সুস্থ শরীর অসুস্হ মন

73
SHARE

সমাজের কিছু কিছু মানুষ আছে যারা সুস্থ হয়েও অসুস্থতার উপাধী পায় ।অন্যের কাছে তাদের কর্মকান্ড বোধ্যগম্য না । আবার উল্টোও হতে পারে , হয়ত তারাই অন্যদের বুঝতে বা জানতে অক্ষম । এখন প্রশ্ন হল আসলে অসুস্থ কারা? সমাজে তো দেখা যায় সুস্থতার ছড়াছড়ি । যাদের মধ্যে আছে হিংসা, হানাহানি , জীবন দৌড় প্রতিযোগিতায় জয়ী হবার
জন্য বেপরোয়া মন , জটিলতা ,ভণ্ডামি । কি আশ্চর্য এরাই নাকি সুস্থ মানুষ ?আর যারা এসব নিয়ে চায়ের কাপে তর্ক করে না, সব কিছু সহজ ভাবে নেয়, স্পষ্টবাদী ,জীবন দর্শনকে যারা সরল রেখা মনে করে, মানবতাবোধ যাদের ধর্ম তারাই অসুস্থ বলে পরিচিতি পায়। না ভাই,এর শারিরীক ভাবে অসুস্থ না,এদের মেন্টাল বলা হয়।

মানবতা বোধ এখন পাগলামীর লক্ষন, দেখুন না ,রাস্তায় কেউ পড়ে আছে অসুস্থ হয়ে, কেউ এগিয়ে আসল না,আপনি গেলেন, লোকে বলবে না যে আপনি ভাল,বলবে আপনি পাগল।ঝামেলা নিজ কাঁধে নিচ্ছেন।তার উপর যদি উক্ত ব্যক্তি বিপরীত লিঙ্গের হয় তবে তো কথাই নেই।পাগলামীর মধ্যে চরিত্রহীন উপাধি ও জুটবে।চুপ করে থাকলে বলবে আপনি ফন্দিবাজ আবার তর্ক করলে বলবে চোরের মায়ের বড় গলা।পাড়ার মোড়ের চায়ের দোকানে আড্ডা হচ্ছে হয়তো কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত লোকদের,সবাই নিজেকে সুখী জাহির করতে ব্যস্ত। ঠিক তখনি আপনি গেলেন ও শুনতে পেলেন, যে কিনা সারা দিন রাত ছেলে আর তার বৌ এর নাকানি চুবানি খায় সে কিনা বলছে তার দৈনন্দিন আদর যত্নের কথা। আপনি সত্যটা বলতে গেলেই শুনবেন পাগল বা নেশাখোর বলে গালাগাল ।মিথ্যার সুরে সুর মেলানো হচ্ছে সুস্থতা।

যেই না আপনি মিথ্যুকের বাদ্যযন্ত্রে সত্যের সুর বসাবেন , অমনি তা বেসুরো হয়ে উঠবে। হা হা হা ভাবছেন মানবতাবোধ কেন পাগলামী হতে যাবে? সমাজের চারদিকে তাকিয়ে নিজেকে প্রশ্ন করুন তো?অাপনি কি পারবেন চলতি পথে দেখা একজন পোশাকহীন ভিখিরীকে নিকটস্হ দোকান থেকে কাপড় কিনে তাকে জড়াতে?যদি আপনার আয়ত্বের মধ্যে থাকে তারপরও কি পারবেন রাস্তার অভুক্তকে পাশের কোন হোটোলে খাওয়াতে?দামী হোটেল বাদ ই দিন না।পারবেন পথশিশুদের সংগী হয়ে কিছু সময় ওদের সংগ্রামী জীবনে পথ চলতে?পারবেন কি রাতের অন্ধকারে দাড়িয়ে থাকা কোন বারবনিতার হাতে বিনিময়হীন কিছু টাকা গুঁজে দিয়ে বলতে কিছু চাই না আমার ?উত্তরগুলো না হয় না বলা কথাই হয়ে থাক।আপনারা শুধু নিজেকেই প্রশ্ন করে উত্তর জেনে নিন।কাউকে হেয় করার জন্য আমার এই লেখা নয়।আমি নিজেই তো এই দলের একজন তথাকথিত ‘সুস্হ মানুষ’।তবুও মাঝে মাঝে বিবেক নামক অনুভূতিটি বড্ড যন্ত্রনা করে।কি করবো বলেন ,বিবেক যে খুব বেশী সত্য বলে।

লেখা ও ছবি : রোজেল কাজী

আপনার মন্তব্য