ভারত কি আমাদের তিস্তা চুক্তির লোভ দেখাচ্ছে

48
SHARE

ইউসুফ হায়দার
চলতি মাসের ১৭ তারিখ আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে। সে সফরকে নিয়ে কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকা অনেকটা টক-মিষ্টি-ঝাল মিশ্রিত মুখরোচক খাবারের মতো একটি খবর প্রকাশ করেছে।

ভারতের কেন্দ্রীয় পানিসম্পদ মন্ত্রী সঞ্জীবকুমার বালিয়ান-এর এক বিবৃতির সূত্র ধরে আনন্দবাজার বলছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের আগে তিস্তা চুক্তি নিয়ে ঢাকাকে বার্তা দিয়েছে নয়াদিল্লি।

আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের সঙ্গে ধারাবাহিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সফরকে বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়। তাছাড়া, ঢাকা সফরে আসা ভারতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুক্রবারও জানিয়েছেন, সন্ত্রাস প্রশ্নে দিল্লির পাশেই থাকবে ঢাকা।

একইভাবে ভবিষ্যতে কৌশলগত প্রশ্নে হাসিনাকে পাশে পাওয়া প্রয়োজন মোদি সরকারের। আর সে কারণেই তিস্তা চুক্তি সাক্ষর করতে ভারত যে কোমর বেঁধে নেমেছে এবং দিল্লি সেই বার্তা দিতে চাইছে।

তার মানে হচ্ছে, আনন্দবাজার আনন্দের সহিত আমাদের এই বার্তাই দিতে চাইছে যে, পাকিস্তানের সাথে তাদের চলমান উত্তপ্ত সম্পর্কের প্রেক্ষিতে মোদি সরকারের প্রয়োজন বাংলাদেশকে পাশে পাওয়া। আর সেটা নিশ্চিত করতেই তারা বাংলাদেশের কাঙ্ক্ষিত তিস্তা চুক্তি সাক্ষর করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে খুশি রাখতে চাইছে!

কিন্তু প্রশ্ন হলো- ভারতের পানিসম্পদ মন্ত্রীর বিবৃতিতে এমন কী বার্তা আছে যে, তার ওপর ভিত্তি করে আনন্দবাজার মনে করছে এবার প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময়েই তিস্তা চুক্তি স্বাক্ষর করবে ভারত?

না, আসলে তেমন কিছু নেই। সেই বিবৃতিতে কেবল গ্রহণযোগ্য সমাধান খোঁজার চেষ্টা চলছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এটা তো ভারতীয়দের চিরাচরিত পদ্ধতি। তারা সব সময়ই তিস্তা চুক্তি করতে সর্বাত্ম চেষ্টার কথা বলে এসেছে এবং শেষ পর্যন্ত কোনো না কোনো ছুতোয় তা এড়িয়ে গেছে। বা তারা পিছু হটেছে।

একবার তো সব গুছিয়ে এনেও তারা চুক্তি স্বাক্ষরের পূর্ব মুর্হুতে রাজ্য সরকারের প্রধান মমতা ব্যানার্জির গড়রাজির কথা বলে পিছিয়ে গেছে।

এই অবস্থায় গ্রহণযোগ্য সমাধান খোঁজার চেষ্টার মধ্যে আনন্দবাজার এমন কী নতুন বার্তা খুঁজে পেল? সেটাই তো বোঝা যাচ্ছে না। তাছাড়া, মমতার সাথে মোদির বর্তমান সম্পর্ক তো খুবই নাজুক। তাহলে মোদি চাইলেই মমতা ব্যানার্জিও রাজি হয়ে যাবেন, সেই নিশ্চয়তা কোথায়?

যাহোক, আনন্দবাজারের নিউজটি পড়ে যা বুঝলাম, তাতে স্পষ্ট যে পাকিস্তানের সঙ্গে তাদের সাম্প্রতিক টানাপোড়েন নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বেশ বিপাকেই আছে মোদি সরকার। এখন শেষ ভরসা হিসেবে বাংলাদেশের সমর্থন তাদের দরকার।

তাই তারা তিস্তা চুক্তির ভরসা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মন জয় করতে চাইছেন।

কিন্তু তিস্তা চুক্তির সাথে পাকিস্তান প্রশ্নে ভারতের পাশে থাকার শর্ত যে অগ্রহণযোগ্য এটা আমাদের প্রধানমন্ত্রী ভালো করেই জানেন। কেননা, তিস্তার পানি আমাদের অধিকার আর পাকিস্তান প্রশ্নে বাংলাদেশের সমর্থন পাওয়ার আশাটা হলো ভারতের আবদার।

এই অধিকার আর আবদারের তফাৎটা যে আমাদের প্রধানমন্ত্রী ভালোভাবেই অবগত আছেন, সেটা যদি আনন্দবাজারের বুঝতে অসুবিধা হয়, তাহলে তারা দ্যা হিন্দুতে প্রকাশিত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারটি আরেকবার পড়ে দেখে নিতে পারেন।

Latest Video Release

বাংলাদেশের টাইগারদের উৎসর্গ করে বাংলাদেশীজম প্রজেক্ট তৈরী করেছে একটি বিশেষ ভিডিও। নীচে ভিডিওটি দিয়ে দিলাম। দেখে ফেলুন

আপনার মন্তব্য