ইসরায়েলকে ‘শক্ত’ থাকতে বললেন ট্রাম্প, কেরি দিলেন হুঁশিয়ারি।কি হবে এখন

41
SHARE

ফিলিস্তিন ইস্যুকে কেন্দ্র করে দ্বিমত দেখা দিয়েছে নবনির্বাচিত ডোনাল্ড ট্রাম্প ও যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ি প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রশাসন এর মধ্যে। ট্রাম্প তার ক্ষমতা গ্রহোনের পূর্বেই ইসরাইলকে পূর্ণসমর্থণ দিয়েছিল। আর বিপরীতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি ইসরায়েলের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।তিনি বলেছেন বসতি স্থাপন বন্ধ না হলে সংকট আরো বাড়তেই থাকবে।
গত ২৩ ডিসেম্বর (শুক্রবার) জাতিসংঘেরর নিরাপত্তা পরিষদে ইসরাইয়েলি বসতিবিরোধি প্রস্তাব প্রসঙ্গ নিয়ে ভেটো অনুষ্ঠিত হয়।এতে সম্পূর্ণ নিরব ভূমিকা পালন করেন ওবামা প্রশাসন।এমনকি ভেটো দেয়ার পরিবর্তে ভোটদান থেকে বিরত থেকে ইসরায়েলকে বাঁচানোর যুক্তরাষ্ট্রের এই দীর্ঘদিনের পুরানো কৌশলকেও অকার্যকর করে দেন ওবামা প্রশাসন।
অন্যদিকে ডোনালড ট্রাম্প ইসরায়েলকে পুরোদমে সমর্থন জানিয়ে ক্ষমতা গ্রহোণের আগ পর্যন্ত শক্ত থাকতে বলেছেন এক টুইট এ। ইসরায়লের সাথে মলিন হয়ে যাওয়া পুরানো মিত্র সম্পর্কের নতুনমাত্রায় পুরোদ্যমে জোড়ালাগার আভাস পাওয়া যায় এতে ।

ট্রাম্পের এই টুইটের কিছুক্ষণ পর ৭০ মিনিটের দীর্ঘ একটি ভাষণে ইসরায়েলের বসতি স্থাপনের তীব্র সমালোচনা করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি। ভাষণে তিনি নিন্দা প্রস্তাবে ভেটো না দেওয়ার কারণও তুলে ধরেন। কেরি বলেন, ‘অধিকৃত ফিলিস্তিন অঞ্চলে ইসরায়েলের অব্যাহত বসতি স্থাপনের নিন্দা করে নিরাপত্তা পরিষদে যে প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাতে কোন বাধা দেয়নি। কারণ, দুই রাষ্ট্রের মধ্যে সুসম্পর্ক স্থাপনে এছাড়া আর বিকল্প কোনও উপায় ছিলনা বলে মনে করেন। তিনি আরো বলেন প্রতিবেশীদের সঙ্গে যাতে শান্তি ও নিরাপদে ইসরায়েল টিকে থাকতে পারে, সেই চেষ্টায় তারা করছে। এই ভেটো ছিল ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের উন্নয়নের জন্যেই।

কেরি আরও বলেন, ‘এমন সংকটপূর্ণ অবস্থা চলতে দেয়ার মানে হল ফিলিস্তিন ইসরায়েলের পূর্ণ দখলে যাওয়া আর দুটি রাষ্ট্রের বদলে একটি রাষ্ট্র টিকে থাকা। এছাড়াও আরব জনসংখ্যা যেভাবে দ্রুতগতিতে বাড়ছে তাতে ইসরায়েলের পক্ষে একই সঙ্গে ইহুদি ও গনতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়া প্রায় অসম্ভব।

অন্যদিকে ডোনাল ট্রাম্প ইসরায়েলকে এভাবে অসমর্থন করাকে ‘অসম্মান’ ও ‘তুচ্ছতাচ্ছ্যিল্য ‘ করা হয়েছে বলে মনে করেন।তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র হিসেবে ইসরায়েলকে পরিপূর্ণ সমর্থন দেওয়া উচিত।

ট্রাম্প প্রশাসন ও ওবামা প্রশাসন এর এমন বিপরীতমুখী প্রতিক্রীয়ায় কি হতে পারে ইসরায়েলি ও যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক তাই এখন দেখার বিষয়।

 

আপনার মন্তব্য