পাহাড়ের সন্ত্রাসীদের অস্ত্র ছাড়ার আহ্বান

সড়ক ও সেতুমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এমপি বলেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে এখনও যারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত আছেন, তারা অস্ত্র ছেড়ে দিলে যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি দেওয়া হবে। ৩০ নভেম্বর বুধবার দুপুরে বান্দরবান জেলা আওয়ামী লীগের এক কর্মী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেছেন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম তথা আমাদের পাহাড়ে সশস্ত্র সন্ত্রাসী তৎপরতা বিদ্যমান আছে দীর্ঘদিনে ধরেই। আর সেটা শুরু হয়েছে স্বাধীনতার পর থেকেই। এর ফলে হাজার হাজার পাহাড়ি-বাঙালি নিরীহ মানুষ খুন হয়েছেন। এখনও হচ্ছেন। গুম-অপহরণ তো নিত্যদিনের ব্যাপার। আর চাঁদাবাজি হলো ওপেন-সিক্রেট ঘটনা।

এসব বন্ধ করতেই তৎকালীন সরকার ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রামের সশস্ত্র বিদ্রোহীদের সাতে এক চুক্তি করেছিলেন, যাতে তারা অস্ত্র জমা দিয়ে জঙ্গল থেকে ফিরে এসে স্বাধীন ও মুক্ত জীবন-যাপন করতে পারে। অন্যদিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম তথা রাঙ্গামাটি, বান্দরবান এবং খাগড়াছড়িতে যাতে ফিরে আসে শান্তি ও শৃঙ্খলা সে প্রত্যাশাও ছিল।

কিন্তু চুক্তির পর ১৯ বছর পার হয়ে গেছে, অথচ কাঙ্খিত শান্তি আসেনি। চুক্তির পর কিছু সশস্ত্র ব্যক্তি অস্ত্র জমা দিলেও পাহাড়ে বন্ধ হয়নি অস্ত্রবাজি। আর আগে যেখানে অস্ত্রবাজদের একটি গ্রুপ ছিল। চুক্তির পর সেখানে এখন দাপিয়ে বেড়াচ্ছে তিন তিনটি সশস্ত্র গ্রুপ।

যাদের আদর্শের লড়াইয়ের কথা বলে অস্ত্রবাজি করলেও মূলত চাঁদাবাজি এবং পাহাড়ের প্রভাব বিস্তার নিয়েই পরস্পরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে সন্ত্রাসী গ্রুপগুলো। ফলে নিজেরা তো মরছেই, মরছে সাধারণ মানুষও। এই অবস্থায় পাহাড়ের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হিমশিম খাচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনী।

সম্ভবত সে কারণেই পার্বত্য চট্টগ্রামে বিবদমান বিভিন্ন আঞ্চলিক গ্রুপ এবং বিপথগামী তরুণদের উদ্দেশ্য করে সেতুমন্ত্রী বলেছেন, অস্ত্র কোন দিন শান্তি আনে না। আপনি যার জন্য অস্ত্র মজুদ করছেন, একদিন তার পাল্টা আঘাতে আপনি নিজেই নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবেন।

তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, আমাদের হাতে হাত রাখুন। আমরা সন্ত্রাস, মাদক ও ইয়াবামুক্ত পার্বত্যাঞ্চলে শান্তির ধারা বইয়ে দেবো। যারা কর্মহীন- সুপথে ফিরে এলে আমরা বন্ধুর মত আপনাদের পাশে দাঁড়াবো।

কিন্তু অস্ত্রবাজ সন্ত্রাসীরা কি সে আহ্বানের মর্ম বুঝবেন? নাকি তারা এখন যেটা করছেন তাতেই মগ্ন থাকবেন?

তাদের অন্তর যেন সেতুমন্ত্রীর শুভ আহ্বানের প্রতি সাড়া দিতে জেগে উঠে- সে প্রত্যাশাই থাকবে।
Latest Video Release

বাংলাদেশের টাইগারদের উৎসর্গ করে বাংলাদেশীজম প্রজেক্ট তৈরী করেছে একটি বিশেষ ভিডিও। নীচে ভিডিওটি দিয়ে দিলাম। দেখে ফেলুন।

আপনার মন্তব্য
(Visited 1 times, 1 visits today)

About The Author

Bangladeshism Desk Bangladeshism Project is a Sister Concern of NahidRains Pictures. This website is not any Newspaper or Magazine rather its a Public Digest to share experience and views and to promote Patriotism in the heart of the people.

You might be interested in