মঙ্গল শোভাযাত্রা নিয়ে কেন বিভক্তি?

69
SHARE

নতুন বাংলা বছরের সূচনা লগ্নে আমরা অর্থাৎ বাংলাদেশীরা আবারও বিভক্ত একটি ইস্যুতে – মঙ্গল শোভাযাত্রা ইস্যু বলা যায়। প্রতিটি স্কুল কলেজ থেকে মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আর এটি নিয়ে দুটি পক্ষ সৃষ্টি হয়েছে। এক পক্ষ বলছে মঙ্গল শোভাযাত্রা হোক, আরেক পক্ষ বলছে মঙ্গল শোভাযাত্রা সংস্কৃতি বিরোধী।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আজ বলেছেন, পহেলা বৈশাখ সম্পূর্ণভাবে বাঙালি সংস্কৃতি। বাঙালি যুগ যুগ ধরে এই উৎসব পালন করে আসছে। ধর্মের সঙ্গে পহেলা বৈশাখের কোনও বিরোধ নেই”। নতুন বছরের প্রথম দিনে অনেক নিরাপত্তা মূলক ব্যবস্থাও গ্রহন করা হয়েছে এই মঙ্গলশোভা যাত্রাকে ঘিরে। অন্যদিকে, সবসময়ের মত বিরোধী দলের নেত্রীর কাছে বিরোধী কমেন্ট পাওয়া গিয়েছে। বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন – ‘বাংলাদেশের ইতিহাস-ঐতিহ্যকে ভুলিয়ে দেওয়ার জন্য নানা ফন্দি-ফিকির চলছে। বাংলা সন-তারিখ আমাদের প্রাত্যহিক জীবন, দৈনন্দিন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের অপরিহার্য অনুষঙ্গ। তাই এটি জাতীয় সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশও। সুদীর্ঘকাল ধরে গড়ে ওঠা ভাষা ও কৃষ্টির জমাট মোজাইককে ভেঙে ফেলার জন্য বিদেশি আধিপত্যবাদী প্রভুরা সাংস্কৃতিক আধিপত্য বিস্তারের জন্য মহাপরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে চলেছে। স্বজাতির ইতিহাস-ঐতিহ্যকে ভুলিয়ে দেওয়ার জন্য চলছে নানা ফন্দি ফিকির।’’

নতুন বছরের প্রথম দিনে এই মঙ্গল শোভাযাত্রা নিয়ে এখন চলছে ফেসবুক যুদ্ধও – যেখানে দুটি পক্ষ আছে একই ভাবে। বছরের প্রথম দিনে জাতি আজ বিভক্ত।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আরও বলেছেন ‘পহেলা বৈশাখ যেন শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়। সে জন্য সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। পহেলা বৈশাখ হচ্ছে একমাত্র উৎসব যা সব ধমের মানুষ একত্রে উদযাপন করে।’ তিনি বলেন, মোগল আমলে সম্রাট আকবর পহেলা বৈশাখ উদযাপন শুরু করেন। সে সময় থেকে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করা হচ্ছে। বর্তমানে তা সর্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে। বাঙালির অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে বাংলা নববর্ষ সম্পর্কিত। এই দিনে ব্যবসায়ীরা হালখাতা খোলার মাধ্যমে নতুন করে ব্যবসা শুরু করে। এ উপলক্ষে দিনটিকে উৎসবে পরিণত করা হয়।’

এবারের বর্ষবরনের মঙ্গল শোভাযাত্রাকে বিশেষ গুরুত্বের সাথেই দেখা হচ্ছে। ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান পাওয়ায় সরকারিভাবেও এবার মঙ্গল শোভাযাত্রাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।সরকারি উদ্যোগে সারাদেশে বর্ষবরণের আয়োজনেও ‍গুরুত্ব পাচ্ছে মঙ্গল শোভাযাত্রা। শুধুমাত্র ইউনেস্কোর স্বীকৃতির কারণেই নয়, জঙ্গিবাদ ও মৌলবোদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে মঙ্গল শোভাযাত্রা ভিন্ন রকমের গুরত্ব বহন করে বলে মত দিয়েছেন এই শোভাযাত্রার আয়োজনের সঙ্গে জড়িতরা।

আমরা চাই, নতুন বছরের প্রথম দিনে আমাদের ভেতর যেন কোন বিভক্তি না থাকে। ঐক্য দিয়ে শুরু হোক না কেন নতুন এই বছর। এই মঙ্গল শোভাযাত্রার ব্যাপারে আপনাদের মতামত কি? যে পক্ষেই থাকেন না কেন, সেই পক্ষে থাকার কারন গুলো কি কি?

আপনার মন্তব্য