এমন কিছু ইতিহাস যা ঘটেছে কিন্তু আমরা বিশ্বাস করিনা

আমরা সবসময় কেন  যেন ভুল্ ধারণাগুলো একটু বেশিই ভালবাসি। যখন ইন্টারনেট থেকে ইতিহাস সম্পর্কিত কোন নিবন্ধ সংগ্রহ করি,মাঝে মাঝে মনে হতে পারে সেগুল ভুল ও হতে পারে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে সত্যিই  আমরা ভুল ধারণা পেয়ে থাকি। কিন্তু মাঝে মাঝে এই ঐতিহাসিক  ভুল ধারনাগুলোই এতটা সত্যি হয়ে যায় যা আমাদের কল্পনাতীত। আসুন জেনে নিই এমনি কিছু ১০ টি ঐতিহাসিক ভুল ধারণা।

 

১০. যখন রোম পুড়ছিল নিরো তখন বেহালাবাদকের অভিনয় করছিল:

ইতিহাস পর্যালোচনা করে কয়েকটিরও বেশি নিবন্ধ থেকে জানা যায়,রোম যখন জ্বলছিল নিরো মোটেও বেহালা বাজাচ্ছিলেন না।কারণ বেহালাতো তখন আবিষ্কারই হয়নি।বেশিরভাগ এর মতানুসারে,কি করে নিরো বেহালা বাজাবে যখন এটার অস্তিত্বই ছিলনা পৃথিবীতে। যেখানে সবার সাথে নিরোকেও আটোক করা হয়েছিল। এটি যদিও অনেকটাই কাল্পনিক তবুও কারো  কারো  মতে নিরো সরাসরি বেহালা বাজাচ্ছিল না তবে অদৃশ্যভাবে ঠিকই আশেপাশে বেহালায় মগ্ন ছিল। বিভিন্ন রোমান ঐতিহাসিকরা বিভিন্নভাবে রোমের আগুন লাগার গল্প করেছেন। এদের মধ্যে কেসিও ডিও ও সুইটনিয়াস নিরোকে মহান বানাতে বলেছেন,বেহালা বাজান একটি মহান পেশা। নিরোই এটি শুরু করেছিল কিন্তু মানুষ সেটাকে ভালোচোখে দেখেনি। শুধুমাত্র টেচিটাস নামের একটি উৎস দাবি করেছে নিরো আসলেই মানুষকে সাহায্য করেছে।

আমরা আসলেই জানিনা যখন রোম পুড়ে যাচ্ছিল নিরো তখন সত্যিই কি করেছিল,তবে এটুকু আমরা সবাই জানি পরবর্তীতে নিরোর জন্য সবার ঘৃণাময় দৃষ্টি ছিল।

 

৯.কেলিগুলা শুধুমাত্র রাষ্ট্রের কাজের জন্য তার ঘোড়া ব্যাবহার করেছেন:

রোমান ঐতিহাসিক সুইটনিয়াস তার লোমহর্ষক গল্পের মধ্যে কেলিগুলাকে নিয়ে যে বর্ণনা দিয়েছেন তা ছিল নজরকাড়া। যদিও আমরা ডাহা মিথ্যে হিসেবে জানি তবুও আখন সুইটনিয়াসের সেই কেলিগুলার গল্পটি আবারো শুনবো।

আমরা কি করে জানি যে  এটা সত্যি নয়। আমাদের বেস্ট ঐতিহাসিকবিদ সুইটনিয়াস এর গল্প পরে একে শুধু উন্মাদ বলে ব্যাখ্যা করেছেন। যদিও  কেলিগুলাকে নিয়ে এটি ছিল খুবি মজার এবং রোমাঞ্চকর গল্প। সঠিক তথ্য না পাওয়াতে অনেকে এটাকে সত্যি বলেই মনে করেন।

 

৮.স্পারটানরা বিকৃত শিশুকে হত্যার কারণেই সবাইকেই ধ্বংস হতে হয়েছে:

গ্রীক লেখক প্লুটারক  বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখ করেছেন ,স্পারটনরা কোন বিকৃত শিশু জন্মালেই তাকে সাথে সাথে হত্যা করত। যদিও ২০০০ বছর পরে  প্রত্নতত্ত্ববিদরা মাটি খুড়ে কোন শিশুর মৃত দেহ খুজে পাইনি। সেক্ষেত্রে ধারনা করা হচ্ছে স্পারটন্সদের নামে খারাপ কথা ছড়াতেই এমনটা বলেছে প্লুটারক । আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্লুটারক নিজেই এই বিকৃত শিশু হত্যাকে সমর্থন জানিয়েছে বলে সত্যতা পাওয়া যাই।

৭.প্রকাহন্টাস এ জন স্মিথ এর জিবন বাচিয়েছিল:

কিছু মানুষের কথানুসারে প্রকাহন্টাস এর জন্যই কেপ্টেইন জন স্মিথ এর জীবন বেচেছিল। এই কথা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই। কারণ জন স্মিথ এর প্রথম ইংলিশ সেটেলমেন্ট এ প্রকাহন্টাস এর সাথে তার সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। আর জন ২৫০ বছর আগে লিখা জন স্মিথ এর বইয়ে প্রীতি মেয়ে প্রকাহন্টাস্কে নিয়ে যে বর্ণনা পাওয়া গেছে তাতে মিথ্যার কোন সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি।

 

৬.জুলিয়াস সিজার এর সর্বশেষ উক্তি ছিল ‘তুমিও ব্রুটাস’ :

