আবার ফিরে আসছে ইতিহাসের টাইটানিক

42
SHARE

আশরাফুল আলম
১৯০৭ সালে নির্মাণ শুরু হয়েছিল টাইটানিক নামের জাহাজটির। পাঁচ বছর একটানা কাজ করে ১৯১২ সালে জাহাজটির নির্মাণ শেষ হয়।

গ্রিক পুরানের শক্তিশালী দেবতার নাম ‘টাইটান’। এই দেবতার নামে নাম দিয়েই জাহাজটিকে পানিতে ভাসিয়ে ছিল হল্যান্ডের ‘হোয়াইট স্টার লাইন’ কোম্পানি।

টাইটান দেবতার নামানুসারে এই জাহাজের নাম ‘টাইটানিক’ রাখা হলেও, এটি আসলে জাহাজটির সংক্ষিপ্ত নাম। এর পুরো নাম ছিল ‘আর এম এস টাইটানিক’। ‘আর এম এস’ এর অর্থ হচ্ছে ‘রয়্যাল মেল স্টিমার’।

১৯১২ সালের ১০ এপ্রিল সাউদাম্পটন থেকে নিউইয়র্কের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে টাইটানিক। বিলাসবহুল জাহাজটি তার প্রথম যাত্রাতেই আইসবার্গের সাথে ধাক্কা লেগে ধ্বংস হয়ে যায়, ডুবে যায় তার সকল যাত্রী নিয়ে। অল্প কিছু সংখ্যক মানুষ বেঁচে গেলেও সলিল সমাধি হয়েছে অধিকাংশ যাত্রী ও নাবিকের।

অনুসন্ধানকারীরা ১৯৮৫ সালে ইতিহাসের কিংবদন্তি এই জাহাজটির ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পায়। আনসিংকেবল টাইটানিক এখন সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১২ হাজার ৬০০ ফুট নিচে আটলান্টিকের তলদেশে স্থির হয়ে আছে।

টাইটানিক শুধু একটি জাহাজই ছিল না, বরং ছিল সেই সময় পর্যন্ত সামুদ্রিক জাহাজ নির্মাণে আবিষ্কৃত প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহারের নিদর্শনও। যার কারণে নির্মাণ প্রকৌশলীরা দাবি করেছিলেন, এ জাহাজ কখনই ডুববে না, এক কথায় আনসিংকেবল। কিন্তু এর প্রথম যাত্রাতেই প্রকৌশলীদের সে গর্ব ধূলিস্যাৎ হয়ে গিয়েছিল।

তাই এর নির্মাণ থেকে শুরু করে ডুবে যাওয়ার ঘটনা, এবং বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের জীবন নিয়ে নানা কাহিনী প্রচলিত আছে। আর সেসব কাহিনী নিয়ে নির্মিত হয়েছে সিনেমাও। কেট উইন্সলেট আর লিওনার্দো ডি ক্যাপ্রিয়ো অভিনীত টাইটানিক নামের ছবিটি বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তুলেছিল।

তবে এবার আর সিনেমা নয়, বাস্তবেই ফিরে আসছে টাইটানিক। বিশাল বলরুম, আধুনিক ক্যাসিনো, ঠিক যেমনটা ছবিতে দেখা গিয়েছিল, অবিকল তেমনই। আর নতুন করে এই টাইটানিক তৈরি হচ্ছে চীনে।

২০১৪ সালেই চীন টাইটানিকের আদলে এই জাহাজ তৈরির কথা প্রথমবারের জন্য ঘোষণা করে। জানা গেছে, আনুমানিক ১৫০ বিলিয়ন ইউয়েন খরচ হবে এই জাহাজ তৈরির কাজে। তবে টাইটানিকের মত দেশ বিদেশে পাড়ি দেবে না এই জাহাজ, নোঙর করা থাকবে সিচুয়ান প্রদেশের সৈকতে।

আর এই জাহাজকে কেন্দ্র কয়েই কয়েক কিলোমিটার জুড়ে তৈরি হবে একটি থিমপার্ক। পর্যটকরা যখন খুশি পর্দায় বা ইতিহাসের বইয়ে পড়া টাইটানিককে সামনা সামনি দেখতে পাবেন এখানে এলেই।

হাজার রকমের বাজি ফাটিয়ে ১ ডিসেম্বর জাহাজের কাজ শুরু করার পরেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ২ বছরের মধ্যেই এই পার্কটি খুলে দেওয়া হবে সাধারণ মানুষের জন্য।

Latest Video Release

বাংলাদেশের টাইগারদের উৎসর্গ করে বাংলাদেশীজম প্রজেক্ট তৈরী করেছে একটি বিশেষ ভিডিও। নীচে ভিডিওটি দিয়ে দিলাম। দেখে ফেলুন

আপনার মন্তব্য