জুয়ার আসর বন্ধে আদালতের রায়

28
SHARE

সোহেল হাবিব

বেশ কয়েক বছর আগের কথা, একজন তরুণ ফিল্ম নির্মাতার সাথে গল্প করতে গিয়ে জেনেছিলাম জুয়া খেলার কথা। গল্প হচ্ছিল সেই সময় ভালো ব্যবসা করা একটি ছবির পরিচালককে নিয়ে।

বন্ধুটি বলেছিলেন, ছবিটি ভালো ব্যবসা করার পরও খুবই অর্থকষ্টে ভোগছেন পরিচালক।

জানতে চাইলাম, কারণ কী? উত্তরে জানালেন, অত্যন্ত ভালো মনের মানুষ তিনি- তাতে কোনো সন্দেহ নেই। ছবি নির্মাণ বিষয়েও তাঁর অভিজ্ঞতা এবং জ্ঞান অসাধারণ। সে কারণে ইন্ডাস্ট্রির লোকজন তাঁকে শ্রদ্ধার চোখে দেখেন।

কিন্তু একটা জায়গায় সমস্যা আছে। হাতে টাকা এলেই আর হুঁশ থাকে না। বসে যান জুয়ার আসরে। যতক্ষণ টাকা আছে ততক্ষণ আর উঠানো যায় না সেখান থেকে। তাই তাঁর অর্থসংকট কখনোই কাটে না।

এবার বলি এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর কথা। প্রায় শূন্য অবস্থা থেকে লোকটি ৪/৫ বছরের চেষ্টায় একটি গ্রাম্য বাজারের সবচেয়ে পয়সাওলায় ব্যবসায়ী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করলেন। কিন্তু তারপরই কী যেন হয়ে গেল! হঠাৎ করেই মন্দাবস্থায় পড়তে থাকল তার ব্যবসা।

ধারদেনাও বাড়তে থাকল। পরবর্তী দুই বছরের মধ্যে দোকান বিক্রি করে পালাতে বাধ্য হলেন পাওনাধারদের যন্ত্রণায়। পরে জানা গেল, জুয়ার নেশায় পেয়ে বসেছিল। তাই তার অধপতন।

আমার এক প্রতিবেশীকে জানি, ভালো বেতনের চাকরি করেন। কিন্তু বাসা ভাড়া কিংবা বাজার খরচ দেওয়ার মতো টাকা তিনি ঘরে আনতে পারেন না। সংসার চলে ছেলে আর ছেলের বউয়ের আয় দিয়ে।

এমন কি বেতন পাওয়া পরের ২/৩ দিন বাসাতেও আসেন না। বেতনের টাকা তুলেই চলে যান জুয়ার আসরে, শেষ পর্যন্ত যখন বাসায় আসেন, তখন শোনা যায় গাড়ি ভাড়া আরেক জনের কাছ থেকে ধার করে এনেছেন।

গ্রামে-গঞ্জে জুয়ারিদের নিয়ে নানা রকম গল্প প্রচলিত আছে। বাড়ি-ঘর তো বেচেনই, শেষ পর্যন্ত নাকি বউকে পর্যন্ত জুয়ার দানে ধরে দেন নিম্নশ্রেণির কোনো কোনো জুয়ারি।

জুয়া খেলা যে শুধু নিম্নবিত্ত কিংবা মধ্যবিত্তদের সমস্যা তা কিন্তু নয়। উচ্চবিত্তের লোকজনের মধ্যেও এই মরণ নেশা ভালোভাবেই আছে। সে কারণেই উচ্চবিত্তদের দ্বারা পরিচালিত নামিদামি ক্লাবগুলোতে জুয়া খেলাটা ওপেনসিক্রেট।

কিন্তু জুয়া তো জুয়াই। এর মধ্যে ভালো কিছু কখনো ছিল না, কখনো সেখান থেকে ভালো কিছু আশাও করা যায় না। সেটা কি উচ্চবিত্তের লোকদের বোঝানো যাবে? নাকি সেটা সম্ভব?

আমাদের পক্ষে সম্ভব না হলেও এ ব্যাপারে উদ্যোগী হয়েছেন উচ্চ আদালত। ঢাকা ক্লাব, ধানমণ্ডি ক্লাব, গুলশান ক্লাব, উত্তরা ক্লাব, বনানী ক্লাব, অফিসার্স ক্লাব ঢাকা, ঢাকা লেডিস ক্লাব, ক্যাডেট কলেজ ক্লাব গুলশান, চিটাগাং ক্লাব, চিটাগাং সিনিয়র্স ক্লাব, নারায়ণগঞ্জ ক্লাব ও খুলনা ক্লাবে টাকার বিনিময়ে জুয়া খেলা অবৈধ ঘোষণা করে তা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

আশা করি, মরণ নেশা জুয়া বন্ধে যাদের ওপর দায়িত্ব রয়েছে তারা সেটা পালান করে আদালতের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবেন। একই সাথে সারা দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা জুয়ার আসরগুলোও বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

Latest Video Release

বাংলাদেশের টাইগারদের উৎসর্গ করে বাংলাদেশীজম প্রজেক্ট তৈরী করেছে একটি বিশেষ ভিডিও। নীচে ভিডিওটি দিয়ে দিলাম। দেখে ফেলুন

আপনার মন্তব্য