ইন্টারনেট গেম যদি হয় সন্তান হত্যার কারণ!!!

39
SHARE

ইন্টারনেট আসক্তি আপনজনকেও করে দেয় পর।কিভাবে??? ইন্টারনেট আজ ডিজিটাল যুগে সময় কাটানোর এক অন্যতম মাধ্যম হয়ে দাড়িয়েছে।চলার পথে, ভ্রমণে কিংবা একাকিত্বের নিজস্ব সময়গুলোতে বিরক্ত কাটানোর এক অদ্ভূত ম্যাজিকেল প্রক্রিয়া হল সোসিয়েল নেটওয়ার্কগুলো। আজকাল মানুষের মাঝে কোন কর্মব্যস্ততা না থাকলেও সবাই ব্যাস্ত থাকছে এই সোসিয়েল নেটওয়ার্ক নিয়ে। এমনকি একই ছাদের নিচে বসবাস করেও পরিবারের অন্য সদস্যদের সাথে বাড়ছে দূরত্ব। তথ্য-প্রযুক্তির এই উন্নতির সাথে সাথে আমাদের জীবনযাত্রা অনেকটা সহজ হলেও ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের মূল্যবোধ ও পারিবারিক বন্ধনগুলো। জীবনকে সহজপথে এগিয়ে নিয়ে যেতে সোসিয়েল নেটওয়াক এর এই মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার কোথায় নিয়ে যাচ্ছে আমাদের? আসুন দেখি বাস্তব পর্যবেক্ষণগুলো কি শিক্ষা দেয় আমাদের? দক্ষীণ কোরিয়ায় ইন্টারনেট আসক্তির জন্য একের পর এক হত্যা, আত্নহত্যা ও মৃত্যুর ঘটনা নতুন কিছু নয়।কোরিয়ার তেমনি একটি শহরে ইন্টারনেট গেম খেলায় ক্লান্ত হয়ে যাওয়া মাকে তিন বছরের শিশু সন্তান যখন প্রচণ্ড ক্ষুদায় খাবারের জন্য বিরক্ত করছিল,ক্লান্ত মা তখন রাগের বসে তার সন্তানকেই খূন করে বসে। একই বছরে আরেকটি একই ঘটনা ঘটে।পড়ালেখা ছেড়ে সারাদিন ককম্পিউটার এ গেমস্ নিয়ে পড়ে থাকায় মা যখন ছেলেকে তীরস্কার করছিল,রাগে হিতাহীত জ্ঞানশূণ্য হয়ে মাকে খুন করে পরে নিজেই আত্নহত্যা করে। আমাদের দেশেও এমন ঘটনা কম নয়, ইন্টারনেট এরর ভুল ব্যবহারের মাধ্যমে কিশোর কিশোরীরাই যে শুদু বিপদগামী হচ্ছে তা নয়, অনেক প্রাপ্তবয়স্করাও ভুলপথে যেয়ে সমাজ সংসার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছেন যার বেশিরভাগ প্রভাবে ধ্বংস হয়েছে ব্যাক্তিগত জীবন। এমনি এক প্রতিচ্ছবি কিশোরগঞ্জ এর রুবিনা (প্রতীকি নাম)।পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় একই এলাকার ছোটখাট ব্যবসায়ী জামসেদ (প্রতীকি) এর সাথে।ভালই ছিল দুজনের ছোট একটি সংসার। সকল ভালর মাঝে হঠাৎ বাঁধা হয়ে দাড়াল ইন্টারনেট।ব্যবসায়ের কাজে জামসেদকে বাইরে থাকতে হত বলে রুবিনা স্মার্টফোনের দৌলতে এাকাকিত্ব ঘুচাতে ফেইসবুকের শরণাপন্ন হয়।পরিচয় হয় দিনাজপুরের তারেক (প্রতীকি) এর সাথে।প্রথমে এই সম্পর্ক বন্ধুত্ব থাকলেও পরবর্তীকালে অনেক গভীরতায় রূপ নেয়।