ফ্রিল্যান্সিং এ কিভাবে প্রতিষ্ঠিত হবেন?

49
SHARE

ফ্রিল্যান্সার জাতীয় অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই সকল উদ্যোক্তারা জিডিপি এর অন্তর্ভুক্ত যা আমাদের জন্য অত্যন্ত লাভজনক এবং তাদের নিজস্ব মেধা আর চেষ্টা দিয়ে কি করে ভাগ্যকে পরিবর্তন করেছে তা আমাদের সকলের জন্যে অনুসরণের প্রতিমূর্তিও বটে। নিজেকে কি করে একজন ভাল ফ্রিল্যান্সার করতে হয় এবং একজন সফল ফ্রিল্যন্সার কোন প্রচেষ্টায় নিজের ক্যারিয়ারকে সফলতার পাহাড়ের চুড়ায় নিয়ে ক্যারিয়ার ভাগ্যকে পরিবর্তন করেছেন তা নিয়েই রয়েছে  আজকের কিছু ইনফোগ্রাফিক নির্দেশনা।

# একজন ফ্রিল্যান্সারের জীবনঃ

ফ্রিল্যান্সার বলতে কি বোঝায় তার সংজ্ঞা দিয়েই একজন ফ্রিল্যান্সারের জীবন শুরু হয়। আপনার ভূমিকা আপনার জন্য যতটা না কাজ করবে তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ একজন নিয়োগকর্তার সঙ্গে আপনার নিযুক্ত থাকা। আপনি একই সময়ে আপনার ইচ্ছেমত একের অধিক ক্লায়েন্টদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন এবং আপনার ইচ্ছেমত আপনার জন্য প্রাপ্য নির্ধারণ করতে পারেন। তবে সবকিছু নির্ভর করছে আপনি কতটা আত্মবিশ্বাসের সাথে এবং কতটা সময় নিয়ে কাজ করছেন।

একজন সফল ফ্রিল্যান্সার হওয়ার সুবিধাগুলো হচ্ছে নিজের যোগ্যতার যথেষ্ট মূল্যায়ন করা, যোগ্যতানুযায়ী উত্তম জীবনের জন্য সুবিধা লাভ করা আর অনেক টাকা উপার্জন করা। এছাড়াও আরো একটি সুবিধা হলো আপনার বাড়ি থেকে কফিশপ যেকোনো জায়গায় বসে ফ্রিল্যান্সিং করতে পারবেন।   

 

# চোরা বিপদ্গুলো কৌশলে পরিহার করাঃ

ফ্রিল্যান্সিং এর একটি নেতিবাচক দিক হলো ,এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই যে আপনি প্রতিমুহূর্তেই যথেষ্ট কাজ পাবেন আর সেজন্যে উপযুক্ত পারিশ্রমিক ও পাবেন। এটা নির্ভর করে আপনার উপরে,আপনি  কতটা দক্ষতার সাথে আপনার ক্লায়েন্টকে মোটীভেশান করতে পারছেন এবং কতটা কাজে দক্ষতা অর্জন করতে পারছেন।

এই সকল অসুবিধাগুলো জেনে রাখলে খুব সহজেই গুপ্ত বিপদ্গুলো এড়াতে পারবেন এবং নিজেকে একজন সফল ফ্রিল্যান্সার হিসেবে গড়ে তুলতে পারবেন।

 

# ফ্রিল্যান্সার হিসেবে  প্রতিষ্ঠা পাওয়ার কৌশলগুলোঃ

একজন ফ্রিল্যান্সার হিসেবে যথেষ্ট কাজ পাওয়ার একটি অন্যতম উত্তম উপায় হল নিজস্ব একটি ব্র্যান্ড খোলা। এক্ষেত্রে আপনি নিজস্ব লোগো  ব্যবহার করে একটি প্ল্যাটফর্ম বানাতে পারেন যেখানে আপনি কি কি সুবিধা দিচ্ছেন,কতটুকু প্রাপ্য চান কিংবা আপনার কাজের দীর্ঘ বিবরণী থাকবে সেখানে।

কাজের এই কৌশলগুলো আপনাকে উত্তম ফ্রিল্যান্সার হিসেবে আপনার যোগ্যতাকে সবার কাছে সম্মানীয় আসন তৈরি করে দিবে, যার মাধ্যমে আপনি খুব সহজেয় যে কোনও ক্লায়েন্টকে  আকৃষ্ট করতে  সক্ষম হবেন।

আপনার কাজের মূল্য নির্ধারণ করার আগে বাজারমূল্য এবং চলতি মূল্য সম্পর্কে খেয়াল রাখবেন। আপনার ক্লায়েন্টের অবস্থা বুঝে আপনি আপনার কাজের দাম নির্ধারণ করবেন। এই সকল উপায়গুলোই আপনার ক্লায়েন্টকে আপনার কাছে টেনে আনবে।

