হিজাব রাজনীতি

32
SHARE

সোহেল হাবিব : ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে মুসলমান নারীদের ধর্মীয় পোশাক নিষিদ্ধ করেছে। কোনো কোনো স্থানে আবার নিষিদ্ধ না হলেও বোরকা কিংবা হিজাব পরিহিত নারীদের দেখলে তাদের অপদস্ত করা হচ্ছে।

এক দল উশৃঙ্খল আর অসভ্যের কারণে ইউরোপ এবং আমেরিকার বিভিন্ন শহরে মুসলিম নারীরা শালীন পোশাক পরে ঘর থেকে বেরুতে গিয়েও নানা টেনশনে ভোগছেন।

কিন্তু এটা যে এক ধরনের অসভ্যতা সেটা পশ্চিমাদের কিছু সংখ্যক মানুষও বুঝতে পারছেন। ফলে তারাও মুসলিম নারীদের বোরকা কিংবা হিজাব পরার পক্ষে দাঁড়িয়েছেন। তারাও মুসলিমদের পাশে দাঁড়িয়ে অসভ্য বর্বরদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছেন। কেউ কেউ তো নিজেরাই বোরকা কিংবা হিজাবও পরতে শুরু করেছেন।

কিন্তু এরপরও থামছে না অসভ্যতা। বিভিন্ন দেশে কট্টরপন্থী রাজনীতিবিদদের উত্থানের কারণে সেটা ছড়িয়ে যাচ্ছে এক দেশ থেকে আরেক দেশে। ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিরাও প্রকাশ্যে এদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না ভোট হারানোর ভয়ে।

মনে হচ্ছে সেই একই ভয়ে জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গোলা মারকেলও তাদের দলে নাম লেখিয়েছেন।

অথচ, কদিন আগেও সিরিয়ার শরণার্থীদের নিজ দেশে আশ্রয় দিয়েছেন বলতে গেলে পুরো ইউরোপের বিরুদ্ধে গিয়ে। কিন্তু কট্টর পন্থীদের বিরুদ্ধে গিয়ে শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়ে ভোট বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে তার দল। স্থানীয় সরকার এবং অন্যান্য নির্বাচনে ইতোমধ্যে তার দলের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে কট্টরপন্থীরা।

সম্ভবত সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে চাইছেন তিনি। সে কারণেই মুসলিম নারীদের বোরকার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে কট্টরপন্থীদের মন জয় করার চেষ্টা করছেন। মারকেল বলেছেন, আইনগতভাবে সম্ভব হলে তার দেশে পুরো মুখ-ঢাকা বোরকা পরা নিষিদ্ধ করা উচিত, কারণ এটা জার্মানির সংস্কৃতির সাথে মেলে না।

মিসেস মারকেল তার পার্টির সম্মেলনে দেয়া ভাষণে বলেন, জার্মান সংস্কৃতিতে মহিলাদের মুখ সম্পূর্ণ ঢেকে রাখা বেমানান – যেমনটা বোরকা মুসলিম মহিলাদের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে।

এখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন করা যায় যে, সংস্কৃতি বলতে আসলে কী বোঝায়? শুধু কি নিজেদের আচার-আচরণ, ধ্যান-ধারণার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকাটাই কি সংস্কৃতি? মোটেই না, বরং নিজেদের নিজস্বতা বজায় রাখার পাশাপাশি অন্যের বিশ্বাস অবিশ্বাসের প্রতি শ্রদ্ধাবোধও সংস্কৃতির শিক্ষা।

তাহলে মারকেল যে সংস্কৃতির কথা বলছেন সেটা আবার কেমন সংস্কৃতি?

আপনার মন্তব্য