যার ফলাফল হিসেবে রুবিনা তার সুখের সংসার ছেড়ে পাড়ি জমায় অজানা ইন্টারনেট প্রেমিকের টানে। রুবিনাকি আদৌ সুখী হতে পেরেছিল? মোটেওনা।সেই ধোঁকা খেয়েই ফিরতে হল।শুধু হারিয়ে ফেলল সোনায় মোড়ানো সুখের সংসার। এরকম অসংখ্য ঘটনা রয়েছে যেগুলো বলে দিচ্ছে আজ আমরা কতটা বিপর্যস্ত।এভাবে চলতে থাকলে কোথায় যেয়ে দাড়াবে আমাদের মূল্যবোধ।ভালবাসার বন্ধনগুলো যদি এভাবে হারাতে থাকে তাহলে ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য কি রেখে যাব আমরা?পারিবারিক বন্ধনের স্বাদকি তারা আদৌ পারবে বুঝতে? এখন প্রশ্ন হচ্ছে কি এমন মায়া আছে যে সকল বন্ধন তুচ্ছ করে মানুষ ঘন্টার পর ঘন্টা আটকে থাকছে এই ইন্টারনেট এর মিথ্যাজালে? আমেরিকার বিখ্যাত মনোবিজ্ঞানী ড. ডেভ গ্রীনফিল্ড তার এক ব্যক্তিগত গবেষণা পরবর্তিতে জানিয়েছেন -অনেকগুলো বিষয় ইন্টারনেটকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে যার অন্যতম মাধ্যম হল মাল্টিমিডিয়া। আজকাল মানুষ মাল্টিমিডিয়ার দৌরাত্নে টেলিভিশন দেখার মত অনুভূতি পাচ্ছে।এছাড়াও ইন্টারনেট এর নানামুখী সুবিধার জন্য মানুষ নতুন নতুন মুখের সাথে পরিচিত হতেই বেশী আগ্রহী। তাহলেকি এভাবেই ইন্টারনেট এর মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারেই ধীরে ধীরে ছিন্ন হয়ে যাবে সম্পর্কের বাঁধনগুলো? নাকি সম্পর্ক বাঁচাতে ইন্টারনেট ব্যবহার ছেড়ে দিতে হবে?কি বলেছেন গবেষকরা? বিভিন্ন গবেষকদের মতে পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় করতে ইন্টারনেট থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার কোন প্রয়োজন নেই তবে এর ব্যবহার কমাতে হবে। সম্প্রতি বয়োলজিকাল জার্নাল প্লাস ওয়ানে প্রকাশিত এক গবেষণা নিবন্ধে উল্লেখিত হয়েছে, সপ্তাহে ২৫ ঘণ্টার বেশি সময় ইন্টারনেটে থাকলে একটা সময় দেখা যাবে নিজের অজান্তেই পরিবার থেকে আলাদা হয়ে যাচ্ছে যার ফলাফল হবে ভয়াবহ। গবেষকরা আরে বলেছেন সপ্তাহে ২৫ ঘণ্টার বেশি সময় যারা ইন্টারনেটে ব্যস্ত থাকেন তারা একটা সময়ের পর একাকীত্বে ভোগেন। পরিবারের সকল সদস্যদের মধ্যে থেকেও তারা একাকী বোধ করেন। এর ফলে জন্ম নিতে পারে হীনমন্যতা, বিষন্নতায় ভোগাসহ অনেক জটিল মানসিক সমস্যা। এই যুগে ইন্টারনেটের ব্যবহার যেমন বাদ দেওয়া সম্ভব না, তেমনি সম্ভব না পরিবারের সাথে বন্ধন ছিন্ন করা। তাই ইন্টারনেটের সুফল-কুফল বিবেচনা করে গড়ে প্রতিদিন তিন ঘণ্টার বেশি ইন্টারনেট ব্যবহার করা উচিত নয়।

আপনার মন্তব্য