in ,

ব্যর্থতাই সফলতার চাবিকাঠি

জীবনে আমরা সবাই সফল হতে চাই। আমরা কঠোর পরিশ্রম করি শুধুমাত্র সফল হওয়ার জন্য। সফলতা পাওয়ার জন্য আমরা অনেক সময় রাতদিন এক করে দেই।
সফলতা শব্দটি বলতে অনেক সহজ, কিন্তু এই সফলতা অর্জন করা অনেক কঠিন। তারপরও আমরা সফলতার পিছনে ছুটে বেড়াই। কিন্তু এই সফলতা অর্জন করতে হলে, আপনাকে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। আপনি যতটুকু সফলতা চাচ্ছেন আপনাকে ততটুকু শ্রম ও সময় দেওয়ার ইচ্ছা থাকতে হবে। আপনার মধ্যে সকল বাধা জয় করে সফল হওয়ার জন্য সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার আত্মবিশ্বাস থাকতে হবে। সকল প্রকার সমালোচনা এড়িয়ে, ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে কাজ করতে হবে। আমাদের মধ্যে অনেককেই দেখা যায়, ভাল কিছু করার ইচ্ছা নিয়ে কাজ শুরু করি কিন্তু অল্প কিছুদিন চেষ্টা করার পরেই ভাবতে শুরু করি আমি ব্যর্থ, আমাকে দিয়ে হবে না, আর আমরা কাজ করা বন্ধ করে দেই। আর আমরা ভুলটা করি প্রথমে এখানেই। সত্যি কারের ব্যর্থ আমরা তখনই, যখন আমরা নিজেদের ব্যর্থ ভেবে কাজ করা বন্ধ করে দেই। এবং ভাবতে শুরু করি এই কাজটি আমার জন্য নয়। আসলেই ঐ কাজটি আমাদের জন্য নয়, কারন ঐ কাজটিতে সফল হওয়ার প্রথম সূত্রটিই আমরা মানতে পারি নি। প্রথম সূত্রটি হচ্ছে ব্যর্থতাকে মেনে নিয়ে, হতাশাকে জয় করে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া।

আমরা যদি একজন সফল ব্যক্তি আর ব্যর্থ ব্যক্তির মধ্যে পার্থক্য করে দেখি, তাহলে দেখা যাবে একজন সফল ব্যক্তি একজন ব্যর্থ ব্যক্তি থেকে বেশিবার ব্যর্থ হয়েছে। কিন্তু সফল ব্যক্তিরা দেখবেন যে, তারা কোন কাজে ব্যর্থ হয়ে, হতাশায় ভুগে, তাদের লক্ষ্য থেকে সড়ে যায়নি। সফল ব্যক্তিরা ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে তাদের লক্ষ্যের দিকে ছুটে যায় তাদের আপন গতিতে। সফল ব্যক্তিদের কাছে ব্যর্থতা কখন ব্যর্থতা নয়, কারন ব্যর্থতাই হচ্ছে সফল হওয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

আপনি যে কাজই করুন না কেন, আপনি সেইখানে সফল হবেন কিনা তা নির্ভর করে, সেই কাজে সফল হওয়ার জন্য আপনি কতটা ত্যাগ শিকার করতে প্রস্তুত। আপনাকে মরিয়া হয়ে লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যেতে হবে আর ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে ছুটে যেতে হবে সফলদের কাতারে।

কোন কাজ করার শুরুটা হয় ইচ্ছা থেকেই। যেনতেন ইচ্ছা নয়, থাকতে হবে বড় কিছু করার তীব্র ইচ্ছা।

আপনার ইচ্ছাটাকে পরিণীত করে নিতে হবে একটি সিদ্ধান্তে। আপনার একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্তই পরবর্তী ধাপ গুলো অনুসরণ করার মাধ্যমে, আপনাকে পৌছে দিবে সফলদের কাতারে।

সিদ্ধান্তটাকে পরিণীত করে নিতে হবে আপনাকে একটি সুনিদিস্ট লক্ষ্যে। আপনি যদি চিন্তা করেন আপনি অনেক টাকা আয় করবেন তাহলে আপনি লক্ষ্যে পৌছাতে পারবেন না। কিন্তু আপনি যদি চিন্তা করেন যে আগামী এত বছরে আমি এত টাকা আয় করবো, তাহলে আপনি আপার লক্ষ্যে পৌছাতে পারবেন। সফল হওয়ার জন্য অবশ্যই সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকতে হবে। আপনার লক্ষ্যটা বাস্তবসম্মত হতে হবে। লক্ষ্য ঠিক করার আগে আপনাকে আপনার বর্তমান অবস্থার কথা চিন্তা করতে হবে। এবং আপনি কতটা সময় পাচ্ছেন আপনি আপনার লক্ষ্যে পৌছাতে।

এরপর আপনাকে সংঘটিত পরিকল্পনা করতে হবে। সংঘটিত পরিকল্পনা ছাড়া আপনি আপনার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে কখন পৌঁছাতে পারবেন না। লক্ষ্য ঠিক করার পরের ধাপই হচ্ছে ভাল একটা পরিকল্পনা তৈরি করা।

সফল হতে হলে আপনাকে অবশ্যই আপনার মন মানসিকতার উন্নয়ন করতে হবে। আপনাকে গড়ে তুলতে হবে একটি ইতিবাচক মন মানসিকতা। আর আপনার মন মানসিকতা উন্নয়নে কাজ করে যেতে হবে।

আপনার দিনের একটা অংশ অবশ্যই আপনার লক্ষ্য নিয়ে ভাবতে হবে। আপনার মনকে সবসময় ব্যস্ত রাখতে হবে, আপানর লক্ষ্য ও পরিকল্পনা নিয়ে। মন থেকে নেতিবাচক চিন্তা গুলো দূরে সরিয়ে ফেলতে হবে। আর এটা সম্ভব হবে তখনই, যখন আপনি আপনার মনকে ইতিবাচক চিন্তায় ব্যস্ত রাখবেন।
আজকের কাজ আগামীকালের জন্য বা ভবিষ্যতের জন্য কখন ফেলে রাখবেন না।

ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে, ছোট ছোট সফলতা থেকে অনুপ্রেনা নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।

What do you think?

Written by MD BILLAL HOSSAIN

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Loading…

0

Comments

0 comments

ভক্ষক যখন রক্ষক !

আমাদের বাড়ী চিড়িয়াখানায় ঃ প্রানী বীশেষজ্ঞ ডক্টর রেজা খান