Displaying 6a-death-of-caesar.jpg

কিছু পয়েন্ট অনুসারে জুলিয়াস এমন কিছু বলেছিল কিনা সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। এটি শেক্সপিয়ারের গল্পের উদ্ধৃতি ছাড়া আর কিছু নয় বলে লোকে মনে করেন। তবে রোমান ঐতিহাসিকদের মতে,আসল উদ্ধৃতি হল “kei su tekhnon”(তুমিও শিশু)।এখানে শিশু বলতে ব্রুটাসকেই ধারণা করা হয়েছে বলে সবাই মনে  করেন। আবার কিছু ক্ষেত্রে কেসারস আদৌ কিছু বলেছিল বলে আমরা কোন প্রমান পাইনি। তবে এটি শেক্সপিয়ারের অন্যতম উদ্ধৃতি ছিল তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

 

৫.ফেরাউনদের তাদের চাকরদের সাথে সমাধি দেয়া হত:

কিছু কিছু শকিং ভুল ধারনানুযায়ি ফেরাউসদের মোটেও তাদের চাকরদের সাথে কবর দেয়া হত না। কারণ ফেরাউসরা একাই মৃত্যুবরণ করত। প্রাচীন মিশরের নিয়ম অনুযায়ী কোন ফেরাউস মৃত্যুবরণ করলে তাদের পরকালীন সুবিধার জন্য সাথে চাকরদের ও হত্যা করে আশেপাশে কবর দেয়া হত,প্রত্নতাত্তিকবীদরা এর সত্যতাও পেয়েছেন। কিছু কিছু ফেরাউসদের কবরের আশেপাশে আরো প্রায় ৪১ টি কবর পাওয়া যায় যাদের মধ্যে ছিল শিশু ও কমবয়সি মানুষ যাদের স্বাভাবিক কারণে মৃত্যু হইনি। এদের বেশিরভাগ ই শ্বাসরোধ করে মরেছে বলে জানা যায়। যদিও ৩০০০ বছর পরে মিশরীয়দের এমন দানবীয় নিয়ম বিলুপ্ত হয়ে গেছে।

 

৪. পিথাগোরাসের অস্তিত্ব:

কিছু কিছু লোকের মতে পিথাগোরাসের অস্তিত্ব বলতে কিছুই নেই।কারণ এমন কোন রেকর্ড পাওয়া যাইনি যেখানে পিথাগোরাস তার নিজেকে নিয়ে কিছু লিখেছে। পিথাগোরাস সম্পর্কে যা কিছু  শোনা যায় সবই কিছু অনুসারি থেকে পাওয়া যায়। সক্রেটিস এবং কনফুসিয়াস সম্পর্কে তাদের অনুসারীরা যতোটা জোরালো প্রমাণ দিয়েছে পিথাগোরাসের তেমন কোন অনুসারী পাওয়া যায়নি।

 

৩.ম্যাছিভেলি দ্যা প্রিঞ্চ হঠাত ই বিদ্রুপ হয়নি:

ম্যাছিভেলি দ্যা প্রিঞ্চ একটি রিপাব্লিকেন এর বই। এই বইয়ে কিভাবে রাজনৈতিক ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে ব্লাডলাইন শাসন নিযুক্ত করা যায়। যা পরবর্তীতে সবার কাছে ধীরে ধীরে বিদ্রুপের কারণ হয়ে দাড়ায়।

 

২.অ্যাজটেকরা নরমাংসভোজি ছিলনা কারণ তাদের যথেষ্ট প্রোটিন ছিলনা:

অনেকদিন ধরে আমরা অ্যাজটেকদের স্বজাতির  মাংস খেতে শুনেছি। কিন্তু কিছু কিছু ঐতিহাসিকদের মতে,অ্যাজটেকরা মোটেও নরোমাংসভোজি ছিলনা। কারণ মানুষের মাংসে যথেষ্ট প্রোটিন রয়েছে। কিন্তু বেশিরভাগ অ্যাজটেকরা দুর্বল স্বাস্থ্য ও প্রোটিনের অভাবে মারা যেত বলে শোনা যাই। তারা মানুষের মাংসই যদি ক্ষেতো তাহলে প্রোটিন এর অভাবেই কেন মারা যেত? যদিও প্রাচীন তথ্য অনুযায়ী অ্যাজটেকরা তাদের দেবতার খুশির জন্যে মানুষ উৎসর্গ করতো বলে প্রমাণ পাওয়া যায়।

 

১.প্রত্নতাত্তিকবিদরা কখনও প্রমাণ দিতে পারেনি যে ইহুদিরা মিশরে ছিলনা:

Zeev Herzog একবার লিখেছিলেন ইস্রায়েলিরা মিশরে থাকলেও ইহুদিদের অস্তিত্ব ছিলনা। কিন্তু বাইবেলের আলোকে যাচাই করলে কিছু কিছু ক্ষেত্রে মিশরে ইহুদিদের যথেষ্ঠ আলামত দেখা যায়। কিছু কিছু প্রত্নতাত্তিকদের মতে ইহুদিরা মিশরে স্থায়ীভাবে বসবাস না করলেও মিশর ভ্রমণ কিংবা মিশরের মরুভুমির বালুময় পথ দিয়ে  অবশ্যই তারা ভ্রমণ করেছেন।

 

কিছু কিছু ইতিহাস জড়ানো ভুল শুধু ভুল ই নই।আমাদের অস্তিত্তের সঙ্গেও এরা মিশে গেছে অবিচ্ছেদ্য হিসেবে।তাই ভুল জেনেও আমরা এগুলকেই বিশ্বাস  করি।

 

আপনার মন্তব্য
(Visited 1 times, 1 visits today)

About The Author

Bangladeshism Desk Bangladeshism Project is a Sister Concern of NahidRains Pictures. This website is not any Newspaper or Magazine rather its a Public Digest to share experience and views and to promote Patriotism in the heart of the people.

You might be interested in