in

দেহ ব্যবসা আইনত বৈধময় দেশে সমুহু ও পতিতালয়

পতিতা ছোট একটা শব্দ। এই শব্দের মধ্যে রয়েছে অনেক জ্বালা যন্ত্রনা।বিশ্বের এমন কোন রাষ্ট্র নেই যে যেখানে পতিতা নামের কোন চরিত্র নেই। প্রকাশ্যে বা অপ্রকাশ্যে তার অবস্থান। পতিতা নামটি শুনে কেউ চমৎকার আনন্দ উপভোগ করে আবার কেউ দুঃখ ভরাক্রান্ত মনে বিষাদ উপভোগ করে। এইাই মানুষের চরিত্র, একজন হাঁসলে অন্যজন কাঁদে, অন্যজন কাঁদলে আর একজন হাঁসে। একে অপরের বিপরীত।
আধুনিক বিশ্বে নগ্নতা একটা সামাজিক ব্যধি কিন্তু নগ্নতা কি এমনি এমনি হয়?কেউ একজন নগ্ন করে বলেই নগ্নতার রুপ নেই। সে ভাবেনা নগ্নতা কি?সে বোঝেনা নগ্নতার কত বেদনা? সে জানেনা যে নগ্নতাময় জীবন কেমন?

দেহ ব্যবসা এই পেশা পৃথিবীর প্রাচীনতম পেশাগুলির অন্যতম। অনেকের মতে, দেহ ব্যবসাই প্রাচীনতম আবার অনেকের মতে এটি আধুনিক সমকজের কুপ্রভাব । কিন্তু এত দীর্ঘ সময় পেরিয়েও সমাজের সবচেয়ে উপেক্ষিত শ্রেণির এই পেশা। দেহ ব্যবসা।

দেহ ব্যবসা যে এলাকায় সম্পাদন হয় সে এলাকাটি তাই ‘নিষিদ্ধপল্লি’ নামে পরিচিত ।কারণ যা-ই হোক। দেশ এই ব্যবসার উপর আইনি নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে রেখেছে, আবার বিশ্বের অনেক দেশই দেহ ব্যবসাকে আইনি স্বীকৃতি দিয়েছে। আর পাঁচটা সাধারণ পেশার মতোই এটিয়ো একটি পেশা।

এবার দেখে নেওয়া যাক,পৃথিবীর কয়টি দেশে দেহ ব্যবসা আইনভঙ্গ বা আইনের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত।

১. নিউ জিল্যান্ড: নিউ জিল্যান্ডে ২০০৩ সালে দেহ ব্যবসাকে আইনি বৈধতা দেওয়া হয়। সে দেশে লাইসেন্সপ্রাপ্ত যৌনকর্মীরা সরকারি স্বাস্থ্য ও শ্রম আইনের আওতায় পড়েন। তাঁরা সবরকম সরকারি সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন।

২.জার্মানি: জার্মানিতে ১৯২৭ সাল থেকে দেহ ব্যবসা আইনত স্বীকৃত। এবং সে দেশে যৌনপল্লি চালানোর জন্য আলাদা করে স্টেটও রয়েছে। জার্মানিতে দেহ ব্যবসায়ীদের স্বাস্থ্য বিমা আবশ্যিক। তাঁদের কর দিতে হয়। তাদের জন্য রয়েছে আলাদা আর্থিক নিরাপত্তা। এমনকি অবসরপ্রাপ্ত দেহ ব্যবসায়ীদের পেনশনও রয়েছে!

৩. অস্ট্রেলিয়া: প্রতিবেশী দেশ নিউজিল্যান্ডের মতো অস্ট্রেলিয়ার একটা বড় অংশেও দেহ ব্যবসা সম্পূর্ণ আইনস্বীকৃত।

৪. ব্রাজিল: লাতিন আমেরিকার এই দেশটিতেও দীর্ঘ দিন আগে থেকেই দেহ ব্যবসা আইনত স্বীকৃত আছে।

৫.অস্ট্রিয়া: পৃথিবীর প্রাচীতনতম এই আধুনিক রাষ্ট্রে দেহ ব্যবসা আইনত সম্পূর্ণ বৈধ। অস্ট্রিয়ায় কেউ দেহ ব্যবসা শুরু করতে চাইলে তাঁকে অবশ্যই বেশ কিছু সরকারি স্বাস্থ্য পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে যেতে হবে। সেই সব পরীক্ষায় পাশ করলে, তবেই মিলবে ব্যবসার ছাড়পত্র। তবে অস্ট্রেলিয়ায় দেহ ব্যবসায়ের জন্য বয়সকে পাধান্য দেওয়া হয়। অস্ট্রেলিয়ায় দেহ ব্যবসায়ের জন্য সর্বনিম্ম বয়স ১৯ হওয়া বঞ্চনীয়।

৬.ফ্রান্স: ফ্রান্সেও দেহ ব্যবসা সম্পূর্ণ আইনি।১৯৪৬-এ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরেই সে দেশে যৌন ব্যবসা সরকারি ভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। পরে অবশ্য সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়।