আপনার পরবর্তী সিড়ি হল আপনার কাজের প্রচার করা। আপনার হাতের কাছেই অনেক পদ্ধতি রয়েছে যেগুলো দিয়ে আপনি আপনার প্রতিভার উপযুক্ত বিকাশ ঘটাতে পারেন। তবে আপনার এই সব কাজের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে আপনার ক্লায়েন্টরা যাদের মাধ্যমেই আপনি উপার্জনের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌছাতে পারেন।

 

# ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করাঃ

এই দীর্ঘ সময় সাপেক্ষ পেশাতে ক্লায়েন্টদের সাথে সম্পর্কের উন্নতির জন্যে আপনাকে কাজটি সম্পর্কে নিশ্চিন্ত হতে হবে যে আপনি কাজটি করছেন। এরপর আপনাকে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে ক্লায়েন্টকে মোটিভেট করতে হবে।  যদি বেপারটা এমন হয় যে মাঝরাতে কোন ক্লায়েন্ট আপনাকে ফোন করে তাদের কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চায় কিংবা আপনি তাদের কতটা সাহায্য করতে পারবেন সে বেপারে তথ্য সংগ্রহে আগ্রহী, সেক্ষেত্রে ধৈর্য অবলম্বন করে আপনাকে সমস্ত কিছু পরিচালনা করতে হবে। যদি আপনার ক্লায়েন্টদের আপনার প্রতি একবার বিশ্বাস স্থাপন হয়ে যায় তাহলে আর আপনার আর পিছু ফিরে তাকাতে হবেনা।

সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে চলুন এবং লক্ষ্য রাখুন সময়কে কিভাবে ব্যবহার করছেন। সময়ের সঠিক ব্যবহারই আপনাকে সাফল্যের চুড়ান্ত শিখায় পৌঁছে দিবে।

 

#অর্থ প্রদান করাঃ

যদিও বেশিরভাগ সময়ে ক্লায়েন্টারা আপনাকে দ্রুত পরিশোধ করবে তবুও কিছু কিছু সময়ে এর ব্যতিক্রম ও হতে পারে। সেক্ষেত্রে আপনার বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগিয়ে ক্লায়েন্টদের থেকে নিশ্চিন্ত হোন যে তারা বিশ্বাসযোগ্য। প্রয়োজনবোধে পেশাদার ব্যবহার করুন। কারণ পৃথিবীর সকল মানুষের চিন্তা ভাবনা এক নই। কিছু কিছু ক্লায়েন্ট হতেই পারে যারা আপনার সরলতার সুযোগ নিলেও নিতে পারে। এক্ষেত্রে অনলাইন ব্যাংকিং সিস্টেম ব্যবহার করুন যাতে ক্লায়েন্টদের সাথে দ্রুত লেনদেন করতে পারেন। মনে রাখবেন অসৎ ক্লায়েন্টরা আপনার ফ্রিল্যান্সিং কেরিয়ারের অন্যতম বাধা। এদের কার্যক্রমে  আপনার কাজের প্রতি আত্মবিশ্বাস চলেও যেতে পারে। তাই  বর্তমানে একজন ক্লায়েন্ট এর সাথে প্রোজেক্ট অসমাপ্ত রেখে নতুন কোনো কাজে হাত লাগাবেননা। এতে আপনারই সমস্যা বাড়বে বই কমবেনা।

 

# ফ্রিল্যানসিং এর শেষ ভাবনাঃ

অনেকগুলো সুবিধা নিয়ে ফ্রিইল্যান্সিং একটি মহৎ এবং উপযুক্ত পেশা। কঠিন পরিশ্রম এর মাধ্যমে আপনি এর সকল সুবিধা ভোগ করতে পারেন। সবসময় নিজের প্রতি  আত্মবিশ্বাস রাখুন। কোনো বেপারেই গিলটিবোধ করবেননা।

যেখানে টাকাই মানুষের ভাগ্য নির্ধারণ করে সেখানে অবশ্যই অসময়ের জন্য টাকাকে সঞ্চয় করে রাখুন। কারণ কোনো একসময় আসতে পারে যখন আপনার সবচেয়ে কাছের বন্ধুই হবে টাকা।

 

 অবশেষে এটুকুই বলবো আপনার কাজকে উপভোগ করুন তা যতই সামান্য হোকনা কেনো। একদিন দেখবেন ভাগ্য আপনার প্রচেষ্টার কাছে হার মেনে আপনাকে সাফল্যের চূড়ান্ত শিখাতে নিয়ে গেছে। আপনার  সফলতা নির্ভর করে ঠিক আপনার উপরেই। আপনি নিজেকে কতটা কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে যেতে চান তা আপনার  যথাযত পরিকল্পনা প্রণয়নের উপরেই নির্ভর করে। তাই পিছিয়ে না থেকে এখুনি শুরু করুন আপনার কেরিয়ারের নতুন অধ্যায়।  

 

আপনার মন্তব্য