এবার সত্যি সত্যিই এগিয়ে আসছে ঘূর্ণিঝর ‘নাদা’

40
SHARE

ইউসুফ হায়দার

দুদিন ধরেই একটি খবর দেখে বিভ্রান্তিতে ছিলাম। খবরটি হলো, এগিয়ে আসছে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝর ‘নাদা’। দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘নাদা’ পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে। তবে এটি আরও ঘণীভূত হয়ে পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে।

আবহাওয়া বিভাগের বিশেষ বুলেটিনে জানানো হয়েছে, ঘূর্ণিঝড় ‘নাদা’র কেন্দ্রে সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

সমস্যা হলো গত নভেম্বর মাসের শুরুর দিকেও ‘নাদা’ এসেছিল। উপকূল অতিক্রম করে যাওয়ার পর তার মৃত্যুও হয়েছে। তাহলে নভেম্বরের শেষ দিকে বা ডিসেম্বরের শুরুতে সেই মৃত ‘নাদা’ আবার এলো কী করে?

বিভ্রান্তি কাটাতে ফোন দিলাম একটি গুরুত্বপূর্ণ নিউজপোর্টাল অফিসে, যারা নাদা আসছে বলে খবর প্রকাশ করেছেন। যিনি সে নিউজটি করেছেন তাকে জিজ্ঞেস করলাম- ভাই পরপর দুটি ঘূর্ণিঝরের নাম একই হলো কী করে? তিনি নিজেও এর ব্যাখ্যা জানেন না। শুধু বললেন, জানি না। আবহাওয়া অধিদপ্তর তো ‘নাদা’ নাম দিয়েই ঘূর্ণিঝর আসছে বলে খবর প্রচার করছে, ২ নম্বর সতর্কতা সংকেতও জারি করেছে। এর ব্যাখ্যা তারাই বলতে পারবেন।

ফোন দিলাম আবহাওয়া অধিদপ্তরের অফিসে। দায়িত্বশীল একজন আবহাওয়াবিদ ফোন ধরলেন। জানতে চাইলাম, নভেম্বরের শুরুতেও ‘নাদা’ এসেছিল। আবারও আসছে ‘নাদা’ এর মানে কী? তিনি পাল্টা প্রশ্ন করলেন, নভেম্বরের শুরুতে তো কোনো ঘূর্ণিঝরই আসেনি তাহলে ‘নাদা’ আসবে কোথা থেকে?

বোকাই বনে গেলাম। ঘটনা কি, ‘নাদা’ নিয়ে নভেম্বরের শুরুতে এত নিউজ হলো, আর আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে কোনো ঘূর্ণিঝরই আসেনি! ব্যাপারটি একটু খোলাসা করার জন্য অনুরোধ করলাম। তিনি জানালেন, আগের বার যেটা এসেছিল সেটা আসলে কোনো ঘূর্ণিঝর ছিল না, ছিল গভীর নিম্নচাপ। ঘূর্ণিঝরের নাম দেওয়া হয় কিন্তু গভীর নিম্নচাপের কোনো নাম হয় না। তাই সেটার কোনো নামও ছিল না।

তাহলে এতসব নিউজ হলো যে? উত্তরে তিনি জানালেন, সেটা সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকরাই বলতে পারবেন। আবহাওয়া অধিদপ্তর কখনো বলেনি যে সেটা ঘূর্ণিঝর ছিল এবং তার নাম ‘নাদা’!

তাহলে এবার যেটা আসছে, সেটা কি সত্যিই ঘূর্ণিঝর? উত্তরে জানালেন- হ্যাঁ, অবশ্যই এটা ঘূর্ণিঝর এবং এর নামই ‘নাদা’।

আবহাওয়া বিভাগের বিশেষ বুলেটিনে আরও জানানো হয়, বৃহস্পতিবার (১ ডিসেম্বর) সকাল ৬ টায় ঝড়টি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১৬৬০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১৬০৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, মংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ১৫৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ১৫৪০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল।

ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘন্টায় ৬২ কিলোমিটার যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত গভীর সাগরে বিচরণ না করতে এবং উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

Latest Video Release

বাংলাদেশের টাইগারদের উৎসর্গ করে বাংলাদেশীজম প্রজেক্ট তৈরী করেছে একটি বিশেষ ভিডিও। নীচে ভিডিওটি দিয়ে দিলাম। দেখে ফেলুন।

আপনার মন্তব্য