এদের উচ্চ শিক্ষার অধিকার থাকা উচিত না

33
SHARE

ডেস্ক : কদিন আগে শুনলাম লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় দুই শিক্ষার্থী মেধাতালিকায় উতীর্ণ হয়েছে। প্রাথমিক তদন্ত শেষে পুনরায় পরীক্ষা গ্রহণ করা হলে তাদের মেধার দৌড় কতটুকু তা বের হয়ে পড়ে।

কয়েক বছর আগে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে বড় ধরনের জালিয়াতির খবর প্রচার পেয়েছিল। সে সময় এটা নিয়ে ব্যাপক আন্দোলন-সংগ্রামও করেছিলেন বঞ্চিতরা।

এবার শুনছি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষায় অন্যের মাধ্যমে পরীক্ষা দিয়ে ২য়, ৩য়, ৫ম ও ১৭৭তম হয়েছেন চার পরীক্ষার্থী!

এছাড়াও প্রায়ই শোনা যায় যে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা উচ্চ শিক্ষার প্রতিষ্ঠানে জালিয়াতির মাধ্যমে ভর্তি পরীক্ষায় উতীর্ণ হওয়ার কথা। কিংবা নিজের পরীক্ষা অন্যজনের মাধ্যমে দিয়েও উতীর্ণ হওয়ার অনেক ঘটনা প্রকাশ হয়। এবার যেমনটি ঘটেছে জাবিতে।

পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, জাবিতে সোমবার ‘সি’ ইউনিটের কলা ও মানবিকী অনুষদ ও ‘ই’ ইউনিটের বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের মৌখিক পরীক্ষা দিতে আসলে মূল উত্তর পত্রের সঙ্গে তাদের দেয়া তথ্য ও স্বাক্ষরের গড় মিল থাকায় শিক্ষকরা তাদের আটক করেন।

এদের মধ্যে ইনস্টিটিউট অব ইনফরশেন টেকনোলজি (আইআইটি) এক শিক্ষার্থী পালিয়ে গেছেন। অভিযুক্তরা হলেন, ‘সি’ ইউনিটের ২য় স্থান অধিকারী নাটোরের কাদিরাবাদ ক্যান্টনমেন্ট সাফার কলেজের রাকিবুল ইসলাম, ৩য় স্থান অধিকারী টাঙ্গাইল জেলার মাহমুদুল হাসান কলেজের তপু সাহা ও ‘ই’ ইউনিটের ১৭৭তম রকিবুল হাসান।

টাঙ্গাইলের রাজু নামে একজনকে ২ লাখ টাকা দিয়ে পরীক্ষা দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন তপু সাহা। তার বাবা রনজিৎ কুমার সাহাও বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

আসলে যারা শিক্ষা জীবনেই এমন জালিয়াতি আর প্রতারণার আশ্রয় নেয়, তারা উচ্চ শিক্ষা নিয়ে দেশের কী উপকারে আসতে পারেন? প্রতারকদের কাছ থেকে দেশের চাইবার কী থাকতে পারে?

আর এই প্রতারকরা শিক্ষিত হয়ে কোনো পজিশনে গেলেও তো একই কাজ করবেন। কেননা, প্রতারণা ছাড়া এদের আর কোনো যোগ্যতাই তো নেই। তাই এরা জাতির কলঙ্ক ছাড়া আর কি হতে পারেন?

সে কারণেই বলি, আসলে এদে উচ্চ শিক্ষার অধিকার থাকাই উচিত না।

এমনকি যারা এদের সহায়তা করেন, তাদেরকেও বিশ্ববিদ্যালয় বা উচ্চ শিক্ষার প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে বের করে দেওয়া দরকার।

আপনার মন্তব্য