রিক্সার বিকল্প কি হতে পারে?

রিক্সা আমাদের দেশের জন্য একটি অতি প্রয়োজনীয় বাহন। রিক্সার দরকার হয় না এমন মানুষ কজন আছে বাংলাদেশে সেটা আসলেই গুনে গুনে বের করা যেতে পারে। তবে এই বাহনটি অনেক ধীরগতির আর দৈনন্দিন ট্রাফিক জ্যামের অনেক বড় একটা কারণও বটে। এছাড়াও, কাজটা বড়ই অমানবিক। একজন রিক্সাচালকের সামান্য টাকার জন্য যে পরিমান কায়িক শ্রম করতে হয় সেটা উনারাই সবচেয়ে ভাল বুঝতে পারবেন। আমদের দুলাইন টাইপে কিছু হবে না। অমানবিক কস্টের এই পেশাটাকেই বেছে নিতে হয়েছে অনেককেই, বেশ বাধ্য হয়ে।

মাঝে মাঝে রাস্তায় জ্যামে পড়লে অনেকেই রিক্সার উপর জিদ দেখান, রাগ দেখান, রাগারাগি আর মারামারি তো আছেই। ধীরগতির বাহনের উপর সবার রাগ। দামী পাজারো গাড়ি হতে শুরু করে সিএনজি। তখন অনেকেই বলেন, এই রিক্সাটা যেদিন তুলে দেয়া হবে, সেদিন দেশের উন্নয়নের গতি অনেক দ্রুত হবে। কথাটা একাংশে সত্যি। অর্থনীতি অনেকসময় চলাচলের গতির উপরও নর্ভর করে। প্রতিদিন ২ ঘন্টা যদি জ্যামে বসে থাকতে হয়, বাস্ততে ঐ ২ ঘন্টায় অনেকেই অনেক কিছুই করতে পারবেন যা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে দেশীয় অর্থনীতিতেই যুক্ত হবে। তবে তার মানে এই না যে অবিবেচকের মত রাস্তা থেকে রিক্সা তুলে দেয়া যাবে। সেটি যদি করা হয়, তাহলে এই মানুষগুলো কোথায় যাবে? তারা কি খাবে? কিভাবে সংসার চালাবে?

রিক্সাচালকদের পুনর্বাসন না করে কোনদিন রাস্তা থেকে রিক্সা উঠিয়ে দেয়া যাবে না। এর জন্য প্রয়োজন সুচিন্তিত প্ল্যান। এমন কিছু যা জাতীয় অর্থনীতিতেও অনেক বড় ভূমিকা রাখবে। একবার একজন আমাকে বলে ছিলেন এই ব্যাপারে “বলা সহজ, করা অনেক কঠিন…তুমি বড় দেশের কোন বড় পজিশনে থাকলে কি করতে?”। আমি বলেছিলাম যে আমি অন্তত চেষ্টা করব। যেমন, একটা নতুন ধরনের সরকারী ইন্ডাস্ট্রী বেইজ কিছু একটা যেখানে যারা রিক্সা ছেড়ে দিবেন তাদের কাজ দেয়া হবে, ট্রেনিংও দেয়া হবে। তাদের স্কিল্ড ওয়ার্কফোর্স হিসেবে গড়ে তুলতাম। অনেকটা একটি সেলফ-সাস্টেইনিং শহরের মত। একটা বিশাল এলাকা নিয়ে বেশ কিছু লাভজনক ইন্ডাস্ট্রী করে সেখানে এই চালকদের রিক্রুট করা। যার একটা আয়ের বড় একটা অংশ চলে যাবে তাদের ওয়েলফেয়ারে। যেখানে তাদের থাকা খাওয়ার জন্য বাসস্থান থাকবে, থাকবে শিক্ষার জন্য স্কুল কলেজ। একদিনে এই পরিকল্পনা কোনদিন বাস্তবায়ন হবে না। তবে বিভাগীয় পর্যায়ে আলাদা আলাদা করলে হয়তো ৫ বছরে বেশ বড় একটা সুফল পাওয়া যেতে পারে। এরকম কিছু একটা অন্তত চেষ্টা করে দেখা যায়। স্পেশাল ইকোনমিক জোনও করা যেতে পারে শুধুমাত্র রিক্সাওয়ালাদের পুনর্বাসনের জন্য। কেই চায়না এত কস্টের, এত অমানবিক কাজ করতে। যদি নতুন কিছু করার সুযোগ দেয়া হয়, তাহলে অবশ্যই করবে। আর এধরনের কাজ সরকারের তরফ থেকেই করতে হবে। এত বড় প্রজেক্ট চালানো অনেক কস্টসাধ্য ব্যাপার।

বাস্তবিক অর্থে কতটা সম্ভাবনা আছে এ ধরনের কোনকিছুর তা অনেক পরীক্ষা নিরীক্ষার উপর নির্ভর করছে। যেমন দেশ ব্যাপী কিছু সার্ভে করা যায় যেখানে রিক্সাওয়ালাদের মতামত নেয়া যায় যে তারা এধরনের কিছুতে যুক্ত হবেন কিনা। যদি অর্ধেকেরও বেশী পজিটিভ জবাব আসে, তাহলে অবশ্যই এই ধরনের পরিকল্পনা হাতে নেয়া যেতে পারে। রিক্সাবিহীন রাস্তাঘাটে অনেক ট্রাফিক জ্যাম কমে যাবে আর যানবাহনের গতি বাড়বে। দুর্ঘটনাও অনেক কমে যাবে। আর রিক্সার ঘাটতি মেটাতে পাবলিক বাস বা পাবলিক ট্রেন বাড়িয়ে দিলেই চলবে। একটি বাস কম করে হলেও ৬০ জন যাত্রী বহন করতে পারে। ৬০টি রিক্সার জায়গা নিতে পারবে একটি বাসই।

আমার মনে হয়, আমাদের এসব নিয়ে ভাবার সময় এসেছে। দেশের অর্থনীতি অনেক বড় হচ্ছে। ফুলে ফেপে উঠছে অনেক কিছু। দেশ এগিয়েও যাচ্ছে। আর এই গতিকে ত্বরান্বিত করতে হলে আমাদের ট্রাফিক সিস্টেম নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে। চাকা যেন বসে না থাকে। যাকা যেন অনবরত ঘুরতে থাকে। গাড়ির চাকা বন্ধ হলে হয়তো অর্থনীতির চাকাটাও ধীর হয়ে যাবে।

আপনার মন্তব্য
(Visited 1 times, 1 visits today)

About The Author

Bangladeshism Desk Bangladeshism Project is a Sister Concern of NahidRains Pictures. This website is not any Newspaper or Magazine rather its a Public Digest to share experience and views and to promote Patriotism in the heart of the people.

You might be interested in