বাজিকর ও জুয়ার আসর

92
SHARE

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগ (আইপিএল) এর দশম আসর চলছে।ক্রিকেটের বড় বাজেটের আসর এই আইপিএল।ক্রিকেট বিশ্বের প্রায় সকল বড় তারকা খেলে আইপিএলে। খেলা বিশ্বমানের হওয়ায়, আইপিএল ইন্ডিয়ার ঘরোয়া ক্রিকেট লীগ হয়েও এখন সারা বিশ্বের ক্রিকেট খেলুড়ে দেশে এর জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। আইপিএলের এই আসর বাংলাদেশেও বেশ জনপ্রিয়।
কিন্তু আমাদের দেশের জুয়ারি ও বাজিকরা খেলার আনন্দ নেওয়ার থেকে বাজিতে ব্যস্ত থাকে।আইপিএলে সাধারণত দিনে দুই টা খেলা থাকে।বিকেল ৪.৩০ ও সন্ধ্যা ৭.৩০ থেকে খেলা শুরু হয়।খেলা শুরুর আগেই দোকান, ক্লাব, ফাঁকা স্থানে খেলা দেখার নামে আইপিএলের খেলার উপর বাজির ও জুয়ার আসর বসে। উঁচু শ্রেণী থেকে নিচু শ্রেণীর অনেকেই জুয়ার বাজিতে ব্যস্ত থাকে মাস ব্যাপী চলতে থাকা আইপিএলের খেলায়।
কিন্তু দুঃখের বিষয় হল স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জুয়া ও বাজিতে আসক্ত হয়ে পড়ছে।যা খুবই চিন্তার বিষয়।বাজি সাধারণ দুই বা তার অধিক ব্যক্তির মধ্যে ধরা হয়।কোন নির্দিষ্ট ওভারে কত রান আসবে, কোন বলে চার, ছক্কা বা আউট হবে, কোন দল ম্যাচ জিতবে এসবের পূর্বানুমান করে বাজি ধরা হয়।তাদের বাজির ধরন অনেকটা এমন,ধরুন সাত ওভারে কয়েকজন বাজি ধরল যে ১০ রান আসবে। এর বিপরীতে সে ৫০০ টাকা বাজি ধরল।তার অনুমান ঠিক হলে সে ৫০০ টাকা দিয়ে ১০০০ টাকা পাবে।আর বাজি হারলে সে ৫০০ টাকা হারল।অর্থ হলো, যে জিতলে সে ২গুন টাকা পেল। ২গুন টাকারর নেশাতেই মূলত বাজিতে আসে মানুষ। আমি বলব বাজি খুবি বাজে নেশা। কারণ বাজিতে আজ রাজা তো কাল ফকির।
আর এতে শিক্ষার্থীরা আসক্ত হয়ে পরায় আমাদের যুব সমাজের জন্য তা একটি হুমকি স্বরূপ। শিক্ষার্থীরা অভিভাবকদের কাছ থেকে বিভিন্ন ভাবে ছলনা করে টাকা এনে বাজিতে টাকা লগ্নি করে। বাজি হেরে অনেকেই চুরি ছিনতাইয়ের মত অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়ছে। অনেকে বার বার বাজি হেরে হতাশায় মাদক দ্রব্যের মত নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ছে।আবার বিনোদন হিসাবে খেলা চলাকালীন নেশা করছে ।
অভিভাবকদের অবশ্যই তার সন্তান কার সাথে মিশছে, তার টাকার চাহিদা অস্বাভাবিক কিনা তার দিকে খেয়াল রাখতে হবে। তাই প্রয়োজনের অতিরিক্ত টাকা না দেওয়াই ভাল। প্রশাসনের যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বাজি ও জুয়ার আসর গুলো বন্ধের ব্যবস্থাসহ যারা বাজি ও জুয়ার আসর বসাচ্ছে তাদের শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

আপনার মন্তব্য