মধ্যপ্রাচ্যে জঙ্গিদের গুরুদের সন্ধান পাওয়া গেছে
December 6, 2016
Bangladeshism Desk (767 articles)
Share

মধ্যপ্রাচ্যে জঙ্গিদের গুরুদের সন্ধান পাওয়া গেছে

তথাকথিত আরব বসন্তের পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে শুরু হয় এক চরম অরাজকতা। আইএসসহ নানা নামের একের পর এক সন্ত্রাসী জঙ্গিগোষ্ঠীর আভির্ভাব হয়েছে সেখানে। সবাই ইসলামি খেলাফত প্রতিষ্ঠার কথা বললেও তাদের কার্যক্রমের সবই ইসলাম বিরোধী। হত্যা-খুন-রাহাজানিসহ এমন কোনো অপকর্ম নেই যে এরা করছে না।

এদের হাতে অঢেল সম্পদ আর অত্যাধুনিক অস্ত্র থাকার কারণে তাদের বিরুদ্ধে কারো কিছু বলার সাহসও ছিল না। বরং এদের অত্যাচার নিপীড়ন সইতে না পেরে লক্ষ লক্ষ মানুষ তাদের বাস্তুভিটা ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে। ভূমধ্য সাগরে ডুবে মরেছে অসংখ্য অ্যারাবিয়ান।

অন্যদিকে আমেরিকাসহ তার পশ্চিমা মিত্ররা এদের দমনের নামে দিনের পর দিন হামলা চালিয়ে ধ্বংস করে যাচ্ছে একের পর এক প্রাচীন ও সমৃদ্ধ নগর। কিন্তু সন্ত্রাসীদের কিছুই যেন হচ্ছিল না। বরং তারা দিন দিন আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছিল। ফলে মার্কিনিদের জঙ্গি-সন্ত্রাস দমনের অভিযানের লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।

এরই মাঝে আভির্ভূত হয় রাশিয়া। তারাও জঙ্গি দমনের নামে সিরিয়ার প্রেসিডেন্টের পক্ষে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করে। আর তারপর থেকেই জঙ্গিদের পরাজয় শুরু। একের পর এক এলাকার দখল থেকে পিছু হঠতে বাধ্য হয়েছে তারা। আর তাতেই যেন দিশেহারা হয়ে পড়েছে, মার্কিনি এবং তাদের মিত্ররা।

সর্বশেষ যখন দেখা গেল সিরিয়ার আলেপ্পো নগরীতে সন্ত্রাসীরা কোণঠাসা হয়ে পড়েছে তখনই তাদের রক্ষার জন্য আমেরিকার মিত্রদের পক্ষ থেকে তড়িগড়ি করে অস্ত্রবিরতীর প্রস্তাব আনা হয়েছে। অস্ত্রবিরতির প্রশ্নে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে মিশর, নিউজিল্যান্ড ও স্পেন প্রস্তাব দিয়েছে সেখানে যাতে সাত দিনের যুদ্ধবিরতি পালন করা হয়।

ইতোমধ্যে এর বিরুদ্ধে নিরাপত্তা পরিষদের দুই স্থায়ী সদস্য রাশিয়া ও চীন ভেটো দিয়েছে। এর ফলে আপাতত প্রস্তাবটি খারিজ হয়েগেছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে যে, যতদিন সন্ত্রাসীরা একের পর এক শহর দখল করেছে, ধ্বংস করেছে, মানুষ হত্যা করেছে তখন কেউ অস্রবিরতির প্রস্তাব দিল না। কিন্তু যখন সন্ত্রাসী বা জঙ্গিরা বিপদে পড়ল তখন প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে যুদ্ধবিরতীর। তাহলে এর মানে কী দাঁড়ালো?

আসলে ইসরাইল এবং আমেরিকার ষড়যন্ত্রের ফলেই যে আইএস এবং অন্যান্য জঙ্গিগোষ্ঠী গড়ে উঠেছে এবং মুসলমানদের হত্যা করছে- তাতে কোনো সন্দেহ নেই। উইকিলিকস প্রকাশিত তথ্য-উপাত্তেও দেখা গিয়েছিল যে সরাসরি হিলারি ক্লিন্টনের পৃষ্টপোষকতায় আইএস-এর জন্ম হয়েছিল, সেটাই আবার প্রমাণিত হলো।

আসলে বিশ্ব মোড়ল আমেরিকা এবং তার মিত্র অবৈধ ইসরাইলের কারসাজিতেই সৃষ্টি হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের জঙ্গি-সন্ত্রাসীরা। আর এদের দমনের নামেই ন্যাটোর অধীনে হামলা করে ধ্বংস করা হচ্ছে গোটা মধ্যপ্রাচ্যকে।

Latest Video Release

বাংলাদেশের টাইগারদের উৎসর্গ করে বাংলাদেশীজম প্রজেক্ট তৈরী করেছে একটি বিশেষ ভিডিও। নীচে ভিডিওটি দিয়ে দিলাম। দেখে ফেলুন

আপনার মন্তব্য