শেষ হলো জঙ্গী মারজানের অধ্যায় – আবারো পুলিশের সফল অভিযান
January 6, 2017
Bangladeshism Desk (767 articles)
Share

শেষ হলো জঙ্গী মারজানের অধ্যায় – আবারো পুলিশের সফল অভিযান

ঢাকার মোহাম্মদপুরে পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে জেএমবির সামরিক শাখার প্রধান জঙ্গী কমান্ডার নুরুল ইসলাম মারজান এবং তার সহযোগী সাদ্দাম নিহত হয়েছে। এখবর অনেকটাই পুরোনো হয়ে গেছে। এই মারজানকেই গরু খোজা হচ্ছিল অনেকদিন ধরে। মারজান ছিল জেএমবির সবচেয়ে কম বয়সী কমান্ডার। আর সাদ্দাম ছিল রংপুরে জাপানি নাগরিক ওসিও কুর্নি হত্যা, পঞ্চগড়ের পুরোহিত জগেশবর হত্যা, কুড়িগ্রামের নব্য খৃষ্ঠান হুসেইন আলী ও রংপুরের বাহাই নেতা হত্যা চেষ্টা মামলার আসামী।

এতদিন মারজান কোথায় লুকিয়ে ছিল এটা পুলিশ সূত্রে এখনও জানা যায়নি তবে পুলিশের ক্রমাগত জংগি অভিযানে নাস্তানাবুদ এসব জংগী বাহিনী ক্রমাগত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে এই পর্যন্ত পুলিশের প্রায় সবকটি জংগী অভিযান সফল হওয়ার কারনে বাংলাদেশে জংগীরা অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়ে আর তারা অনবরত আস্তানা পরিবর্তন করতে থাকে।

যখনই এধরনের কোন অভিযানে পুলিশের সফলতা দেখতে পাই, তখনই বাংলাদেশীজমের তরফ থেকে ধন্যবাদ দেয়ার জন্য আমরা অস্থির হয়ে যাই। কারণ তারা এটি তাদের পাওনা।
১২ অগাস্ট এক সংবাদ সম্মেলনে মারজানকে ওই হামলার ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে বর্ণনা করে মনিরুল বলেন, নব‌্য জেএমবির অন‌্যতম শীর্ষ এই নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করেই হলি আর্টিজানের ভেতর থেকে রক্তাক্ত লাশের ছবি বাইরে পাঠিয়েছিল।
পুলিশ যাকে নব‌্য জেএমবির মূল নেতা এবং সাম্প্রতিক জঙ্গি কর্মকাণ্ডের হোতা বলে আসছিল, সেই কানাডীয় পাসপোর্টধারী বাংলাদেশি নাগরিক তামিম চৌধুরীসহ তিনজন গত ২৭ অগাস্ট নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ায় পুলিশের অভিযানে নিহত হন।

এরপর ১০ সেপ্টেম্বর আজিমপুরের আরেক জঙ্গি আস্তানা থেকে তিন জঙ্গির স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়; তাদের মধ‌্যে মারজানের স্ত্রী আফরিন ওরফে প্রিয়তিও ছিলেন বলে জানানো হয় পুলিশের পক্ষ থেকে।

এর মধ‌্যে পাবনায় মারজানের বাবা নিজাম উদ্দিনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও তার ছেলের কোনো খোঁজ পাচ্ছিল না পুলিশ।

বৃহস্পতিবার রাতের ঘটনার বিবরণ দিয়ে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের উপ কমিশনার মহিবুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, গোপন তথ‌্যের ভিত্তিতে তাদের ইউনিট রাতে বেড়িবাঁধ এলাকায় একটি চেকপোস্ট বসায়। এরপর রাত ৩টার দিকে তারা মোটর সাইকেলে করে সেখানে আসেন আর পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা গ্রেনেড ছোড়ে ও গুলি করে। পুলিশও চ্যালেঞ্জ করে গুলি ছুড়ে এবং ২জন আহত হয়। পরে, তাদের লাশ হাসপাতালে আনলে তাদের মৃত ঘোষনা করা হয়।

আবারো প্রমান হলো – বাংলাদেশে এসব ব্রেইনওয়াশড মানসিক বিকারগ্রস্ত জংগীদের কোন স্থান নেই। হোক না আমরা গরীব দেশ, কিন্তু জঙ্গি দমনে সবচেয়ে বেশী এগিয়ে আছি, অনেক ক্ষেত্রে উন্নত দেশের চাইতেও।

ছবি – বিডি নিউজ টুয়েন্টি ফোর।

আপনার মন্তব্য