in

আমেরিকা বিশ্বের পরাশক্তি হিসেবে হয়ে উঠার ইতিহাস

বর্তমান বিশ্ব অর্থনীতি ও রাজনীতির অন্যতম নিয়ন্ত্রক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা আমেরিকা কিভাবে বিশ্বের পরাশক্তি হয়ে উঠলো তা জানবো আজকে।
আমেরিকা কিভাবে পরাশক্তি হয়ে উঠলো তা জানতে হলে ফিরে দেখতে হবে আমেরিকা প্রতিষ্ঠার ইতিহাস। ১৭৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর, পরাশক্তি হিসেবে আর্বিভূত হওয়ার ইচ্ছে আমেরিকার ছিল না। উত্তর আমেরিকার বাহিরে সাম্রাজ্য বিস্তার করার ব্যাপারেও তারা সন্দিহান ছিল। তাদের আশংকা ছিল যুক্তরাষ্ট্র যদি উত্তর আমেরিকার বাহিরে রাজ্য বিস্তার করে তাহলে তথাকথিত নিচু জাতের লোকজন আমেরিকায় ঢুকে পড়বে।
আমেরিকার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়তে থাকে ১৮ শতকের শেষ দিকে। ১৮৯৮ সালে আমেরিকা কিউবার দখল নিয়ে স্পেনের সাথে যুদ্ধ শুরু করে। বর্হিবিশ্বে আমেরিকার প্রভাব বিস্তার করতে তৎকালীন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম মেকেনলি স্পেনের সাথে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে থাকে। এই যুদ্ধে আমেরিকা, কিউবা, গুয়াম, পুয়ের্তো রিকো, ফিলিপাইন স্পেনের কাছ থেকে দখল করে নেই। পরবর্তী দুই বছরে আমেরিকা হাওয়াই, ওয়েক, আমেরিকান সামোয়া দ্বীপ দখল করে। এর পরবর্তী বছর গুলোতে আমেরিকা পানামা খালের নিয়ন্ত্রন নিয়ে নেই। এই কম সময়ে এতগুলো দূরবর্তী ভূখন্ডের দখল আমেরিকাকে পৃথিবীর মানচিত্রে এক পরাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। আমেরিকার সামরিক ও বাণিজ্যিক স্বাস্থ্য রক্ষায় বর্হিবিশ্বে প্রভাব বিস্তারের অংশ হিসেবে নিকারাগুয়া, পানামা ও চিলিতে আমেরিকা এক ধরনের পুতুল সরকার ক্ষমতায় বসায়। বর্হিবিশ্বে আমেরিকার জোরালো প্রভাব লক্ষ করা যায় প্রথম বিশ্ব যুদ্ধে। আমেরিকার অংশগ্রহন প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ফলাফলে ভূমিকা রাখে।
প্যারিস শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে প্রথম বিশ্ব যুদ্ধের অবশানেও আমেরিকার প্রধান ভূমিকা ছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিশ্ব যখন ইউরোপ জুড়ে হিটলারের আগ্রাশন দেখছিল আমেরিকা তখনো পর্যন্ত যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেনি। কিন্তু বিশ্বব্যাপি ক্রমবর্ধমান প্রভাব আমেরিকাকে যুদ্ধে জড়িয়ে পরতে বাধ্য করে। জাপানে আক্রমন করলে আমেরিকা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যোগ দেয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ আমেরিকার জন্য এক ধরনের আশির্বাদ হয়ে আসে। এই বিশ্বযুদ্ধ বিশ্বব্যাপি আমেরিকার অবস্থান চিরদিনের মত বদলে দেয়। এই যুদ্ধের পরে ব্রিটেন ও ফ্রান্সের মত পরশক্তি গুলো অর্থনৈতিক ভাবে পঙ্গু হয়ে যায়। কারণ একে একে তাদের উপরিবেশ গুলো স্বাধিন হয়ে যেতে থাকে। তৎকালীন সময়ে একমাত্র পারমানবিক শক্তিদর আমেরিকা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী অর্থনৈতিক বিপর্যয় থেকে রক্ষা পায়।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী সময়ে আমেরিকা এতটায় শক্তিশালী অবস্থায় ছিল যে, সংঘাত এড়াতে শান্তি চুক্তির শর্ত আমেরিকা একাই নির্ধারণ করে। তার এ সুযোগে সর্বোচ্ছ সৎ ব্যবহার করে। আর এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ হলো জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠা। জাতিসংঘ সনদে তারা এমন কাঠামো তৈরি করে, যাতে জাপানের মত যুদ্ধ নিষিদ্ধ করা হয় এবং এমন একটি ফোরাম গঠন করা হয়, যেখানে দেশগুলো আলাপ আলোচনার মাধ্যমে পারস্পারিক বিরোধ নিষ্পত্তি করতে পারে।
১৯৪৪ সালে আমেরিকার একটি কেন্দ্রে ৪৪টি দেশের প্রতিনিধিরা মিলিত হয়। তাদের উদ্যেশ্য ছিল এমন একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা যেন পরবর্তী যুদ্ধ প্রতিরোধ করতে পারে। দেশগুলোর প্রতিনিধিরা একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করে যা ব্রিটন উডস চুক্তি নামে পরিচিত। এই চুক্তি বিশ্ব অর্থনীতির মেরুদন্ডে পরিণত হয়। ব্রিটন উডস চুক্তির ফসল হিসেবে বিশ্ব ব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল প্রতিষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই আন্তর্জাতিক সংস্থা গুলো বিশ্বব্যাপি আমেরিকার প্রভাব তৈরিতে প্রধান ভূমিকা পালন করে। ব্রিটন উডস চুক্তির মাধ্যমে স্বর্ণকে পাশ কাটিয়ে মার্কিন ডলারকে রিজার্ভ কারেন্সি হিসেবে গ্রহণ করা হয়। তৎকালীন বিশ্বের আরেক পরাশক্তি ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আমেরিকার মিত্র সোভিয়েত ইউনিয়ন পরবর্তী সময়ে পূর্ব ইউরোপে প্রভাব বিস্তার করতে থাকে। সমাজতন্ত্রের বিস্তার ও সোভিয়েত ইউনিয়েনকে ঠেকাতে আমেরিকা ও পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলো একটি দল গঠন করে। এরপর আমেরিকা আর সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে শুরু হয় যুদ্ধ। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে গেলে যুদ্ধের অবশান হয় এবং বিশ্বের একক পরাশক্তি হিসেবে আমেরিকার অবস্থান সুদৃঢ় হয়।

What do you think?

Written by Md Meheraj

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Loading…

0

Comments

0 comments

ভারতের সেরা স্থাপত্য

এক লক্ষ বছরের পুরানো পেইন্ট মিক্সিং খেলনা পাওয়া গেছে