পৃথিবীর সবচেয়ে নিঃসঙ্গ এলাকা…!!!
December 11, 2016
Bangladeshism Desk (768 articles)
Share

পৃথিবীর সবচেয়ে নিঃসঙ্গ এলাকা…!!!

দক্ষিন আফ্রিকার উপকুল থেকে ২৪০০ কিলোমিটার এবং সবচেয়ে কাছের মনুষ্য অধ্যুষিত দ্বীপ সেইন্ট হেলেনা থেকে ২০০০ কিলোমিটার দুরে, ঝঞ্জা-বিক্ষুব্ধ প্রতিকুল সমুদ্রের মাঝে, বিরল প্রজাতির নানান উদ্ভিদ এবং প্রানীতে ভরপুর পৃথিবীর সবচেয়ে দুরবর্তি দ্বীপপুঞ্জ কিংবা দুরবর্তি স্থান হিসেবে খ্যাত ট্রিস্টান দ্যা কুনাহ্  (Tristan da Cunha) দক্ষিন আটলান্টিক মহাসাগরের একটি সক্রিয় আগ্নেয় দ্বীপপুঞ্জ।পর্তুগীজ অভিযাত্রী ট্রিস্টাও দ্যা কুনাহ্ (Tristão da Cunha ) ১৫০৬ খৃষ্টাব্দে সর্বপ্রথম এই দ্বীপপুঞ্জ আবিস্কার করেন এবং নিজের নামেই এই দ্বীপপুঞ্জের নামকরন করেন। কিন্তু প্রচন্ড সামুদ্রিক ঝড়ের কারনে তীরে নামতে বিফল হন কুনাহ্। যদিও কিছু মানুষ বিশ্বাস করেন পর্তুগীজরাই ১৫২০ খৃষ্টাব্দে এই দ্বীপে সর্বপ্রথম নামতে সক্ষম হন।কিন্তু অধিকাংশ মানুষের মতে ১৬৪৩ খৃষ্টাব্দের ৭-ই ফেব্রুয়ারী ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর একটি জাহাজের নাবিকরা এই দ্বীপে প্রথম নিরাপদভাবে নামতে সক্ষম হন এবং এই একই জাহাজে করে আরো অনেকেই পরবর্তি ২৫ বছরে আরো চার বার এই দীপপুঞ্জে আসেন এবং এই দ্বীপপুঞ্জের একটা খসড়া ম্যাপ তৈরি করতে সক্ষম হন। পুরো দ্বীপপুঞ্জের নাম ট্রিস্টান দ্যা কুনাহ্  (Tristan da Cunha) হলেও পরবর্তিতে এই দ্বীপপুঞ্জের ৯৮ বর্গকিলোমিটার আয়তনের সবচেয়ে বড়  দ্বীপটিকে দ্বীপপুঞ্জের নামে নামকরন করা হয়।২৬৫ জন মানুষের বসবাস এই দ্বীপে ১৮১০ খৃষ্টাব্দের ডিসেম্বরে আমেরিকার জনাথন ল্যামবার্ট (Jonathan Lambert) আরো তিনজনকে সাথে করে এই মনুষ্যবর্জিত দ্বীপপুঞ্জে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। ১৮১৬ খৃষ্টাব্দে এই দ্বীপ ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অন্তর্ভূক্ত করা হয়। এরপর দ্বীপে ধীরে ধীরে কিছু মানুষ বসবাস করা শুরু করে। দ্বীপের মানুষ মৎস শিকার এবং কৃষি কাজের উপরেই নির্ভরশীল। ট্রিস্টান দ্যা কুনাহ্  (Tristan da Cunha) মুলত কুইন মেরী’স পিক নামের ২০৬২ মিটার উচ্চতার একটি আগ্নেয়গিরি বা আগ্নেয় পর্বত যেখানে সামান্য একটু সমতলভুমি ছাড়া আর বাকী পুরো অংশ মনুষ্য বসবাসের অনুপযোগী পার্বত্য অঞ্চল। ১৯৬১ সালে কুইন মেরী’স আগ্নেয়গিরির ভয়ংকর অগ্নুৎপাতে দ্বীপে বসবাসকারী মানুষ দ্বীপ ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়। পরবর্তিতে অবস্থার উন্নতি হলে আবারো সবাই দ্বীপে ফিরে আসে।বর্তমানে এই দ্বীপে স্টোর হাউজ, রেডিও স্টেশন, ক্যাফে, ভিডিও শপ, সুইমিং পোল ছাড়াও স্যাটেলাইট টেলিফোন এবং ফ্যাক্স সার্ভিস রয়েছে যার সবগুলো একটি করেই। বহির্বিশ্ব থেকে চিঠিপত্র ছাড়াও বিভিন্ন ক্যানজাত খাবার, ভিডিও, বই, ম্যাগাজিন, ঔষধপত্র ইত্যাদি সহ ডাক বিভাগের একটি জাহাজ প্রতি বছরে মাত্র একবার এই দ্বীপে যায়। এমনকি কোন পর্যটক যদি এই দ্বীপে যেতে চান তাহলে তাকেও সাধারনত এই জাহজে করেই যেতে হবে।এই দ্বীপের জীব-বৈচিত্র অসাধারন! পৃথিবী সেরা ট্রিস্টান লবস্টার-এর জন্য বিখ্যাত ট্রিস্টান দ্যা কুনাহ্  (Tristan da Cunha) মহাসাগরীয় অঞ্চলের বর্নীল সব উদ্ভিদ ছাড়াও নানা রকম সামুদ্রিক ও বন্য প্রানী এবং বিরল প্রজাতির পাখিদের জন্য বিশেষভাবে আলোচিত। লক্ষ লক্ষ পাখিদের আবাস এবং প্রজনন ক্ষেত্র হিসেবে চিন্হিত এই দ্বীপে নর্দান রকহুপার পেঙ্গুইন, আটলান্টিক ইয়েলো নোজড আলবাট্রস, স্যুটি আলবাট্রস ছাড়াও রয়েছে আরো নানা প্রজাতির পাখি। 

আপনার মন্তব্য