আমেরিকায় মসজিদে আগুন, কানাডার মসজিদে সন্ত্রাসী হামলা – মুসলিমরা করলেই সন্ত্রাসী হামলা আর বাকীরা করলে শুধু হামলা?

52
SHARE

ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর সব হিসেব যেন পাল্ট গিয়েছে একেবারেই। নির্বাচনী প্রচারের সময় ট্রাম্প বলেছিল মুসলিমদের পেছনে সে ভালভাবেই উঠে পড়ে লাগবে। আর ক্ষমতা গ্রহনের ১ সপ্তাহের মাথায় তার প্রমান মিলে গেল। ৭ দেশের উপর নিষেধাজ্ঞা জারী করে মুসলমানদের আমেরিকায় ব্যান করা হলো। আর ঠিক তার পর পরই যেন তাকেই সমর্থন করে টেক্সাসে একটি মসজিদ আগুনে পুড়িয়ে দিল সন্ত্রাসীরা। তবে মিডিয়া এখন তাদের সন্ত্রাসী বলতে নারাজ? এটা কি কোন সন্ত্রাসী হামলা না? অবশ্যই এটি সন্ত্রাসী হামলা। শুধু মুসলমানদেরকেই তারা “টেররিস্ট” উপাধি দিয়ে আসছে বরাবর। অন্যরা কিছু করলে এটা শুধু হামলা। আর মসজিদ পোড়ানোর ঘটনার রেষ কাটনে না কাটতেই শুরু কানাডার ভ্যানকুয়েবরে আরেকটি মসজিদে সন্ত্রাসী হামলা হলো আর মারা গেলেন ৫ জন। তারা সবাই সেসময় প্রার্থনারত অবস্থায় ছিলেন। তবে কানাডার প্রধানমন্ত্রী সাথে সাথে একেই মুসলমানদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হামলা বলেছেন। পাশাপাশি দুই দেশের দুই নেতার কতটা অমিল!

আমেরিকা এখন বিক্ষোভের রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। সারা আমেরিকা জুড়েই চলছে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এই বিক্ষোভ। কিন্তু প্রচন্ড অহংকারী নতুন এই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পারলে আগুনে তেল ঢেলে দেয়। নিজের অবস্থান থেকে অনড় সে। বরং সব ধরনের ব্যান আরো দ্বিগুণ কড়া করতে বলে দিয়েছেন। মুসলমানদের বিরুদ্ধে তার এই ক্ষোভ অনেকটা ব্যাক্তিগত এজেন্ডাতে রুপ নিয়েছে। তার Racism সকল ধরনের মাত্রা ছাড়িয়েছে। কেন জানি মনে হচ্ছে নতুন আক কালো যুগের সূচনা হয়েছে। ক্ষোদ আমেরিকার মিডিয়া ট্রাম্পকে সাক্ষাত শয়তান বলে অভিহিত করছে।

তবে আমার মনে হয় এটা সবে শুরু। আরো অনেক মুসলিম দেশকে অচিরেই ব্যান বা নিষিদ্ধ করা হবে। এমনও হতে পারে, আমেরিকার মুসলিম নাগরিক এবং গ্রীন কার্ড হোল্ডারদের বেরও করে দিতে পারে। ট্রাম্পের অদূরদর্শী চিন্তাভাবনা অনেকটা এমনই ইঙ্গিত দিচ্ছে। বাংলাদেশঈ মুসলিম দেশের মধ্যে পড়ে। যদিও সন্ত্রাসবাদ দমনে আমাদের সাফল্য ইর্ষনীয়। তবে ট্রাম্পের এই জঘন্য কার্যকলাপ সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে না, সরাসরি মুসলমানদের বিরুদ্ধে। তাই, ব্যান লিস্টে যেকোন মুহুর্তে বাংলাদেশ সহ আরো অনেক মুসলিম দেশের নাম চলে আসতে পারে।

ট্রাম্পের এসকল র‍্যাডিকাল কার্যকলাপের ভবিষ্যত কি? এই মুহুর্তে তা কেউ চিন্তাও করতে পারছে না এগুলোর ইফেক্ট কি হবে। তবে ভাল কিছু যে হবে না সেই ব্যাপারে সবাই নিশ্চিত। এখন কথা হলো, আমেরিকার জনগন কি মেনে নিবে ট্রাম্পের এমন স্বইরাচারী মনোভাব? আপনাদের কি মনে হয়? রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাহীন এই নতুন এই প্রেসিডেন্টের অপরিপক্কতা হয়তো খুব খারাপ কিছুই ঈংগিত করছে। তবে এখন কিছু করারও নেই কারণ ক্ষমতা তো তাদের হাতেই। পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষমতাধর রাষ্ট্র বলে কথা। আর তার সাথে যুক্ত হয়েছে আমেরিকার চিরশত্রু রাশিয়া। আমেরিকা এবং রাশিয়া একসাথে কাজ করছে – এমনটা কেউ কল্পনা করতে পারে?

তবে একটা জিনিষ হবার সম্ভাবনা অনেক আছে। সেটি হলো, দুনিয়ার নেতা হিসেবে আমেরিকার যে একটি জায়গা ছিল সেটি হয়তো হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে ট্রাম্পের অপরিপক্কতার কারনে। আর সেই জায়গাটা দখল করে নিতে পারে চীন। হয়তো ট্রাম্প অচিরেই চীনের সাথে কোন ধরনের দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়বে।

আপনাদের কি মনে হয়? ট্রাম্পের আমেরিকা কিভাবে মুসলিম বিশ্বকে এবং অন্যান্য দেশগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে? আগামী কয়েকবছরে ঠিক কোথায় যাবে পৃথিবী?  এটি নিয়ে আমাদের একটি ভিডিও আছে। নীচে জুড়ে দিলাম, সময় থাকলে দেখে নিবেন আর নিজেদের মতামত জানাবেন।

আপনার মন্তব্য