রোহিঙ্গাদের প্রতি মিয়ানমারের এতো ঘৃনা কেন ?!?!?!
December 12, 2016
Bangladeshism Desk (767 articles)
Share

রোহিঙ্গাদের প্রতি মিয়ানমারের এতো ঘৃনা কেন ?!?!?!

কোন সমস্যা যখন আমাদের সামনে এসে দাঁড়ায়, আমরা শুধু ভাবি কিভাবে সমস্যা থেকে দ্রুত মুক্তি পাওয়া যায় ! তাই আমরা শুধু সমস্যার বর্তমান রুপ নিয়েই হায় হুতাশ করি ! কিন্তু আমরা ভাবি না, ঐ সমস্যা কিভাবে শুরু হল আর কেন শুরু হল ! অথচ সমস্যার সমাধানটা লুকিয়ে আছে সেখানেই !!! আর ছোট্ট একটি সমস্যা দীর্ঘদিন পুষে রাখলে তার সাথে যুক্ত হয় আরো অনেক তিক্ত স্মৃতি, ব্যাথা, বেদনা ! আম এই ব্যাথা বেদনা মানুষের মনে জন্ম দেয় ঘৃণার, প্রতিশোধ স্পৃহার ! সমস্যার সমাধান হয়ে পড়ে জটিল থেকে জটিলতর !!!

সাম্প্রতিক, রোহিঙ্গা সমস্যা এমনই এক জটিল সমস্যা যার শেকড় অনেক গভীরে নিহিত ! জানা যায় যে, নাফ নদীর দুই পাশেই রোহীঙ্গা মুসলিম ও রাখাইন বৌদ্ধদের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান গত প্রায় সহস্রাধিক বছর ধরেই ! সংখ্যা গরীষ্ঠ রোহীঙ্গা মুসলিম ও রাখাইন বৌদ্ধদের পাশাপাশি চিন, কামান,থেট, ডিনেট্ট, মার্মাগ্রী, ম্রো, খামী প্রভৃতি ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠিরও বসবাস ছিল সে সময় আরাকানে !

বৌদ্ধ আর মুসলিম জনগোষ্ঠি সম্পর্কের মাঝে বিভিন্ন কারণে তিক্ততা তৈরী হয় ! ২০০ বছরের ব্রিটিশ শাসনামলে শাসকদের মুসলিম বিদ্বেষের এই তিক্ততা আরো বাড়ে ! ১৯৪২ সালের দিকে তা তীব্র হয় ! যার জন্য দায়ী ছিল জেনারেল নে উইন (General Ne Win ) ! সে সময় জেনারেল নে উইন বার্মা ইন্ডিপেন্ডেন্স আর্মির প্রধান ছিলেন !

তার নির্দেশে সে সময় প্রায় ১০০,০০০ রোহীঙ্গা ও শতাধীক রোহীঙ্গা গ্রাম ভষ্মীভূত হয় ! পরে ১৯৬২ সালে জেনারেল নে উইন দেশের শাসন ক্ষমতা দখল করলে রোহীঙ্গাদের অবস্থার আরো অবনতি হয় ! নে উইন দেশে বেশ কিছু এন্টি-মুসলীম আইন চালু করেন ! পরে “ Sabe Operation ” নামে ইমিগ্রেশন অপারেশনের মাধ্যমে নে উইন হাজার হাজার রোহীঙ্গাদের ন্যাশনাল রেজিষ্ট্রেশন কার্ড (NRCs) জব্দ করেন ! পরে আর তা ফেরৎ দেয়া হয়নি ! এভাবে ঐ সমস্ত রোহীঙ্গাদের অবৈধ বিদেশী অনুপ্রবেশকারী হিসেবে তুলে ধরা হয় !

১৯৭৮ সালে তৎকালীণ বার্মা সরকার “ কিং ড্রাগন” নামে আরেকটি অপারেশন চালায়, যার লক্ষ্য ছিল অবৈধ অনুপ্রবেশকারী চিহ্নিত করা ! সে সময় প্রায় ৩০০,০০০ রোহীঙ্গা রিফুজি হিসেবে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে বাধ্য হয় তৎকালীণ বার্মা সরকারের নিদারূণ অত্যাচার, নিপীড়ণ আর নির্যাতনের মুখে ! পরে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে বার্মা সরকার তাদের অনেককে ফিরিয়ে নিতে রাজি হয় ! কিন্তু চলতে থাকে রোহীঙ্গাদের উপর যুলুম , নির্যাতন !!! নাগরিক অধিকারের খুব সামান্যই তারা তখন ভোগ করতে পারত

পরবর্তিতে তৎকালীণ বার্মা সরকার দেশে নাগরিকত্ব আইন-১৯৮২ প্রণয়ন করার পর রোহীঙ্গাদের সর্বনাশের ষোলকলা পূর্ণ হয় ! রাষ্ট্রের হাতে চলে যায় সমস্ত রহীঙ্গাদের অবৈধ ঘোষণা করার আইনী হাতিয়ার ! আর, বন্ধ হয়ে যায় রোহীঙ্গাদের সমস্ত নাগরিক অধিকার ও সুযোগ সুবিধা ! এভাবেই মঞ্চস্থ হতে থাকে আরো অনেক নাটক !!! সমস্যাটির শুরু আর আজকের পরিস্থিতির মাঝে অনেক সময়ের ব্যাবধান !!! পরিস্থিতিও আজ অনেক জটিল রুপ ধারণ করেছে !!! এর সমাধানও আজ দুঃসাধ্য প্রায় !

কিন্তু লক্ষ্য করলে দেখা যায় এই দন্দের যাত্রাটা ছিল ধর্মকে কেন্দ্র করে ! ধর্ম মানুষকে মুক্তি আর শান্তির পথ দেখায় ! কিন্তু ধর্মকেই আজ মানবতাকে ধ্বংস করার হাতিয়ারে পরিণত করেছে অন্ধকারের যাত্রীরা ! আফসোস, পৃথিবীর মানুষ গুলো আজ মানুষ হয়ে জন্ম নিতে পারে না !তাদের গায়ে ঝুলিয়ে দেয়া হয় ধর্মের ব্যানার !!!

 

ধর্ম আজ মানুষের চেয়ে বড়, মানবতার চেয়ে বড় !!!

মানবতার মুক্তি তবে কোথায় ?!?!?!

কিভাবে ?!?!?!

আপনার মন্তব্য