in

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ‘সেরা’ ৫ ম্যাচ: পর্ব ১

দেখতে চলে এল ক্রিকেটের সবচেয়ে ধ্রুপদী আসর আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপ। এবারের আসর বসবে ইংল্যান্ড এ্যান্ড ওয়েলস এ। যথারীতি এবারও তাতে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ। এই নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ষষ্ঠবারের মত ক্রিকেটের এই মর্যাদাপূর্ণ আসরে অংশ নিতে যাচ্ছে। কাপ্তান মাশরাফি বিন মর্তুজার অধীনে ইতিমধ্যেই ১৫ সদস্যের দল ঘোষিত হয়েছে। ১৬ কোটি মানুষের স্বপ্নকে বুকে নিয়ে টীম বাংলাদেশ ইংরেজ রাজ্যে পৌঁছে গেছে। লক্ষ্য এবার সেরা চার দলে জায়গা করে নেয়া।

এর আগে খেলা ৫টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ জয়ের হাসি হেসেছে ১১ টি ম্যাচে। জয় সবসময়ই আনন্দের। বাঙালি জাতি তো ক্রিকেট উন্মাদনায় বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। প্রতিটি জয়কেই তারা বিশ্ব জয়ের আনন্দের মত করে উদযাপন করে। তারপরেও কিছু জয় থাকে যা ধারে ভারে বাকি সবগুলোর চেয়ে সেরা।

বাংলাদেশের এমনই সেরা ৫ টি জয় নিয়ে আমার ধারাবাহিক আয়োজন ” বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সেরা ৫ ম্যাচ “। এরই ধারাবাহিকতায় আজ আপনাদের নিয়ে যাচ্ছি নর্দাম্পটনে।

বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তান, বিশ্বকাপ ১৯৯৯

টসে হেরে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ
২৯ শে মার্চ, ১৯৯৯। সেবারও আসর বসেছিল ইংল্যান্ডে। প্রথমবারের মত বিশ্বকাপে বাংলাদেশ। ‘বি’ গ্রুপের শেষ ম্যাচে সেদিন বাংলাদেশ মুখোমুখি হয়েছিল ওয়াসিম আকরাম, ওয়াকার ইউনিসদের পাকিস্তানের। সেবার বিশ্বকাপে পাকিস্তান হট ফেভারিট। গ্রুপ পর্বের সবকটি ম্যাচে জিতে শেষ ম্যাচে ‘নবাগত’ বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলতে নামে তারা।টসে জিতে ওয়াসিম আকরাম ব্যাটিংয়ে পাঠায় আমিনুল ইসলাম বুলবুলের দলকে। প্রতিপক্ষকে দ্রুত অলআউট করে খেলা তাড়াতাড়ি শেষ করার চিন্তা ছিল কি না কে জানে! পাকিস্তানের বোলিং এটাকও ছিল ভয় জাগানিয়া।ওয়াসিম, ওয়াকার, শোয়েব আকতার,সাকলাইন মুশতাক, আজহার মাহমুদ – ভয়ংকর সব বোলার!

দুর্দান্ত সূচনা অতঃপর সাকলাইন টনিক
তবে এই ভয়ংকর বোলিং সামলে দুর্দান্ত এক সূচনা এনে দেন ওপেনার আল শাহরিয়ার রোকন আর মেহরাব হোসেন অপি। ওয়াসিম-ওয়াকারে উইকেট না আসায় শেষ পর্যন্ত সাকলাইন এটাকে আসেন এবং এসেই জোড়া সাফল্যের মুখ দেখেন। ১৫.৪ বল সামলে যখন বাংলাদেশের ওপেনিং জুটি ভাঙে তখন বাংলাদেশের সংগ্রহ ৬৯। এরপরই ঠিক আর ১ রান যোগ করে বিদায় নেন দারুণ খেলতে থাকা আরেক ওপেনার আল শাহরিয়ার রোকন। ৩৯ রানের সুন্দর একটি ইনিংস খেলেন তিনি। দলের রান তখন ৭০/২।

আকরাম খানের বীরত্ব
এরপর শুরু আকরাম খানের ইনিংস মেরামতের পালা। সাকলাইন মুশতাককে সামলে মাঝে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের সাথে ৩৯ রানের এবং নাইমুর রহমান দুর্জয়ের সাথে ৪২ রানের দুটি জুটি গড়ে দলকে যখন ভাল সংগ্রহের দিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন ঠিক তখনি ওয়াকারের বলে ৪২ রানের ইনিংসের পরিসমাপ্তি হয়। ঐ ওভারেই বিদায় নেন দুর্জয় ও। বাংলাদেশ তখন ১৪৮/৫!