৭.বেলজিয়াম: দেহ ব্যবসাকে শুধু আইনি করাই নয়, দেহ ব্যবসায়ীদের সম্পূর্ণ নিরাপত্তা দিতেও সরকারি ব্যবস্থা রয়েছে। যৌনপল্লির সব বাড়িতে অন্যান্য অফিসের মতোই রয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা।

৮.কানাডা: কানাডায় যৌনকর্মীদের অবস্থা আপাত বিপজ্জনক। সে দেশে দেহ ব্যবসা আইনত বৈধ। কিন্তু দেহ ব্যবসা ঘিরে সে দেশে একটা বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে।

৯.বাংলাদেশ: অনেকেরই ধারণা বাংলাদেশের মতো তথাকথিত রক্ষণশীল দেশে দেহ ব্যবসা! ‘তওবা তওবা’ বলে কানে আঙুল দেওয়ার মতো একটা বিষয়! কিন্তু অবাক করা তথ্যটি হল, বাংলাদেশে দেহ ব্যবসা আইনত স্বীকৃত!

১০.কলম্বিয়া: কলম্বিয়ায় দেহ ব্যবসা দীর্ঘ দিন ধরেই আইনত বৈধ। সে দেশে যৌনকর্মীদের নিরাপত্তার জন্য কড়া আইনও রয়েছে।

১১.ডেনমার্ক: দেহ ব্যবসা এই দেশেও আইনি। এমনকি যে সব দেহ ব্যবসায়ীরা আর্থিক দিক থেকে পিছিয়ে তাঁদের আর্থিক সাহায্যও করে ডেনমার্ক সরকার।

১২.ইকুয়েডর: অবাধ যৌনতার দেশ ইকুয়েডর। যৌনতা সম্পর্কিত সব কিছুই সে দেশে আইনি। যে কেউ ইকুয়েডরে দেহ ব্যবসা করতে পারেন, কিন্তু এর জেরে ধরে ইকুয়েডরে জোর করে দেহ ব্যবসায় নামানোর সমস্যাও প্রবল।

১৩.গ্রিস: দেহ ব্যবসায় গ্রিসও জার্মান সরকারের মতোই। সেদেশেও যৌনকর্মীরা শ্রম আইনের আওতায় পড়েন। অবসরের পর পেনশনের সুবিধেও রয়েছে।

১৪.নেদারল্যান্ডস: দেহ ব্যবসা নেদারল্যান্ডসে খুবই জনপ্রিয়। আইনত স্বীকৃত তো বটেই। যৌনতা নিয়ে নেদারল্যান্ডসে কোনও সামাজিক বাধা নেই।

১৫. ইন্দোনেশিয়া: ইন্দোনেশিয়ায় দেহ ব্যবসা শুধু আইনত স্বীকৃত-ই নয়; সেক্স ট্যুরিজম সে দেশের সরকারের অন্যতম রাজস্ব আয়ের উপায়। তবে অবাধ যৌনতার জেরে ইন্দোনেশিয়ায় জোর করে দেহ ব্যবসায় নামানো হয়। এবয় নাবালিকাদের উপর অত্যাচার ক্রমেই বাড়ে চলছে।

বাংলাদেশ একটি মুসলিম রাষ্ট্র । এদেশে যখন দেহ ব্যবসা আইনত স্বীকৃত।

দৌলতদিয়া পতিতালয় রাজবাড়ীঃ
রাজবাড়ী জেলার দৌলতদিয়া পতিতালয় বাংলাদেশ তথা বিশ্বের সবচেয়ে বড় পতিতালয়ের একটি। এখানে ছোট বড় অনেক পতিতা কর্মী রয়েছে। দৌলতদিয়া ‘মহিলা মুক্তি সমিতি’ নামক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পতিতা কর্মীরা লাইসেন্স প্রাপ্ত হন।এই পতিতালয়ের আনুমানিক পতিতা কর্মীর সংখ্যা ৬-৮ হাজার জন। এতজন পতিতা কর্মীকে দেখাশোনা করেন ২০০-২৫০ সর্দারনী। প্রতিটি সর্দারনীর মাসিক সর্বনিম্ম আয় প্রায় ২৫-৩০ হাজার টাকা। এই পতিতালয়টি বর্তমানে দৌলতদিয়া লঞ্চঘাটের পাশে অবস্থিত।

রথখোলা পতিতালয় ফরিদপুরঃ
ফরিদপুর জেলা শহরে এ পতিতালয়ের অবস্থান। ফরিদপুর শহরে দুইটা পতিতালয় রয়েছে । ডিক্রিরচর ইউনিয়নের সিএন্ডবি ঘাট এলাকায় এই পতিতালয়ের অবস্থান। এককথায় সিএন্ডবি ঘাট নামে পরিচিত এই পতিতালয়। এখানে প্রায় ৪-৫ হাজার পতিতা রয়েছে।

What do you think?

Written by Md.Biplab Hossain

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Loading…

0

Comments

0 comments

নতুন বাংলাদেশ

তোমরা যারা আমার ছোট