গনপরিবহন ও আসন

81
SHARE

গত কিছু দিন যাবত ঢাকা শহরের অন্যতম প্রধান সংবাদ ছিল গন পরিবহন ও সিটিং সার্ভিস।যাত্রীদের কাছ থেকে সিটিং সার্ভিসের নামে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়,ভাড়ার পরিমান দুরত্ব ভেদে ৩/৪ গুণ ও ছিল।ভাল সংবাদ হল সিটিং সার্ভিস নামে যাত্রীদের অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ হয়েছে।ফলে রাজধানীতে আর কোন সিটিং সার্ভিস নেই।যা রাজধানীবাসীর জন্য খুবই ভাল সংবাদ। গনপরিবহনের ভাড়া আদায়ের খবর সকল পত্রিকা, টেলিভিশন নিউজের প্রধান খবর হলেও কখনো গনপরিবহনের আসন সমস্যা নিয়ে কেউ খবর তৈরী করে না।সবাই ভাড়া বৃদ্ধি পেলে আন্দোলন করে কিন্তু গনপরিবহনের আসনের যে নাজেহাল অবস্থা তার জন্য কারো কোন মাথা ব্যাথা নেই। কোন সংবাদ হয় না আপনি কিসে বসে যাচ্ছেন,কত টুকু মানসম্মত বাসের বসার সিট,বসে কতটুকু জায়গা পাচ্ছেন, সাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন কিনা এসব নিয়ে কোন খবর হয় না।যেন এসব অব্যবস্হা বাস যাত্রীদের প্রাপ্য।

ঢাকা শহরের গুটি কয়েক বাস ছাড়া বাকি সব বাসের আসনের অবস্থা এত বাজে যে ভাল করে বসা যায় না। আসন গুলো এত কাছাকাছি যে সামনের আসনে পা লেগে যায়, হাল্কা ব্রেক কষলেও পা সামনের আসনের আঘাতপ্রাপ্ত হয়। মাঝে মাঝে এর থেকেও বড় দূর্ঘটনার শিকার হয় যাত্রীরা।বাসে সচরাচর প্রতি সারিতে পাশাপাশি দুই জন বসার জায়গা থাকে, কিন্তু তা দুজনের জন্য উপযুক্ত না ।এই অল্প পরিমান জায়গায় দুই জনের জন্য বেশি সময় যাতায়াত করা খুবই কস্টকর হয়ে পড়ে।ঢাকার জ্যামের অবস্থা সবারই জানা, ২০ মিনিটের রাস্তা যে কখন ১ ঘন্টার রাস্তা হয়ে যাবে কারোই বলা সম্ভব না। আর এই সময় স্বল্প জায়গার আসনে বসে থাকা খুবই কস্টকর।গরম কালে তো কস্টের পরিমান আরো বেড়ে যায়।তাছাড়া প্রতিটা মানুষের শারিরীক গঠনও এক না।ভাল স্বাস্থ্যের লোকদের এই আসনে বসা খুবই কস্টের।মহিলা যাত্রীদের আসন সংখ্যাও সীমিত।যার ফলে অন্য আসনে বসলে তাদের কুরুচিকর পুরুষ যাত্রীর কাছে হেনস্হার শিকার হতে হয়।যাত্রীরা আসন থেকে উঠতে বসতেও হরহামেশা পকেটমারের কবলে পড়ছে। কিন্তু যাত্রীদের এসব অসুবিধা দেখার কেউ নেই। বাসের যাত্রীদের নুন্যতম মানসম্মত যাত্রী সেবা প্রদানে বাস মালিক ও পরিবিহন শ্রমিকদের বড্ড অনিহা।যাত্রীরা যেন পরিবিহন মালিক শ্রমিকদের হাতে অদৃশ্য জিম্মি।
এখনই সময় বাংলাদেশ সড়ক পরিবিহন কর্তৃপক্ষের বাসের আসন সমস্যার সমাধানে এগিয়ে আসার ।যাতে যাত্রীরা মানসম্মত আসনে বসে একটু স্বস্তিতে ও নিরাপদে নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে।

আপনার মন্তব্য