ডোনাল্ড ট্রাম্প কি কোন যুদ্ধের সূচনা করছে?

ক্ষমতায় আসার ২ সপ্তাহ এখনো ঠিক মত হয়নি তার আগেই নানা ধরনের আইনি জটিলতায় পড়ে গেছেন আমেরিকার সর্বকালের দাম্ভিক আর বদমেজাজি প্রেসিডেন্ড ডোনাল্ড ট্রাম্প। ক্ষমতা গ্রহণের দিন হতে শুরু হয়েছে বড় বড় সব আন্দোলন। এর মধ্যেই তার প্রায় সবধরনের পদক্ষেপই সমালোচনার শিকার হয়েছে। নানা দেশের রাষ্ট্র প্রধানদের সাথে তার রুড় আচরণ খোদ তার নিজের দলের লোকজনকেই দ্বন্দ্বে ফেলে দিয়েছে। এমনকি আমেরিকার পরম বন্ধু অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীর মুখের উপরে ফোন রেখে দেয়া বা মেক্সিকোতে সৈন্য পাঠানোর হুমকি – কোন কিছুই বাদ নেই। পুরো পৃথিবী এখন ট্রাম্প রোষানলে ফুঁসছে। ৭ টি দেশের মুসলমানদের আমেরিকায় ব্যান করে ট্রাম্প তার বিদ্বেষী মনোভাব বেশ স্পষ্টভাবেই জানান দিচ্ছে। আর এ নিয়ে আমেরিকার আদালতের সাথে জড়িয়ে পড়েছেন দন্ধে। আদালত ট্রাম্পের সেই আদেশ কিছু সময়ের জন্য বাজেয়াপ্ত করেছে আর ফলশ্রুতিতে সেসব দেশের নাগরিকরা এখন আবারো আমেরিকায় ঢুকতে পারছেন।

তবে এটাই শেষ না, কারণ ট্রাম্প ইতিমধ্যেই তার রেসিস্ট মনোভাব সবার সামনে তুলে ধরেছেন। আর অচিরেই যে তার আর অনেক ধরনের আদেশ আসতে পারে মুসলিমদের বিরুদ্ধে সেটা সহজেই বুঝা যায়। বিলিয়নার এই ব্যবসায়ী প্রেসিডেন্টকে অনেকেই ধোঁকাবাজ বলছেন মিডিয়াতে। নিজের রিপাবলিকান দলের লোকজনও তার উপর ক্ষেপা। ট্রাম্পের প্রচণ্ড দাম্ভিবতা আর রাজনৈতিক অদূরদর্শিতা আমেরিকাকে অনেক বিপজ্জনক করে তুলছে – এমনটাই ধারনা বেশীরভাগ মানুষের। ইতিমধ্যে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ৩০% এর নীচে নেমে এসেছে ২ সপ্তাহের মাঝেই! প্রেসডেন্সিয়াল বিচার বা ইমপিচ করার কথাও অনেকেই বলছেন।

নানা টিভি চ্যানেল ট্রাম্পকে ১৪ বছরের বাচ্চার সাথে তুলনা করছেন, প্রেসিডেন্ট পদের জন্য ট্রাম্প নাকি মোটেই ফিট না। যেকোন মুহুর্তে ট্রাম্প যুদ্ধ লাগিয়ে দিতে পারেন বলেই মনে হচ্ছে। ইরাকে সম্ভবত আবারো আক্রমণ করবে ট্রাম্প। ইতিমধ্যে ইয়েমেনে ট্রাম্পের আদেশে একটা অপারেশন হয়েছে যেটি ছিল বিশাল বড় একটু ভুল। ট্রাম্প যথেষ্ট তথ্য ছাড়াই না বুঝে ইয়েমেনে একটি অপারেশন চালাতে বলে যার কাড়নে মারা গিয়েছে ৩০ এর উপর বেসামরিক লোকজন এবং আমেরিকার একজন সৈন্য। এত কিছুর মাঝে ট্রাম্প রাশিয়ার প্রেমে অস্থির আর রাশিয়া হল আমেরিকার চিরশত্রু। ট্রাম্পের এই রাশিয়াপ্রীতি তার ব্যবসায়িক সবার্থ বলেই মনে করছে। তাছাড়া যেসব মুসলিম দেশগুলোকে ট্রাম্প ব্যান করেছে সেসব দেশের নাগরিকরা আমেরিকাতে কোন ধরনের সন্ত্রাসী হামলা এমনকি কোন বড় ধরনের অপরাধও করেনি। এসব দেশগুলোকে ব্যান করে হয়েছে কাড়ন এসব দেশে ট্রাম্পের ব্যবসা নেই – এমনটাই বলছে সিএনএন বা নিউইয়র্ক টাইমসের মত নামকরা পত্রিকাগুলো।

ইরাক, ইরান – এদুটি দেশের সাথে ট্রাম্প যেকোন মুহুর্তে আবারো যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে বলেই সবাই মনে করছে। কিন্তু এই মিহুর্তে ট্রাম্প মিত্র হারাচ্ছে তার আজেবাজে ব্যবহার আর অদূরদর্শী রাজনীতির জন্য। সারাদিন টুইটারে টুইট করলেই কি প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন হয়? টুইটারে ট্রাম্প সবাইকে সরাসরি আঘাত করে কথা বলেন। সেটি কোন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান হোক অথবা সামান্য নাম না জানা কোন মানুষ। এসব কাড়নে ট্রাম্প এখন চরম ব্যক্তিত্ব সংকটে ভুগছেন বলেও অনেকেই মনে করছেন। আমেরিকার ইমেজও নষ্ট হচ্ছে পুরো বিস্বের কাছে। বড় সব ব্যবসায়িক জায়ান্টরাও ট্রাম্পের সমালোচনায় মুখর। ট্রাম্পের কাড়নে আমেরিকা এখন বিভক্ত। ধর্মীয় বিদ্বেষের শিকার হচ্ছে মানুষ দিন দিন। আমেরিকার “সুনাম” নষ্ট হচ্ছে খুব দ্রুগতিতে।

আপনাদের কি মনে হয়? ট্রাম্প কোন দেশে নতুন করে যুদ্ধ লাগাবে আর তার ফলাফল কি হবে? ট্রাম্প কি আদৌ বেশীদিন টিকতে পারবে প্রেসিডেন্ট হিসেবে?

আপনার মন্তব্য
(Visited 1 times, 1 visits today)

About The Author

Bangladeshism Desk Bangladeshism Project is a Sister Concern of NahidRains Pictures. This website is not any Newspaper or Magazine rather its a Public Digest to share experience and views and to promote Patriotism in the heart of the people.

You might be interested in