in ,

মহজগতের ব্যাখ্যাহীন কিছু রহস্য

গত কয়েক বছরে মহাকাশে আশ্চর্য কিছু আবিষ্কার হয়েছে। যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে মহাকর্ষীয় তরঙ্গ বা মঙ্গলগ্রহে তরল পানির সন্ধান। এখানে কয়েকটি রহস্যের কথা তুলে ধরা হয়েছে, বিজ্ঞানীরা যার কোন কুল কিনারা করতে পারেনি।
পৃথিবীতে কিভাবে প্রাণের শুরু হয়: আমরা যে পৃথিবীতে বসবাস করি, সেখানে প্রাণের শুরু কিভাবে তা এখনো পরিষ্কার নয় বিজ্ঞানীদের কাছে। এর কোন বিজ্ঞান ভিত্তিক জবাব নেই। এ যেন সর্বকালের এক অজানা প্রশ্ন হিসেবে রয়ে গেছে। অনেক বিজ্ঞানীর মতে পৃথিবীতে প্রাণ পৌঁছেছে গ্রহাণু বা ধূমকেতুর মাধ্যমে। কারণ মহাজাগতির বস্তুতে অর্গানিক উপাদান পাওয়া যায়। আবার অনেকে বলেন, মঙ্গলে একটি অংশ কোন এক সময় পৃথিবীতে অবতরণ করে প্রাণের শুরু ঘটায়। আবার অবেকে তত্ত্ব দেয়, সাধারণ মলিকিউল রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে আরো জটিল মলিকিউল সৃষ্টি করেছে। আরএনএ-এর মত যৌগ গঠন করেছে এসব মলিকিউল। এটা প্রাণ সৃষ্টির অন্যতম উপাদান।
আমরা মহাজগতের যা দেখতে পাই: আমরা মহাজগতের যতটুকু দেখতে পেরেছি তা হচ্ছে মাত্র ৫ শতাংশ। বাকি ৯৫ শতাংশে রয়েছে ডার্ক ম্যাটার এবং ডার্ক এনার্জি। বিজ্ঞানীদের মতে ডার্ক এনার্জি এক রহস্যময় শক্তি। যা মহজগতের আকার বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করে চলছে। ডার্ক ম্যাটার অদৃশ্য বস্তা যা গ্যালাক্সির উপাদানের সমষ্টি। আমরা মহাজগতের যা দেখতে পাই তা খুব সামান্য, গোটা মহাজগতের ৫ শতাংশ আমরা দেখতে পাই বাকি ৯৫ শতাংশ ডার্ক ম্যাটার।
কোথা থেকে আসে উচ্চশক্তির কসমিক রশ্মি: প্রতিনিয়ত কসমিক রশ্মি পৃথিবীকে আঘাত করে চলছে, মহাজগতের বিভিন্ন স্থান থেকে এই আঘাত করে থাকে। এতে রয়েছে উচ্চগতির উপাদান, যা মহাকাশ থেকে উড়ে আসে এবং অনেক সময় পৃথিবীতে এসে পরে। সূর্য থেকে কসমিক শক্তির রশ্মি আসে কিন্তু সেইটার শক্তি কম থাকে। সোলার উইন্ডের মাধ্যমে চার্জড উপাদান উড়ে আসে পৃথিবীতে। উচ্চশক্তির কসমিক রশ্মি চৌম্বকক্ষেত্র সৃষ্টি করে।
মঙ্গলে প্রাণের অস্তিত্ব: বিজ্ঞানীদের ব্যাপক আগ্রহ মঙ্গলে প্রাণের অস্তিত্ব নিয়ে। সেখানে হইতো বা কখনো প্রাণ ছিল হইতো এখনো আছে। সেখানে তরল পানির প্রমাণ মিলেছে। তাহলে কি এ গ্রহে কোন একসময় প্রাণের অস্তিত্ব ছিল? বিজ্ঞানীরা মঙ্গলে মানুষ পাঠানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে।
কেন অ্যান্টিম্যাটারের চেয়ে ম্যাটারের সংখ্যা বেশি?: বস্তুর অংশ এবং প্রতিবস্তুর অংশ যদি পরস্পরের সঙ্গে সংঘর্ষ করে, তবে একে অপরকে বিনাশের চেষ্টা করে। যদি ম্যাটার এবং অ্যান্টিম্যাটারের পরিমাণ সমান হতো তাহলে হইতো বা বিশ্বজগতের কিছুই থাকতো না। বিগ ব্যাংয়ের সমান সংখ্যাক বস্তু এবং প্রতিবস্তু তৈরি করা উচিত ছিল। এর মানে হলো, তখন আমরা বস্তুকণাশুণ্য পৃথিবীতে বাস করতাম। তত্ত্ব যতই থাক না কেন পদার্থবিদদের অন্যতম চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, অ্যান্টিম্যাটারের কি ঘটে তা খুঁজে বের করা, অথবা আমরা কেবল বস্তু দেখি কেন এসব খুঁজে বের করা।
কিভাবে ইতি ঘটতে পারে মহাজগতের?: বিজ্ঞানীদের মতে ৬ বিলিয়ন বছরের মধ্যে সূর্যের কারণে বাষ্পীভূত হয়ে যাবে। মহজগতের বাকি অংশের কী ঘটতে পারে তাহলে? এটা নিয়েও রয়েছে কিছু তত্ত্ব। তাপমাত্রা জনিত কারণে মহাজগতের সবকিছু ধ্বংস হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে প্রবল। মহাজগত যখন একই তাপমাত্রায় আসবে, তখন গ্রহ নক্ষত্র ইত্যাদি ক্ষয়ে যেতে পারে। আবার অনেকে মনে করেন বিগ ব্যাং থিওরির বিপরীতটা ঘটে যেতে পারে। যদি ব্রক্ষ্মণ্ড বাড়তে থাকে, তাহলে মধ্যাকর্ষণ শক্তি চলে যেতে পরে অতিমাত্রায়, ফলে এই শক্তির কারণেই সবকিছুর মধ্যে সংঘর্ষ সৃষ্টি হয়ে যেতে পারে। এতে সবকিছু একসময় বিলুপ্ত হয়ে যাবে।

আজ আমরা যা জানি তা আমাদের কাছে ঠিক এবং নির্ভুল মনে হচ্ছে, কিন্তু আমাদের জ্ঞান আরেকটু সমৃদ্ধি হলে হইতো আমাদের এই জানা গুলো ভুল মনে হইতে পারে। কারণ এই মহজগতের অসীম জ্ঞান সমুদ্রের তুলনায় আমরা যে অনেকটা মূর্খ।

What do you think?

Written by Md Meheraj

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Loading…

0

Comments

0 comments

পৃথিবীর ক্ষুদ্র দেসগুলি

রহস্যময় মরুভূমি