News
Posted By MP Comrade

উত্তর কোরিয়া আদৌ কি তাদের সব পরমাণু স্থাপনা ধ্বংস করবে?


উত্তর কোরিয়া প্রেসিডেন্ট মার্কিন প্রশাসনের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যে তাদের পরমাণু অস্ত্র নিয়ন্ত্রনে সহনশীল পর্যায়ে পৌঁছেছে। উত্তর কোরিয়া প্রশাসন জানিয়েছে, তারা তাদের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পর্যায়ক্রমে ধ্বংস করছে। গত সপ্তাহে পিয়ং ইয়ং তাদের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক পরীক্ষা কেন্দ্র পুঙ্গি রি কমপ্লেক্সটি ধ্বংস করেছে দেশটি।

পারমাণবিক পরীক্ষা কেন্দ্র পুঙ্গি রি কমপ্লেক্সটি দেশটির উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় পার্বত্য এলাকায়। এই কেন্দ্র থেকেই ২০০৬ সাল থেকে অন্তত ছয়টি পারমানবিক পরীক্ষা চালিয়েছে দেশটি।তারা আগেই ঘোষণা করেছিল যে, এটিকে ভেঙ্গে ফেলার জন্য তারা প্রযুক্তিগত পদক্ষেপ নিয়েছে। উত্তর কোরিয়া এখন অনেকটাই নমনীয় হয়ে বলছে তারা পরমাণু কার্যক্রম থেকে বেরিয়ে আসার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ কিন্তু সে ব্যাপারে কিছুটা জঠিলতার সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি মতবিরোধের জের ধরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে আসন্ন বৈঠক থেকে সরে আসারও হুমকি দিয়েছে দেশটি। আর এরই মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার ব্যক্তিগত চিটিতে উত্তর কোরীয় প্রেসিডেন্ট কিম কে জানিয়ে দিয়েছেন, তারা বৈঠকের ব্যাপারে আগ্রহী নয় যদিনা উত্তর কোরিয়া তাদের সম্প্রতি দেয়া বক্তব্যগুলার বিষয়ে চিন্তাধারার পরিবর্তন না ঘটায়। কিন্তু সারা বিশ্বের কাছে প্রাথমিকভাবে পারমানবিক পরীক্ষা কেন্দ্রটি বন্ধ করা স্বাগত জানানোর মতো একটি পদক্ষেপ। তবে মনে করা হয় যে দেশটি তার পারমানবিক কর্মসূচি যথেষ্ট উন্নত করে ফেলেছে এবং কেন্দ্রটিতে এখন আর পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষার প্রয়োজন নেই। উত্তর কোরিয়া তার পারমানবিক অস্ত্র কার্যক্রম পুঙ্গি রি কমপ্লেক্স কার্যক্রমের চেয়ে অনেক দুর এগিয়ে গেছে। মূলত কেন্দ্রটিতে পারমানবিক সুবিধা রাখা হয়েছিলো পারমানবিক অস্ত্র কর্মসূচির পরীক্ষার জন্য। পর্বতের কাছে মাটির নীচে টানেল করে কেন্দ্রটি স্থাপন করা হয়েছিল এবং যাবতীয় পরীক্ষা ঐ টানেলের মধ্যেই করা হত। ধ্বংস করার পূর্বেই শোনা গিয়েছিল এর একটি অংশ আগেই ধ্বসে পড়েছে।

উত্তর কোরিয়া ইতিমধ্যেই আমন্ত্রণ জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ান ও আন্তর্জাতিক সাংবাদিকদের উক্ত পারমাণবিক কেন্দ্রটি দেখতে যে স্বচ্ছতার সাথেই তারা টানেলটি ধ্বংস করেছে। তবে অনেকেই বলছেন যে উত্তর কোরিয়ার আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়টি পরিষ্কার নয় যে তারা আদৌ বিশেষজ্ঞদের আমন্ত্রণ জানাচ্ছে কিনা। এদিকে পুঙ্গি রি কেন্দ্রটি ধ্বংস করলেও দেশটির পরমাণু স্থাপনা আদৌ অকার্যকর হচ্ছে কি না তা যাচাই করতে বেশ কয়েক বছর লেগে যাবে। পারমাণবিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা নিয়ে কাজ করা জাতিসংঘ সমর্থিত সংস্থা কমপ্রিহেন্সিভ নিউক্লিয়ার টেস্ট ব্যান ট্রিটি অর্গানাইজেশন বা সিটিবিটিও বিশেষজ্ঞরাই মূলত কেন্দ্রটি পুরোপুরি অকার্যকর হয়েছে কি না সেটি বলতে সক্ষম। এ সংস্থাটি বিশ্বব্যাপী পারমানবিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা নিয়ে কাজ করে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ না হলে উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি কয়েক বছরের মধ্যেই পুনরায় শুরু করতে পারবে। তাছাড়াও পুংরি ছাড়াও দেশটিতে আরো একাধিক পারমাণবিক স্থাপনা আছে বলে সন্দেহ করা হয়। পুঙ্গরি ধ্বংসের মাধ্যমে বোঝা যাবেনা উত্তর কোরিয়া নতুন কোন পরমাণু পরীক্ষা কেন্দ্র অন্যদিকে চালু করছে কিনা। দেশটিতে আরো পারমাণবিক কেন্দ্র চালু করার মতো অনেক পর্বত রয়েছে।

বছরের শুরুতেই কোরীয় উপত্যকায় ক্ষেপণাস্ত্র ও পরমাণু পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছিল উত্তর কোরিয়া। কিন্তু তাদের এ ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যাশা পুরোপুরি মেটাতে পারেনি, ট্রাম্প প্রশাসন চেয়েছে উত্তর কোরিয়া এমন কিছু করে দেখাক যেখান থেকে বুঝা যায় তারা সত্যিকার  অর্থেই পারমাণবিক কর্মসূচী পরিহার করেছে।


View Comments
There are currently no comments.