in

বাংলাদেশের রহস্যময় কিছু স্থান

বাংলাদেশের রহস্যময় কিছু স্থান। ৫৬হাজার বর্গমাইলের এই বাংলাদেশে রয়েছে অসংখ্যা সহস্যময় জায়গা। যার কোন কোনটি সম্পর্কে মানুষ অবগত থাকলেও, বেশির ভাগ সম্পর্কে জানেনা। আজকে বাংলাদেশের কিছু রহস্যময় জায়গা নিয়ে আলোচনা করব, যেগুলো হইতো আপনি এর আগে জানতেন না।
বরিশাল গান্স/ গান্স অব বরশালঃ বরিশাল গান্স বলতে সাধারণত উনবিংশ শতাব্দীর তৎকালীন বরিশালের পূর্ব্বঙ্গের বিস্তৃর্ন এলাকা জুরে যে বিকট শব্দ শুনা যেত তাদেরকে বুঝায়। বিকট এই শব্দের সাথে ঢেউয়ের শব্দের চেয়ে কামানের গোলাদাগার শব্দের মিল ছিল বলে জানা যায়। কখনো কখনো এটা একটা দুইটা তিনিটা শব্দ পর্যন্ত একসাথে শুনা যেত। দক্ষিন এবং দক্ষিন পুর্বাঞ্চল থেকে বেশি শুনা যেত। অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শব্দ গুলো বেশি শুনা যেত। প্রথমে ব্রিটিশরা মনে করত এই শব্দ গুলো ব্রিটিশদের কামান দাগার। কিন্তু কোন অনুসন্ধান করেও এর কোন সত্যতা খুঁজে পাওয়া যায়নি। বরিশাল গান্স কিভাবে সৃষ্টি হয়েছিল সে সম্পর্কে বেশ কয়েকটি অনুমিত ধারণা রয়েছে। তবে এদের পয়েনটি সঠিকভাবে প্রমাণিত হয়নি। অনেকে এটাকে ভুমিকম্প, বজ্রপাত, মোহনায়, ভয়ংকর ঢেউয়ের ধাক্কা প্রবৃতির সাথে তুলোনা করেছেন। বরিশালের মত পৃথিবীর আরো কিছু এলাকায় এ ধরনের শব্দ শুনা গেছে বলে জানা যায়। বিভিন্ন নথিপত্র ঘেটে দেখা যায় ১৮৭০ সালের দিকে প্রথম বরিশাল গান্সের কথা জানা যায়। ১৮৮৬ সালে কলকাতার এশিয়াটিক সোসাইটির হিসাব অনুযায়ি খুলনা, বরিশাল, নোয়খালী, নারায়ণগনঞ্জ প্রবৃত্তির অবস্থান থেকে এই শব্দ শুনা যায়। অনেকের মতে ১৯৫০ সালের পর থেকে এ শব্দ আর কেউ কখনো শুনেনি।
চিকনকালা বা নিপিউপাড়াঃ মিয়ানমার সীমান্ত ঘেঁষা বাংলাদেশের অন্যতম উঁচু আর সবচেয়ে দূর্গম গ্রাম গুলোর একটি চিকনকালা। চিকনকালা গ্রামের বসতিদের অধিকাংশ অধিবাসী, মোরং সম্প্রদায়ের। তবে এরা কিন্তু খুব চমৎকার উপভোগ্য মানুষ। কখনো যদি আপনি ঐ এলাকায় ঘুরতে যান আপনার মনে হতে পারে এ অঞ্চলটি একধমই যেন পৃথিবীর বাহিরে। মোরং সম্প্রদায়ের গ্রামটির অবস্থান ঠিক বাংলাদেশ বারমা নো ম্যানস ল্যান্ডে। এটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩৭০০ ফুট উপরে অবস্থিত। গ্রামের লোকদের মতে এই বনে অতৃপ্ত অপদেবতা বাস করে। প্রতিবছরে হঠাৎ একদিন কোন জানান না দিয়ে বনের ভেতর থেকে অদ্ভুত এক ধুব ধাব আওয়াজ আসে আর আওয়াজটি শুনলে গ্রামের শিশু থেকে বৃদ্ধ সবাই আতঙ্কে ঝমে যান। তারা তখন মনে করেন পিশাচের ঘুম ভেঙ্গেছে। এই আওয়াজ সে করছে। বনের ভিতরে থাকা কাঠুরে বা শিকারীর দল তখন উর্ধ শ্বাসে নিজের জীবন হাতে নিয়ে বন থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেন। কিন্তু প্রতি বছরে তাদের এক বা দুজন পেছনে থেকে যায়। তারা নাকি আর কোন দিন গ্রামে ফিরে আসেন না। বেশ কয়েকদিন পর হইতো জঙ্গল থেকে তাদের মৃতদেহ আবিষ্কার হয়। সারাদেহে কোন আঘাতের চিহ্ন নেই। কিন্তু কি দেখে ভয় পেয়েছে কিংবা কিভাবে কোন ক্ষত চিহ্ন ছাড়া মারা গেছে এ রহস্যের উদঘাটন আজ পর্যন্ত হয়নি।
লালবাগ কেল্লার সুরঙ্গঃ বাংলাদেশের মানুষের কাছে লালবাগ কেল্লা খুবই পরিচিত। শুনা যায় লালবাগ কেল্লায় নাকি এমন একটি সুরঙ্গ আছে যার ভেতরে কেউ প্রবেশ করে আর ফিরে আসতে পারেনি। লালবাগ কেল্লার নিচ দিয়ে অনেক গুলো সুড়ঙ্গ আছে যেগুলো জমিদার আমলে করা। জমিদাররা বিপদ দেখলে সেসব পথে পালিয়ে যেতেন। তেমনি একটা সুড়ঙ্গ আছে যার ভেতর কেউ ঢুকলে তাকে আর ফিরে পাওয়া যায় না। পরীক্ষা করার জন্য একবার দুইটা কুকুরকে চেইনে বেঁধে সেই সুড়ঙ্গে নামানো হয়েছিল। চেইন ফেরত আসে কিন্তু কুকুর দুটো ফেরত আসেনি। সুড়ঙ্গটি মোগল আমলে বানানো হয়, তখন এটি যেমনটা দেখা যায় তেমনটা ছিল না। শুনা যায় কিছু বিদেশি বিজ্ঞানীরা গবেষণা করার জন্য কুকুর পাঠায় কিন্তু সে কুকুর আর ফিরে আসেনি। পরে তারা চিন্তা করে শিকল দিয়ে কুকুর বেঁধে পাঠায়, কিন্তু সেখানে কুকুরের শিকল আসলেও কুকুর আসেনি। কারো কারো মতে এখানে এমন এক গ্যাস আছে যাতে প্রাণীর মাংষ খসে পরে যায়। কারো মতে এখানে এমন এক ভয়ংকর শক্তি আছে, যার কারণে কেউ প্রবেশ করলে আর ফিরে আসবে না। এখানে এতটায় অন্ধকার যে, এখানে লাইট বা কোন আলোয় কাজে আসে না। এখন এটা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কেউ যদি কেল্লায় যান তবে পাহাড়ের উপরে উঠলে দেখতে পাবেন।

What do you think?

Written by Md Meheraj

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Loading…

0

Comments

0 comments

বাংলাদেশে ক্রিকেট

পৃথিবীতে যে সমুদ্র সৈকতগুলো প্রথম স্থানে রয়েছে