সাঁওতাল এবং পুলিশ

27
SHARE

সাঁওতালদের ঘরে বা লোকালয়ে পুলিশের আগুন দেয়ার একটি ছবি গত বেশ কদিন ধরে বাংলাদেশের স্যোশাল নেটওয়ার্ক করে অস্থির করে রেখেছে। চারিদিকে পুলিশ নিয়ে চরম বিতৃষ্ণা। বিদেশী নিউজ চ্যানেলেও দেখানো হলো ব্যাপাওরগুলো। পুলিশ বাহিনী হয়ে গেল এখন ভিলেন বাহিনী। ঘটনার তদন্তেরও নির্দেশ দেয়া হলো। ব্যাপারগুলো অত্যন্ত দুঃখজনক এবং যদি সত্য হয়ে থাকে, তাহলে ব্যাপারটা খুব খারাপ হয়েছে। একটি অপরাধও বটে তবে সেটি নির্ধারন করার জন্য আমাদের এই লেখা না।

যখন সাঁওতালদের সাথে পুলিশের এই ব্যাপারটা স্যোশাল নেটওয়ার্কে ক্রিটিসিজমের ঝড় তুলছে সেসময় সাইড লাইনে, কারো চোখে না পড়ার মত করেই আরো একটি ব্যাপার দেখা যাচ্ছিল। পুলিশ বাহিনীর একজন সদস্য একটি ছোট মেয়ে কোলে তুলে নিয়ে কাদতে কাদতে কোথায় যেন যাচ্ছেন। বর্ননা পড়ে বুঝা যায় তিনি বাচ্চা মেয়েটিকে বাঁচানোর জন্য উদ্ধার করে নিয়ে যাচ্ছেন।

Image may contain: one or more people and outdoorচট্টগ্রামে একজন পুলিশ বাহিনীর সদস্য আছেন যিনি নিজ দায়িত্বে নান ধরনের সামাজিক কাজ করেন যেমন ভাঙ্গা রাস্তায় ইট দেয়া, অনাথ কোন পথশিশুতে পাশে বসিয়ে খাওয়ানো, ঠান্ডায় কম্বল বিতরন করেন নিজের সামান্য বেতনের টাকা শেয়ার করে। এমন না যে তিনি পুলিশের বেশ বড় কর্তা।

গুলশান হামলার ঘটনার পর পুলিশ বাহিনীকে দেখেছি ভয়-ডর সব ঝেড়ে ফেলে ঝাপিয়ে পড়তে সন্ত্রাসী নিধনে। গুলি আসছে, বোমা আসছে কুন্তু গায়ে ঠিক মত একটা বুলেটপ্রফ জ্যাকেট ছাড়াই ফায়ারিং রেঞ্জে চলে যেতে শুধু মাত্র মানুষের নিরাপত্তার জন্য। এরপর বেশ কটি সফল জঙ্গি দমন অভিযান। আহত-নিহত হয়েছেনও কেউ কেউ।

আমাদের এ কথাগুলো বলার মানে এই না যে আমরা কোন অন্যায়কে প্রশ্রয় দিচ্ছি বা আর কিছু বা কাউকে সাপোর্ট করে কথা বলছি। সব মানুষেরই বিবেক আছে। সব পুলিশেরও আছে। কম-বেশি হতে পারে কিন্তু আছে। মানুষ মাত্রই বিবেক থাকতে হবে। কিন্তু পুলিশ বাহিনীর বিবেকের আগে বিচার করতে হয় তাঁদের উপর আসা নির্দেশনা থেকে। তাঁদের সমস্ত কার্যক্রম চলে কোন না নির্দেশনা থেকে। এমনটাই হয় এবং এটাই নিয়ম। নির্দেশনা ছাড়া কিভাবে চলবে এত বড় একটা বাহিনী। অন্যের অর্ডার শুনতে শুনতে চলে যায় তাঁদের চাকুরী জীবনের বেশীরভাগ সময়।

বাংলাদেশীজম প্রজেক্টে আমরা সবসময় পুলিশ বাহিনীকে আমাদের সুপার-হিরো হিসেবেই দেখাতে চেয়েছি। সবসময় নানা ভাবে তাঁদের ভাল কাজগুলোর সাপোর্ট করেছি এবং হাইলাইট করেছি। আমাদের বিশ্বাস ছিল এবং এখনও আছে যে আমাদের ছোট খাটো এসব চেষ্টায় হয়তো কেউ না কেউ অথবা অনেকেই ইন্সপায়ারড হবেন। এনকারেজড হবেন। বাহবা পাবেন। তাঁদের নিয়ে তো সবাই শুধু ক্রিটিসাইজ করেন। আমরা না হয় একটু ভিন্ন হলাম।

সাঁওতালদের ঘরে আগুন দেয়ার ঘটনাটার ব্যাপারে খুব বেশী জানিনা, ছবিতে দেখেছি এবং বুঝে নিয়েছি যা বুঝার। কিন্তু আমরা একটু মনে করিয়ে দিতে চাই, পুলিশ বাহিনীকে এখনও আমরা সুপার-হিরো মনে করি বা করতে চাই এবং আমাদের এই বিশ্বাস তারা তাঁদের সেই ইমেজটি ধরে রাখতে পারবেন অথবা সেই পরিচয়টি এস্টাব্লিশ করতে পারবেন নতুন করে আরো শক্তিশালী করে। হয়তো একদিন পুরো দেশের মানুষের কাছে পুলিশ বাহিনী হয়ে উঠবে সুপার হিরো। শুধু দরকার একটু চেষ্টা আর তাঁদের বাহবা দেয়া। এ কাজটা থামাবেন না। ক্রিটিসিজিমও চলুক, কিন্তু তাঁদের ভাল কাজের প্রশংসাটাও যেন থাকে আরো বোল্ড হয়ে। সবাইক খারাপ না। সবাই সমান না। এটাই মনে রাখবেন।

আপনার মন্তব্য