দেশী মিডিয়ায় ইনভেস্ট করতে চান?

32
SHARE

আমরা চট্টগ্রামে ফিল্ম এবং মিডিয়া কাজ শুরু করেছিলাম আজ থেকে ৬-৭ বছর আগে। চট্টগ্রামে ইনভেস্ট করার একটাই উদ্দেশ্য ছিল নতুন আরেকটি মিডিয়া সিটি গড়ে তোলা। অনেকেরই হয়তো মনে আছে “সিনে সিটি চিটাগাং” নামের একটা ক্যাম্পেইন দিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলাম আমরা।

৫ বছর পরে এসে চট্টগ্রামে বসেই আমরা কিছু সফলতা পেয়েছি। তবে সফলতাগুলো বেশীরভাগই আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে। দেশীয় ক্ষেত্রে আমরা মেইনস্ট্রিম মিডিয়াকে ইগ্নোর করেছিলাম কারণ সিন্ডিকেশন, দুর্নীতি এবং নানা ধরনের মার-প্যাচের কারনে। তাই অল্টারনেটিভ মিডিয়া হাব তৈরী করার জন্যই চট্টগ্রামকে বেছে নিয়েছি। সব কিছু ঢাকায় কেন হবে? চট্টগ্রামে কেন নয় – এটা আমাদের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ছিল।

সাহস করে আমি মাঠে নেমে পড়েছিলাম। দেখতে চেয়েছিলাম কিছু হয় কিনা। আজ এত বছর পরে এসে আমি বলব আমরা অনেক ক্ষেত্রেই সফল। যদি না হ হতাম তাহলে আমাদের অস্তিত্ব এতদিন থাকত না। স্বীকার করতে দোষ নেই, প্রথম দিকে অনেক ধকল পোহাতে হয়েছিল। এটা সব ক্ষেত্রেই স্বাভাবিক।

তবে, আমরা একটা ব্যাপার খুব আশা করেছিলাম। সেটি হলো, অন্তত আমাদের দেখাদেখিতে অনেকেই চট্টগ্রামে মিডিয়া হাব তৈরী করার জন্য আগ্রহী হবেন। অনেকেই চেষ্টা করেছেনও। কিন্তু সবাই কেমন জানি শুরু করার আগেই শেষ করে ফেলেছেন। অততটা সিরিয়াসলি নেয়নি। ইচ্ছা হলো করলাম টাইপের। কিন্তু আমরা চেয়েছিলাম চট্টগ্রাম থেকে ব্যাপারটা সিরিয়াসলি নেয়া হবে। অনেক মানুষকেই দেখিয়েছি হাইপে উঠে শুরু করে আবার থেমে গেছেন। এই ব্যাপারটা আমাদের একটু হলেও ভাবিয়েছে।

আমার একটাই সাজেশন, যারা নতুন করে এই লাইনে এসে কাজ করতে চান, অন্তত বাংলাদেশে, তারা অল্টারনেটিভ মিডিয়ার কথা চিন্তা করেই আসুন। মেইন স্ট্রিম আপনাকে অতটা হেল্প করবে না। আপনার প্ল্যানিংটা যদি অল্টারনেটিভ হয়, সময় একটু বেশী লাগলেও সফলতা আসবেই। ছোট পরিসরে হলেও আসবে।

আমি এখনও কাজ করে যাচ্ছি চট্টগ্রামকে একটা সিনে সিটি হিসেবে তৈরী করার জন্য কিন্তু আমার একজনের চেষ্টা যথেষ্ট না। একা একজন আর কিই বা করতে পারে? চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা এবং ইনভেস্টররা এসবে আগ্রহী না। উনাদের বলে বোঝানো যায় না এসব ব্যাপার। কাচা টাকাতেই সবাই বিশ্বাসী কিন্তু এই লাইনে অনেক বেশী দুরদর্শনের প্রয়োজন হয়। আমাদের দেশী মিডিয়াতে এখন ইন্ডাস্ট্রী লিডার বলতে কিছু নেই। কাউকে না কাউকে সেটি হতে হবে। সেটি আপনিও হতে পারেন।

বাংলাদেশের ১৭ কোটি মানুষ একটি বিশাল বাজার। সিনেমা বলেন আর নাটক, ঠিক জায়গায় ঠিক প্রোডাক্ট তৈরী করতে পারলে এই বিশাল জনগোষ্ঠী আপনার জন্য বিশাল এক এসেট। আর চট্টগ্রাম হতে পারে আপনার কাজের কেন্দ্রবিন্দু।

এখানে অফিসের খরচ কম, যাতায়তের খরচ কম, অফিসের জন্য বড় স্পেস পাওয়া যায় আর হ্যাঁ, সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো ডাইভারসিটি…। শুটিং লোকেশনের অভাব নেই। যেখানেই ক্যামেরা ধরেন সেখানেই এক একটি ছবি – এটি মনে হয় আমরা প্রমান করে দিয়েছি অনেক আগেই। অনেকেই কমপ্লেইন করবেন যে চট্টগ্রামে সেলিব্রিটি নাই। আরে! সেলিব্রিটি কেউ মায়ের পেট দিয়ে হয়ে আসে নাকি? সেলিব্রিটি নিজেই তৈরী করে নিন – প্রবলেম সল্ভড। টম হ্যাঙ্কসকে দিয়ে সিনেমা করতে চাইলে তাকে হলিউড থেকে ডেকে আনতে পারেন। আর বাকীদের আপনারা চট্টগ্রামের মেধাবীদের দিয়েই তৈরী করে নিতে পারেন।

যদি কোন ইনভেস্টর বলে থাকেন যে এসব ভুয়া কথা, চট্টগ্রামে এসব কিছু হবে না, তাঁদের আমি আমন্ত্রন জানাব এন আর পি বিজনেস সেন্টার অর্থাৎ আমাদের অফিসে ঘুরে যাবার জন্য এবং নিজের চোখে দেখার জন্য সেটি কিভাবে সম্ভব। সিনেমা বানিয়ে সেই ইনভেস্টমেন্ট তুলে আনার মত মিডিয়া আমাদের আছে – মেইন স্ট্রিম থাকুক আর না থাকুক – আরও অনেক উপায় আছে। আমরা করছি। আপনারাও পারবেন।

আমি এখনও চাই চট্টগ্রাম বাংলাদেশের মিডিয়া সিটি হবে এবং আমি এখনও কাজ করে যাচ্ছি। আমরা অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছি। আর বেশী দেরী নেই। অচিরেই অনেক কিছু বুঝতে পারবেন আপনারা। আর চট্টগ্রামে বসেই আমরা কি করেছি বা করে যাচ্ছি তার একটু স্নিকপিক দেখতে চলে যান আমাদের ইউটিউইব চ্যানেলে – YouTube.com/bangladeshism

ভাল থাকুন।

আপনার মন্তব্য