বিনিয়োগ ছাড়াই ব্যবসায়ের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়ার কিছু উপায়

74
SHARE

আপনি যদি মিলিয়ন আমেরিকানকে দেখেন তাহলে আপনারও স্বপ্ন তৈরি হবে নিজের একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার। তবে সেজন্যে অবশ্যই আপনাকে ১২ টি প্রচেষ্টা করতে হবে যাতে আপনার লক্ষ্যে পোছাতে পারেন। হতে পারে আপনার যথেষ্ট প্রেরণা নেই তবুপ আপনাকে চেষ্টা করে যেতে হবে। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে টাকার জন্য ইচ্ছে থাকা সত্তেও অনেকে শুরুর আগেই থেমে যাই।

 

বিবেচনা করাঃ

ব্যবসায় শুরু করার জন্যে টাকা না থাকাটাই একমাত্র কারণ হতে পারে না। কারণ, টাকার জন্যে বিভিন্ন ব্যাংক বা সংস্থা আছে যেগুলো আপনাকে ঋণের ব্যবস্থা করে দিতে পারে। কিন্তু একটি নিজস্ব ব্যবসায় শুরু করার জন্যে আরো অনেকগুলো কারন আছে যেগুলো আপনি প্রেরণা হিসেবে নিতে পারেন। এছাড়াও এমন কতগুলো ব্যবসায় আছে যেগুলো কোন নগদ টাকা ছাড়ায় আপনি শুরু করতে পারেন। সেজন্যে আপনার প্রয়োজন কোন ব্যবসায়টি করবেন তা ঠিক করা আর সে অনুযায়ী প্ল্যান করা।

 

পরিকল্পনাঃ

আপনি ব্যবসায় শুরু করার পূর্বেই একটি পরিকল্পনা ও আর্থিক মডেল তৈরি করুন। আপনি অনেকটা বিনামূল্যেই এই কাজটি করতে  পারেন।

আপনাকে আপনার ব্যবসায়ের সুবিধার জন্যে অবশ্যই একটি লাইসেন্স নিতে হবে। তার জন্য আপনাকে কোটি টাকা ব্যয় করতে হবেনা। সামান্য কিছু টাকা দিয়েই পারেন একটি অনুমতিপত্র সংগ্রহ করতে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়গুলোর জন্যে এমন অনেক উৎস রয়েছে যেগুলো আপনাকে নানাভাবে সাহায্য করতে পারে।

 

নিজস্ব পরিচিতিঃ

আপানার ব্যবসায় শুরু করার জন্যে অবশ্যয় আপানাকে একটি নিজস্ব নাম গ্রহণ করতে হবে যে নামের মাধ্যমে অনলাইন থেকে শুরু করে সর্বক্ষেত্রে আপনাকে সবাই চিনতে পারবে।

ওয়েবসাইট তৈরিঃ

আজকাল বিনামূল্যে বিভিন্নভাবে ওয়েবসাইট খোলা যায়। তাই যত শিগ্রই সম্ভব একটি ওয়েবসাইট খুলতে হবে।

 

বাজারজাতকরণঃ

যদিও আজকাল বাজারজাতকরণ বা পরিচিতি একটি ব্যবসায়ের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ।স্বল্প খরচে এই পরিচিতি মোটেও সম্ভব নয়। কিন্তু সামাজিক মাধ্যমগুলোতে আপনি এটি বিনামুল্যেই করতে পারেন। আজকাল ফেইসবুক , ওয়াটসএপ, ইমো ইত্যাদি মাধ্যমে প্রায় বিনামূল্যেই আপনার ব্যবসায়ের প্রসার ও পরিচিতি ঘটাতে পারেন।

 

প্রোডাক্ট বা পণ্যঃ

সব ব্যবসায়েরই বিক্রয় করার জন্য কিছু পণ্যের প্রয়োজন হয় যেটির জন্য আপনার সামান্যকিছু বিনিয়োগের প্রয়োজন হয়। যাইহোক কিছু কিছু সেবা আছে যেগুলোর জন্য আপানার কোনও বিনিয়োগের প্রয়োজন লাগবেনা।

তাই বিনিয়োগ ছাড়াই কোন ধরনের ব্যবসায় আপনার জন্য উপযুক্ত তা জেনে নিন।

 

১. নিজস্ব সৃষ্টিঃ

প্রথমত, আপনার নিজের কিছু সৃজনশীলতা দিয়ে শুরু করতে পারেন যেমন ছবি আকা,ক্রাফট ইত্তাদি। আপনি আপানার তৈরি সৃষ্টিকর্মগুলো বিভিন্ন শোরুমে সাপ্লাই দিতে পারেন কোন খরচ ছাড়াই।

 

২. হোম সেবাঃ

এমন অনেক কাজ আছে যেগুলো বিভিন্ন বাড়িতে যেয়ে সেবা প্রদান করা জায়,সেজন্যে আপানার কোন হেডকোয়ার্টার এর প্রয়োজন হবেনা। খুজে দেখুন আপনার আশেপাশে এমন অনেক কিছুই আছে যেগুলোর মাধ্যমে আপনিও হয়ে উঠতে পারেন স্বাবলম্বী

 

৩.মেরামত বা দক্ষতা ভিত্তিক সেবাঃ

আপনার যদি বাড়িঘর মেরামত বা ইলেকট্রিক কাজ জানা থাকে তাহলে আপনিও পারেন আপনার যোগ্যতা দিয়ে কাজগুলো করার মাধ্যমে বিনিয়োগ ছাড়াই নিজস্ব ব্যবসায় গড়ে তুলতে।

 

৪.পরামর্শদাতাঃ

কোন কোন উদ্যোক্তা আছে যারা পরামর্শের জন্য কাওকে নিয়োগ দেন। যদি আপনি কোন বিষয়ে আপনি যথেষ্ট অভিজ্ঞ থাকেন তাহলে আপনিও পারেন পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করতে।

 

৫.পুনরায় বিক্রিঃ  

পুনরায় বিক্রি ধারনাটি একেবারেই সহজ। আপনি কিছু পুরানো প্রোডাক্ট কিনে পুনরায় সেগুলকে মেরামতের মাধ্যমে ক্রয়যোগ্য করে তুলতে পারেন।

 

৬.ক্ষুদ্রব্যবসায়ঃ

আপনার আশেপাশে অনেক মানুষ আছে যারা ছোট ছোট ব্যবসায় খুলে নিজেরা স্বাবলম্বী হয়েছেন। আপনিও পারেন আশেপাশের উৎস থেকে এরকম ক্ষুদ্র ব্যবসায় শুরু করতে। এতে আপানার অনেক বড় পরিমাণ বিনিয়োগেরও প্রয়োজন হবেনা।

 

যদিও কোন কিছু শুরুর আগে সবার কাছেই কঠিন মনে হয়। কিন্তু একটু খেয়াল করলেই আপনার আশেপাশে এমন অনেক কিছু দেখবেন যা দিয়ে আপনিও পারেন পারেন আপনার সৌভাগ্যের চাকা ঘুরিয়ে ফেলতে।

 

  

 

আপনার মন্তব্য