীগ গঠনের সাথে জড়িত ছিলেন। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও

আবুল হাশেমের নেতৃত্বাধীন তৎকালীন বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম

লীগের একাংশের সম্মেলনের মধ্য দিয়ে ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন

ঢাকার টিকাটুলীর কেএম দাস লেনের রোজ গার্ডেনে ‘পূর্ব পাকিস্তান

আওয়ামী মুসলিম লীগ’ প্রতিষ্ঠিত হয়।

প্রতিষ্ঠালগ্নে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের সভাপতি হন

আবদুল হামিদ খান ভাসানী, সহ-সভাপতি হন আতাউর রহমান

খান, শাখাওয়াত হোসেন ও আলী আহমদ। টাঙ্গাইলের শামসুল হক

সাধারণ সম্পাদক এবং শেখ মুজিবুর রহমান, খন্দকার মোশতাক

আহমদ ও এ কে রফিকুল হোসেনকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের

দায়িত্ব দেওয়া হয়। অন্যদিকে, পুরো পাকিস্তানের ক্ষেত্রে সংগঠনটির

নাম রাখা হয় নিখিল পাকিস্তান আওয়ামী লীগ। এর সভাপতি হন

হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।

২৪ বছরের পাকিস্তান শাসনামলে আওয়ামী লীগ আতাউর রহমান

খানের নেতৃত্বে দু’বছর প্রদেশে ক্ষমতাসীন ছিল এবং হোসেন শহীদ

সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে কেন্দ্রে ১৩ মাস কোয়ালিশন সরকারের

অংশীদার ছিল। ১৯৫৩ সালে তিনি একে ফজলুল হক এবং

মাওলানা ভাসানীর সাথে একত্রে যুক্তফ্রন্ট গঠন করেন।

১৯৫৪ সালে অনুষ্ঠিতব্য পূর্ববঙ্গ ব্যবস্থাপক সভার নির্বাচন উপলক্ষে

ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগকে পরাভূত করার জন্য আওয়ামী মুসলিম

লীগের উদ্যোগে এই যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়। আওয়ামী মুসলিম লীগ

১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর কৃষক শ্রমিক পার্টি, পাকিস্তান গণতন্ত্রী

দল ও পাকিস্তান খেলাফত পার্টির সঙ্গে মিলে যুক্তফ্রন্ট গঠন করে।

আসলে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর বর্ণাঢ্য জীবন কাহিনী এখানে

বলে শেষ করা যাবে না। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তার আপসহীন সংগ্রাম

ও ত্যাগের কাহিনীও শেষ হবার নয়।

আপনার মন্তব্য