সিটিং টিকিট – স্ট্যান্ডিং টিকিট

73
SHARE

আমাদের দেশ রাজধানী ঢাকা নির্ভর। এই নির্ভরতার জন্য প্রতি দিন হাজার মানুষ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ঢাকা আসে। আর ঢাকা আসার অনেকগুলো মাধ্যমের মধ্যে রেল পথ অন্যতম।

তাই সবচেয়ে বেশি যাত্রী রেলে আসে। আমাদের দেশের রেলের মান এখন আগের থেকে অনেক ভাল এবং মানসম্মত। স্বল্প সময় ও যানজট না থাকার ফলে যাত্রীরা রেলকেই পছন্দের শীর্ষে রাখে।কিন্তু কথা হচ্ছে আমাদের রেলের টিকেট এর দাম নিয়ে। কয়েক দফা দাম বাড়িয়ে এখনও টিকেটের মূল্য জনসাধারনের হাতের নাগালে থাকলেও, আমাদের দেশে রেলের সিট যাত্রী তুলনায় কম হওয়ায় প্রায় ৫০% যাত্রী স্ট্যান্ডিং টিকেট কেটে দাঁড়িয়ে যায়। জানিয়ে রাখা ভাল, স্ট্যান্ডিং টিকেট ও সিট সহ টিকেট এর মূল্য সমান।

উদাহরণ স্বরুপ বলা যায় যে, ঢাকা থেকে ব্রাহ্মনবাড়িয়ার আন্তঃনগর মহানগর ট্রেনে টিকেট এর মূল্য ১৪৫ টাকা। আমার প্রশ্ন হচ্ছে একটা লোক সম মূল্যে টিকেট কিনে কেন দাড়িয়ে যাবে ? তাই আমি মনে করি স্ট্যান্ডিং টিকেট এর মূল্য ৫০% করা যেতে পারে। এতে যাত্রীদের কেউ বিনা টিকেট এ ট্রেনে ভ্রমণ করবে না।

এখন প্রশ্ন আসতে পারে যদি ৫০% মূল্যে স্ট্যান্ডিং টিকেট পাওয়া যায়, তবে সবাই স্ট্যান্ডিং টিকেট কাটবে।সিট সহ টিকেট কাটবে না।এই ক্ষেত্রে আগে সিট সহ টিকেট বিক্রি করতে হবে এবং সিট সহ টিকেট বিক্রির পর স্ট্যান্ডিং টিকেট বিক্রি করতে হবে। এতে যাত্রীরা বৈষম্যের শিকার হবে না।

অনেকে ভাবতে পারেন এই পদ্ধতি চালু হলে রেলের আয় কমে যাবে। কিন্তু বাস্তবে তা হবে না। কারন আমাদের দেশে এখনও অনেক মানুষ বিনা টিকেট অথবা রেলের টিটি, এট্যান্ডেন্স কে কিছু টাকা দিয়ে যাতায়াত করে। যদি স্ট্যান্ডিং টিকেট ৫০% কম মূল্যে বিক্রি করা হয়, কেউ তখন টিকেট ছাড়া ট্রেন ভ্রমণ করবে না। ফলে রেলের আয় আরো বাড়বে বলেই বিশ্বাস করি।তাই রেল মন্ত্রীর বিষয়টা নিয়ে ভাবা উচিত।আসুন সবার জন্য ঝুঁকিমুক্ত ও আরামদায়ক ভ্রমনের অংগীকারবদ্ধ হই আমরা।

লেখা – রোজেল কাজী

আপনার মন্তব্য