প্লাস্টিক থেকে তেল উৎপাদনে বাংলাদেশি বিজ্ঞানী সাফল্য

73
SHARE

বিশ্বজুড়ে পরিবেশ বিপর্যয়ের এক অন্যতম কারণ হচ্ছে প্লাস্টিক পণ্য। বিশেষ করে প্লাস্টিকের ব্যাগ, বোতল, প্যাকেটসহ ঘর-গৃহস্থালীর জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় সব পণ্যই আজকাল প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি হচ্ছে।

কিন্তু এসব পণ্য দামে সস্তা হলেও খুব বেশিদিন টেকসই হয় না। ফলে দ্রুতই পরিত্যাক্ত হয়ে নালা-নর্দমায় গিয়ে পতিত হয়। কিন্তু প্লাস্টিক পণ্য ভঙ্গুর হলেও পচনশীল নয়। তাই নালা-নর্দমায় আটকে গিয়ে ব্যাহত করে পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা।

পরিত্যাক্ত প্লাস্টিক মাটির উর্বরতা শক্তিকেও ক্ষয় করে। ফলে ব্যাহত হয় উৎপাদন ব্যবস্থা। ভূমিকম্পে পরিত্যাক্ত প্লাস্টিক ক্ষয়ক্ষতি বাড়িয়ে দেয়। সব মিলিয়ে পরিবেশে শত্রু এই প্লাস্টিক। কিন্তু দামে সস্তা এবং বহনেও সহজ হওয়ায় দিন দিন প্লাস্টিকের ব্যবহার বাড়ছেই। সেই সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে পরিবেশ দূষণও।

তাই এর বিকল্প ব্যবহারের উদ্ভাবন নিয়ে যেমন বিজ্ঞানীরা ভাবছেন, তেমনি পরিত্যাক্ত প্লাস্টিক সম্পর্কে করণীয় নিয়েও তাদের ভাবনার সীমা নেই।

তবে বিভিন্ন দেশের ডাকসাইটে বিজ্ঞানীদের টেক্কা দিয়ে বাংলাদেশেরই এক শিক্ষক আবিষ্কার করে ফেলেছেন পরিত্যাক্ত প্লাস্টিকের এক অনন্য ব্যবহার পদ্ধতি। বিশেষ প্রক্রিয়ায় পরিত্যাক্ত প্লাস্টিক থেকে জ্বালানি তেল তৈরি করেছেন তিনি। এই তেলে সকল প্রকার যানবাহন, সেচ পাম্পসহ জ্বালানি হিসাবে ব্যবহার করা যাবে। এ ছাড়া এ প্রক্রিয়ায় উৎপাদিত গ্যাস থেকে বিদ্যুৎও উৎপাদন করা যাবে।

পরিত্যক্ত পলিথিন ব্যাগ থেকে ডিজেল ও পেট্রোল তেল উৎপাদন কৌশলটি আবিষ্কার করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মোহম্মাদ মাহমুদুর রহমান। তিনি পরীক্ষামূলকভাবে ৩০ গ্রাম প্লাস্টিক ব্যাগ থেকে ১৫ মি.লি. জ্বালানি তেল উৎপাদন করেছেন।

গবেষণা তথ্য মতে, এ প্রক্রিয়ায় ১ কেজি প্লাস্টিক থেকে আধা লিটার তেল উৎপাদন সম্ভব। এই তেলসম্পূর্ণ সালফার মুক্ত। এ প্রক্রিয়ায় ১৭% গ্যাস, ৪৩% পেট্রোল, ২৩% কেরোসিন, ১৪% ডিজেল এবং ৩% কার্বন রেসিডিউ তৈরি হয়।

ড. রহমান জানান, এ প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত লাভজনক হবে, কারণ প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত ক্যাটালিস্টটি তৈরির কাঁচামাল সস্তা ও সহজলভ্য। উৎপাদিত মিশ্রিত তেল প্রক্রিয়াজাত করার মাধ্যমে আলাদা করে প্রতি লিটার ৩০ টাকা হারে বাজারজাত করা সম্ভব।

আবিষ্কারক জানিয়েছেন, প্রাথমিক অবস্থায় স্বল্প পরিসরে একটি মেশিন থেকে প্রতি মাসে কমপক্ষে ৩০০ লিটার তেল উৎপাদন করা যাবে। বড় পরিসরে প্রতি মাসে লাখ লাখ লিটার তেল উৎপাদন করা সম্ভব।

আমরা আশা করি, মি. রহমানের এ অনন্য আবিষ্কারের সফল ব্যবহার করা গেলে জ্বালানি খরচ কমানোর পাশাপাশি বিশ্বকে বাঁচানো যাবে পরিবেশ বিপর্যয় থেকেও।

Latest Video Release

বাংলাদেশের টাইগারদের উৎসর্গ করে বাংলাদেশীজম প্রজেক্ট তৈরী করেছে একটি বিশেষ ভিডিও। নীচে ভিডিওটি দিয়ে দিলাম। দেখে ফেলুন

আপনার মন্তব্য