বাংলাদেশের জঙ্গী ইস্যু । বিশ্বনেতারা কোথায়?
December 10, 2016
Bangladeshism Desk (754 articles)
Share

বাংলাদেশের জঙ্গী ইস্যু । বিশ্বনেতারা কোথায়?

গুলশানের জঙ্গী হামলার পর একটা জিনিষ খুব বেশী চোখে পড়েছিল – তা হলো বিশ্ব মিডিয়ার বাংলাদেশ নিয়ে টানাটানি। বিশ্ব নেতা এবং বিশ্ব মিডিয়ার বেশ বড় একটা অংশ বাংলাদেশকে সন্ত্রাসী রাষ্ট্র বানাতে উঠে পড়ে লেগেছিল। অবস্থা এমন হয়েছিল যে মনে হচ্ছিল এই মনে হয় ন্যাটো বা আমেরিকা বাংলাদেশকে সহায়তা করার নামে আগ্রাসন চালাবে। ব্যাপারটা এমন ফলাও ভাবে আর এমন রঙচঙিয়ে প্রচার করা হচ্ছিল যে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা জঙ্গী এবং বাংলাদেশের জংগী সমস্যার কারনে পুরো পৃথিবীর সমস্যা হচ্ছে। সিএনএন বিবিসির মত নিউজ মিডিয়াগুলো একেবারে উঠে পড়ে লেগেছিল।

কিন্ত সবার বাড়া ভাতে পানি ঢেকে দিয়ে আমাদের দেশের পুলিশ এবং প্রশাসন নিজেদের যোগ্যতা দিয়ে জংগী সমস্যার প্রায় সমাধান করে ফেলেছে। একে কে জংগী হয় ধরা খাচ্ছে না হয় মরছে। অর্থাৎ তারা যা ডিজার্ভ করে তাই পাচ্ছে। কিন্তু এরপর থেকে মিডিয়া চুপ। এত সফলতার সাথে কোন দেশ জংগী দমন করতে পারে নাই এমনকি উন্নত দেশগুলোও না। আমেরিকার হোম গ্রোন টেররিস্ট অর্গানাইজেশন অনেক এবং তারাও সেগুলো নিয়ন্ত্রন করতে পারছে না। সেখানে বাংলাদেশের মত স্বল্পন্নোত দেশ যা করে দেখাল তা অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার। কিন্ত কই, সেই বিশ্ব নেতারা আর বিশ্ব মিডিয়া এক ফোটাও বাংলাদেশের প্রশংসা করল না। বরং উল্টো জংগীরা কেন মারা যাচ্ছে তার জন্য উল্টো প্রশ্ন করছে। আর তাদের পাচাটা মানবাধিকার সংস্থাগুলোর কথা নাই বা বললাম। কেন এই ডাবল স্ট্যান্ডার্ড। এসব জংগী আসলে আসে কোথা থেকে? কারা কল্কাঠি নাড়ছে? এগুলো আসলে বের করার সময় হয়েছে। শোনা তো যায়, পেন্টাগনের ইশারায় নাকি আইএস চলে। আল-কায়েদা নাকি আমেরিকারই সৃষ্টি। যাহা রটে তার কিছুটা হলেও ঘটে। অন্তত এসব ক্ষেত্রে।

আশা করেছিলাম, সফলভাবে জংগী দমনের জন্য বাংলাদেশ অনেক প্রশংসা পাবে কিন্তু না, তাঁদের ইচ্ছা ভিন্ন। তাঁদের উচিত বাংলাদেশ থেকে ট্রেনিং নিয়ে যাওয়া – কিভাবে জংগী দমন করতে হয়। বার্মায় রাখাইনদের মারছে এ নিয়ে তারা বাংলাদেশ সরকারকে চাপ দেয়! অথচ বার্মাকে চাপ দেয় না এসব বন্ধ করার জন্য।

সবসময় বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বিদেশী মিডিয়া এর বিশ্ব নেতাদের এমন মনোভাব আগে চোখে না পড়লেও এখন অনেক বেশী পড়ে। পদ্মা সেতুর অর্থায়ন নিয়ে নানা টালবাহানা আর নাটক করেছিল বাংলাদেশকে ছোট করার জন্য। কিন্তু বাংলাদেশ এখন নিজদের টাকায় এই সেতু তৈরী করছে। কই, কোন মিডিয়াতো একটু প্রচার করল না ব্যাপারটা। আমার মনে হয় এদের কাছ থেকে কিছু আশা করাও উচিত না।

সেদিন আর বেশী দেরী নেই, যেদিন বাংলাদেশ অনেক দেশের উপর চাপ প্রয়োগ করতে পারবে। সেদিন অনেক সন্নিকটে। শুধু যদি আমরা বাংলাদেশীরা একটু এক হয়ে মিলেমিশে থাকতে পারতাম, নিজেদের মধ্যে কোন ফ্যাসাদ ছাড়া, তাহলে আমাদের আসলেই আর কেউ ঠেকাতে পারবে না। এটা তারাও জানে যে কারনে তারা সবসময় বাংলাদশকে নিয়ন্ত্রন করতে চায় এবং অনেক ধরনের কোন্দল সৃষ্টি করার চেষ্টা করে। তবে এখন আর মনে হয় না লাভ আছে। ১৭ কোটি মানুষের এই দেশ এখন অনেক বেশী পরিপক্ক। মানুষগুলোও আগের মত বোকা-সোকা নেই। বিদেশীদের মিষ্টি কথায় এখন আমরা আর ভুলিনা কিছু। সামনে আসছে নতুন দিন। প্রস্তুত থাকো পৃথিবী।

আপনার মন্তব্য