‘লিটল’ মাহমুদে সম্মানজনক সংগ্রহ
এরপর খালেদ মাহমুদ, মিনহাজুল আবেদীন নান্নু কে নিয়ে ৩৯ রানের জুটি গড়েন। ৩৪ বলে ২৭ রানের ইনিংসটি সাকলাইনের বলে কাটা পড়ার আগে, খালেদ মাহমুদ বাংলাদেশের ২০০+ স্কোর নিশ্চিত করে যান। শেষের দিকে খালেদ মাসুদের অপরাজিত ১৫ রান দলকে এনে দেয় ২২৩ রানের পুঁজি। সাকলাইন মুশতাক থামেন ৩৬ রানে ৫ উইকেট নিয়ে!

‘বিধ্বংসী’ বাংলাদেশ!
টার্গেট তাড়া করতে নেমে বৃষ্টির বাগড়ায় শুরুতেই কার্টেল ওভারের কারণে ১ ওভার হারিয়ে বসে পাকিস্তান। টার্গেট ৪৯ ওভারে ২২৪। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান যেন শুরুতেই চরম ধ্বংসযজ্ঞে পরিণত হয়। সাঈদ আনোয়ার, শহীদ আফ্রিদি, এজাজ আহমেদ, ইনজামাম উল হক এবং সেলিম মালিক- এই ৫ জনের কেউই দুই অঙ্কের ঘরের পৌঁছানোর আগেই ড্রেসিংরুমে! রুদ্র মূর্তিতে দেখা দেন ‘লিটল’ মাহমুদ, ৩ টি উইকেট নেন একাই! পাকিস্তান তখন ৪২/৫!

‘ভয় জাগানিয়া’ আজহার আলী- ওয়াসিম আকরাম জুটি

আগেই বলেছিলাম, সেবার পাকিস্তান হট ফেভারিট। এত সহজে তারা দমে যাবার পাত্র নয়। ওয়াসিম আকরাম আর আজহার আলী ঠিকই লড়াই চালাতে থাকলেন। আস্তে আস্তে ম্যাচ হাত থেকে বের করে নিচ্ছিলেন। পূর্ণ করলেন ৫০ রানের জুটিও। বাংলাদেশ তখন ব্রেকথ্রু পেতে মরিয়া!

অতঃপর জোড়া আঘাত এবং মইনের পাল্টা আক্রমণ

ওয়াসিম-আজহারের ৫৫ রানের জুটির ইতিবৃত্ত ঘটে রান আউটে! আজহার ২৯ রান করে রান আউট হওয়ার পরপরই নান্নুর স্পিনে ধরা দেন আকরাম। ৭ উইকেট যাওয়ার পর মইন খান বুঝতে পারেন পাল্টা আক্রমণ ছাড়া তার সামনে খুব বেশি পথ খোলা নেই। ১৭ বলে ১৮ রানের মারকুটে ইনিংসটি থামে নাইমুর রহমান দুর্জয়ের অফ স্পিনে। পাকিস্তান ১২৪ রানে ৮ উইকেট!

‘শেষ হইয়াও হইলনা শেষ’

১২৪ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে পাকিস্তান যখন নিশ্চিত হারের পথে, ঠিক তখনি আবার প্রতিরোধ! ওয়াকার ইউনিস আর সাকলাইন মুশতাকের ব্যাট হঠাৎই হয়ে উঠল চওড়া। গড়ে তুললেন আরেক জুটি। বাংলাদেশের নিশ্চিত বিজয় বিলম্বিত হতে লাগলো।

অতঃপর জয়!!!

ওয়াকার কে যখন কোনভাবেই আউট করা যাচ্ছিল না, তখন বোলিংয়ে আসলেন মোহাম্মদ রফিক। ৩৭ রানের জুটি ভাঙে রফিকের বলে ওয়াকারের বিদায়ে। ওয়াকার করেন ১১ রান। এর পরপরই সাকলাইন মুশতাক রান আউট হয়ে যান। থার্ড আম্পায়ার আউটের সিদ্ধান্ত দেয়ার আগেই বাংলার ঘরে ঘরে উৎসব শুরু হয়ে যায়। সাকলাইন করেন ২১ রান। পাকিস্তান অলআউট ১৬১ রানে। বাংলাদেশ জয়ী ৬২ রানে! ব্যাটিংয়য়ে ২৭ রানের পর বোলিংয়ে ৩১ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যান অফ দা ম্যাচ খালেদ মাহমুদ। ম্যাচ শেষে ওয়াসিম হারের লজ্জা ঢাকতে বলে গেলেন ” বাংলাদেশের জয়ে আমিও আনন্দিত। ওরা আমাদেরই ভাই!”

What do you think?

Written by Hira Dey

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Loading…

0

Comments

0 comments

জুকারবার্গের ‘ফেসবুক’ এবং আমাদের ‘হা হা ‘

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ‘সেরা’ ৫ ম্যাচ : পর্ব ২