চট্টগ্রামবাসী পেল বিনামুল্যে বিশাল সুইমিং পুল

146
SHARE

টাইটেল দেখে ঘাবড়ে গেছেন? হিংসে হচ্ছে খুব? কেন চট্টগ্রামবাসী ফ্রিতে সুইমিং পুল পেল? কেন? আর কেউ পেল না কেন? বুঝতে হবে এটা চট্টগ্রাম। এখানে অনেক কিছু এমনিতেই আসে – ফ্রি তে।

পুরো চট্টগ্রাম এখন এক আস্ত একটা সুইমিং পুল হয়ে গেছে। কোথাও হাটু পানি তো আবার কোথাও গলা সমান পানি। বাচ্চাদের মিনি সুইমিং পুলও আছে আবার অলিম্পিক সাইজেরও আছে। তবে ডুবুরীদের জন্য সুইমিং পুল এখনও তৈরী হয়নি।

২ ঘন্টার বৃষ্টি অনেক বড় ঝগড়া বিবাদ থেকে চট্টগ্রাম বাসীকে রক্ষা করল। চট্টগ্রাম আউটার স্টেডিয়ামে সুইমিং পুল করা নিয়ে কি ভেজালটাই না হয়ে গেল মেয়র সাহেব এবং প্রাক্তন মেয়র সাহেবের মধ্যে। যে কারনে ওপরওয়ালা নিজে থেকেই সেই বিবাদ থামিয়ে দিয়েছেন। এখন আর কেউ সুইমিং পুল নিয়ে অভিযোগ করতে পারবে না। তবে এই নব্য সুইমিং পুলে নামার আগে গায়ে চুলকানির ঔষধ মেখে এরপর নামতে হবে।

চট্টগ্রামের মেয়র আজম নাছির উদ্দিন সাহেবের ১ নম্বর নির্বাচনী ইস্তেহার ছিল চট্টগ্রামকে সুইমিংপুল মুক্ত করা অর্থাৎ নগরীর জলাবদ্ধতা সমস্যা দূর করা। কিন্তু সেই ইশ্তেহারের প্রতিফলন আজ পর্যন্ত দেখা গেলনা। সামান্য কয়েকঘন্টার বৃষ্টিতে এখন পুরো চট্টগ্রাম ডুবে আছে পানির নীচে। যোগাযোগ বন্ধ, চলাচল বন্ধ। অনেকের ফ্ল্যাটের নীচের তলা এখন পানিতে। এই উন্নয়নের জোয়ারে যেন ভেসেই যাচ্ছে চট্টগ্রামবাসী।

তবে একটা শহরের মানুষ কতটা নম্র ভদ্র হলে এত বিশাল একটা সমস্যাকে হাসি-তামাশার কষ্টে প্রকাশ করতে পারে আমি সেটাই চিন্তা করছি। মানুষ আসলে এতটাই হতাশ হয়ে গেছে চট্টগ্রামে যে এখন আর জলাবদ্ধতা নিয়ে সিরিয়াস কথা বলে না। হালকা ঠাট্টা দিয়ে প্রকাশ করেই চলে যায়। কারন জানে, লাভ নেই। কেউ এই সমস্যা দূর করবে না। বৃষ্টি নাকি আরো পড়বে এর মানে জলাবদ্ধতা আরও বাড়বে।

তাহলে কি এবার কিছু আন্তর্জাতিক সাতার প্রতিযোগিতার আয়োজন করা যায় চট্টগ্রামে? রাস্তাঘাটে ইতিমধ্যে নৌকাও দেখা যাচ্ছে বৈকি। একটু ঢেউ থাকলে সার্ফিংও করা যেত।

আমার মনে হয় চট্টগ্রামবাসীর হাল ছেড়ে দেয়া উচিত এবং মনে কোন ধরনের আশা রাখা উচিত না জলাবদ্ধতা দূরীকরনের ব্যাপারে। এ আশা কখনও পূরন হবার না। তবে স্বস্তি এটাই, আউটার স্টেডিয়ামে একটা সুইমিং পুল হত, এখন পুরো চট্টগ্রামই একটি সুইমিং পুল। অনেক না পাওয়ার মাঝেও কিছু একটা তো পাওয়া গেল!

হ্যাপি সুইমিং চিটাগাং!

আপনার মন্তব্য