বাংলাদেশের সাবমেরিন কেনা এবং ভারতের “আলতো” মাথা ব্যাথা

75
SHARE

চীন থেকে যখন বাংলাদেশে দুটি সাবমেরিন হস্তান্তর করা হলো বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জন্য, সে সময় পাশের দেশ ভারতের টিভি চ্যানেলগুলোতে এ নিয়ে চলছে নানা ধরনের ট্যক শো। পাকিস্তানও কম যায়নি এক্ষেত্রে। এগুলোর বিষয় বস্তু দেখলে মনে হবে বাংলাদেশের সাবমেরিং কেনাটা এদের কেউ পছন্দ করেনি একেবারেই। ভারতীয় ট্যক শো গুলোতেই একটাই প্রশ্ন – বাংলাদেশ সাবমেরিন দিয়ে কি করবে? বাংলাদেশের তো কোন শত্রু নেই! সবাই তো মিত্র।

আবার অনেক ভারতীয় বিশেষজ্ঞ মনে করছেন এটা চীনাদের কোন স্ট্র্যাটাজিক প্ল্যান ভারত মহাসাগরে প্রভাব বিস্তার করার জন্য। তাদের ধারনা, বাংলাদেশের মাধ্যমে চীন হয়তো ভারত মহাসাগরে তাদের উপস্থিতি জানান দিতে চায়। ট্যক শো গুলোর লিংক এই পোস্টের নীচে দিয়ে দেব। তবে মোটামুটি বলা চলে বাংলাদেশের সাবমেরিন কেনার ব্যাপারটা নিয়ে ভারত একটু নার্ভাস আর পাকিস্তান কোন দুঃখে জানি উল্টোপাল্টা বকছে। যদিও তাদের কথাবার্তা ভারতের মত তবে হিংসার গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। আর আমরা সাবমেরিন কেনার পর থেকেই মিয়ানমার পাগলের মত সাবমেরিং কেনার চিন্তা ভাবনা করছে। অনেকটা মরিয়া হয়ে উঠছে তারা।

দেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা আর সামুদ্রিক সম্পত্তি গুলোকে নিরাপদে রাখার জন্য আর সশস্ত্র বাহিনীকে আরেকটু শক্তিশালী করার জন্যই বাংলাদেশের এই সাবমেরিন কেনা। এবং আমার মনে হয়, এতো সবে শুরু। বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী অচিরেই আরো অনেক শক্তিশালী হবে এবং এটা হওয়া উচিত। অনেক ভারতীয় বাংলাদেশের সাথে চীনের নতুন এই এই দহরম মহরম সম্পর্ককে ভালো চোখে দেখছেনা। চীনের প্রেসিডেন্ট যখন গত বছর বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, তখন ভারতীয় মিডিয়াগুলো কি মায়াকান্নাটাই না কেদেছিল।

মাঝে মাঝে মনে হয় আমাদের আসলে কোন ভাল প্রতিবেশী নেই। সত্যিকারের প্রতিবেশী নেই। পাকিস্তান তো আসলে প্রতিবেশী না, শত্রু রাষ্ট্র বলা চলে। অন্তত কিছু পুরোনো এবং নতুন রাজাকার ছাড়া এই দেশ পাকিস্তানকে ঘৃনা করে সগর্বে। আর ভারতের সাথে সম্পর্কটা কেমন জানি। তারা বাংলাদেশে সবসময় একটু চাপ দিয়ে চায়, একটু দমিয়ে রাখতে চায়। অনেক সময় অনেক ভারতীয়দের নানা ধরনের মন্তব্য দেখলেই তা বোঝা যায়। তবে মনে হয় না আমাদের প্রতিবেশী বা শত্রুদের চিন্তা ভাবনায় বাংলাদেশের কিছু আসে যায়। আমাদের দেশ এগিয়ে যেতে থাকবে। কেউ ঠেকাতে পারবেনা। বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক রাজনীতি এখন অনেক বেশী সুপরিপক্ক। অনেক ম্যাচিউর। বাংলাদেশ এখন ভালই বার্গেইন করতে পারে। রাশিয়া, চীন, যুক্তরাষ্ট্র্য বা ক্ষমতাধর সব দেশের সাথে বাংলাদেশ সুসম্পর্ক রেখেই চলেছে। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে, ভৌগলিক কারনে বাংলাদেশের অবস্থান খুব গুরুত্বপূর্ন আর তাই যেকোন ধরনের দর কষাকষিতে বাংলাদেশ একটু সুবিধা সবসময়ই পাবে।

সেদিন আর বেশী দূরে নেই, যেদিন বাংলাদেশ বিশ্বের শক্তিশালীর রাষ্টগুলোর মধ্যে অন্যতম হবে। আমরা আশাবাদী। আপনারা আশাবাদী তো?

ভারত – বাংলাদেশ – পাকিস্তান নিয়ে ভিডিও গুলোর লিংক –

১। ট্যক শো – https://www.youtube.com/watch?v=2BOqaLnIZ6s&t=626s
২। বাংলাদেশীজমের পাকিস্তানকে নিয়ে বানানো ভিডিও – https://www.youtube.com/watch?v=GdozHb1ZMRo
৩। ভারতকে নিয়ে বানানো ভিডিও – https://www.youtube.com/watch?v=lGAuzinXKWg
৪। মি ইন্ডিয়া মি পাকিস্তান – https://www.youtube.com/watch?v=JxFBj5kNOX0

আপনার মন্তব্য