সীমান্তে আরও ভয়ঙ্কর অস্ত্র নিয়ে আসছে বিএসএফ

31
SHARE

ইশতিয়াতক আহমেদ

প্রতিনিয়তই সীমান্তে বাংলাদেশিদের গুলি করে হত্যা করছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। কিন্তু তাতেও রক্ত পিপাসা মিটছে না তাদের। তাই তারা নাকি আরও ভয়ঙ্কর প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর সে কথাই বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন বিএসএফ মহাপরিচালক।

বাংলাদেশ-ভারত সরকারি পর্যায়ে বন্ধুদেশ হিসেবে পরিচিত হলেও সীমান্ত পরিস্থিতি পুরোই উল্টো। যখন-তখন গুলি করে বাংলাদেশিদের হত্যা করার যেন উৎসব করছে বিএসএফ। এখানে সাধারণ কৃষক থেকে শুরু করে, গরু পাচারকারী বাদ যায় না কেউ। প্রায় নিয়মিত বিরতিতেই লাশ পড়ছে সীমান্তে।

ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বারবার সীমান্ত হত্যা বন্ধের আশ্বাস দিলেও তা কার্যকর হচ্ছে না। বাংলাদেশিদের হত্যা করা থেকে বিরত রাখা যাচ্ছে না বিএসএফকে। ফলে বাংলাদেশ তো বটেই, সারা বিশ্বের মানবাধিকার সংস্থাগুলোর কাছেই নিন্দিত বিএসএফ বাহিনী।

বিশেষ করে কাঁটা তারে ঝুলন্ত বাংলাদেশি কিশোরী ফেলানীর লাশের ছবিটাই তাদের কর্মকাণ্ডের জ্বলন্ত প্রতীক হয়ে উঠেছে। ফলে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর কাছে তাদের পরিচয় ‘ট্রিগার হ্যাপি’ বাহিনী হিসেবে।

এরই মধ্যে তারা এবার ঘোষণা দিয়েছে, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে জওয়ানদের হাতে আবারও ‘লিথাল ওয়েপন’ বা প্রাণঘাতী অস্ত্র দেওয়ার। প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহারের ঘোষণা না থাকলেও যেখানে বিএসএফের হাতে মানুষ মরেছে সেখানে ঘোষণা দিয়ে মারণাস্ত্র তুলে দিলে বাস্তবতা কী দাঁড়াবে সেটা কি আর বলে বোঝাতে হবে?

তাছাড়া, দুই দেশের সরকার পর্যায়ে বন্ধুত্বের চরম উৎকর্ষতার সময়ে এসেও কেন বিএসএফ এমন ঘোষণা দিচ্ছে সেটাও তো বুঝতে পারছি না। যখন সীমান্ত হত্যা বন্ধের ব্যাপারে তোড়জোর চলছে, বিএসএফ এবং তাদের দেশের সরকারের প্রতিটি পর্যায় থেকেই এ ব্যাপারে একের পর এক আশ্বাস বাণী শোনানো হচ্ছে ঠিক সেই সময় বিএসএফ কেন এমন ভয়ঙ্কর ঘোষণা দিতে গেল?

বিষয়টি সত্যিই রহস্যজনক। বাংলাদেশের সফল কূটনীতিতে রাশিয়া এবং চীনের সাথে যে ঘনিষ্ঠতা সৃষ্টি হয়েছে, তাতে ভারতের কর্তাব্যক্তিদের হিংসায় জ্বলার খবর তাদের দেশের মিডিয়াতেই প্রকাশ পাচ্ছে। যার সর্বশেষ উদাহরণ হলো, চীন যেদিন ২টি সাব মেরিন বাংলাদেশের কাছে হস্থান্তর করে তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বাংলাদেশ সফরের ঘোষণা আসে।

এবং তিনি বাংলাদেশে এসে সামরিক খাতে বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক আরও বাড়ানোর ব্যাপারে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন বলে জানা গেছে। এসব খবরের রেশ কাটার আগেই বিএসএফের প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের ঘোষণার খবর এলো। তাই, বিষয়টি নিয়ে আমাদের দেশের কর্তৃপক্ষের নজরদারী এবং প্রতিকারমূলক পদক্ষেপ আশা করছি।

কেননা সীমান্তে যারা নিহত হচ্ছেন বা ভবিষ্যতে নিহত হতে পারেন তারা বাংলাদেশেরই নাগরিক। তাদের জীবন বাঁচাতে সরকারকে অবশ্যই করণীয় নির্ধাণ করতে হবে।

Latest Video Release

বাংলাদেশের টাইগারদের উৎসর্গ করে বাংলাদেশীজম প্রজেক্ট তৈরী করেছে একটি বিশেষ ভিডিও। নীচে ভিডিওটি দিয়ে দিলাম। দেখে ফেলুন

আপনার মন্তব্য